কাজের চাপ, বিরক্তি , অবসাদ আর একঘেঁয়েমির কারণে ব্লগে আসাও হয় না। পোস্ট তো দূরের কথা। বিরক্ত হওয়া এবং অবসাদগ্রস্ত হওয়ার এই অসাধারণ গুণগুলোর কারণেই বোধকরি মানুষ সৃষ্টিশীল প্রাণী।
মনের আলস্য , অবসাদ কাটানোর জন্য সব সময় কিছু না কিছু করে যাচ্ছে। নতুন কিছু। এক
ব্লগীয় বন্ধু বলল ,অনেক ছাই-পাশ তো লিখেছিস, এবার সিরিয়াস কিছু লিখ। সিরিয়াস কথাটা শুনলেই আমার মনে হয় খাতা-কলম নিয়ে বসে ভাবতে হবে। তারপর লিখতে হবে। সিরিয়াস শব্দটাই আমাকে কাতুকুতু দেয়।
শব্দটার সাথে মনের জানালায় উঁকি দেয় অনেক অপুষ্ট প্রেমের ডলা পালা। ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়াম এর অভাবে যেগুলো অকালেই ঝরে গেছে। রাস্তার মোড়ে, চায়ের দোকানে, জুনিয়রদের ক্লাস রুমে বক্তৃতায় চোরা চাউনিতে, নিজের হামবড়া ভাবে কত বার মনে হয় যা শালা আর একটু সিরিয়াস হলেই হয়ে যেত।
সিরিয়াসলি যেটাকে নেওয়া হয় কয় বছর বাদে মনে হয় , কি অর্বাচীন বালকই না ছিলাম। সিরিয়াস শব্দটাকে তাই খুব সিরিয়াসলি হালকা ভাবে নেওয়া শুরু করেছি। মজার ব্যাপার তড়িৎ ফল পাওয়া যায়। সিরিয়াস বিষয়কে খুব সিরিয়াসলি হালকা ভাবে নিলে, খুব উপভোগ করা যায়।
এখন উপভোগ শুনে যাদের ভোগবাদী কল্পচ্ছবিতে লেটকানো মহারাজের অঙ্গুরীয় সেবন জাতীয় ফ্রেইম গাদাগাদি করে আসা শুরু করেছে, তাদের বলি, হর্াডব্রেক।
এখানে এসব চলবে না। তার উপর চারিদিকে রব উঠেছে ঠেকাও ভোগর্বাতা সম্বলিত ভোজ্যপোস্ট। তথাস্তু নারায়ণ। ঈশ্বরের চরণে ভোগ দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ, তাতে ঈশ্বর খুশি হলে পরকালে মেনকার বাহুডোরে র্উবশীর নৃত্য দেখা যাবে (এটাকে দ্্বিপদীরা আবার পলিমার গোত্রে ফেলোনা, পরকালে পলিমার, মনোমার বলে কিছু নেই , সব আমার) । একবার ভিজুয়ালাইজ করে , দেখলাম ভোগ দেওয়া মাত্র ঈশ্বর চেঁচিয়ে পাড়া মাথায় করে ফেলছেন বলছেন , প্রতিবাদ.....
প্রতিবাদ।
ভোগ নামক একটি পত্রিকা আছে শুনেছি, সেখানে নাকি তাবৎ পৃথিবীর র্চব্য-চোষ্যরা পাতায় পাতায় থাকে। সুরুয়া আর ঝোলের মাঝে যে ব্যবধান ঠিক সেরকম একটা ব্যবধান হচ্ছে ভোগ আর ক্রীড়া বালকের মধ্যে। একটা চতুর শহুরেদের জন্য যারা এনজয় করতে পছন্দ করে। আরেকটা র্গতের শেয়ালের জন্য যারা উপভোগ করে।
মেনকার বাহুডোরকে ঈশ্বর বলেছেন পূণ্যর্াহ পূণ্য। অথর্াৎ যাহারা ভাল-মন্দের বিবেচনায় না থাকিয়া , জীবে সেবিয়াছেন তারাই পূণ্য লভিয়াছেন, পূণ্য লভিলেই ইন্দ্রের সভায় মেনকার নাচ দেখিতে পারিবে। আহা ঈশ্বর বড়ই দয়াদ্্র। তিনি কিভাবে আমাদের এই মার ডালা প্রীতি বুঝিয়াছেন আমি বুঝি না।
সেই আবার দেখুন কিভাবে যেন ননসিরিয়াসলি কিছু সিরিয়াস বিষয়কে সিরিয়ালি নিয়ে এসেছি।
মোদ্দা কথা হচ্ছে সিরিয়াস কাজ করুন , সিরিয়াস ইস্যু নিয়ে, কিন্তু সিরিয়াস হবেন না। সিরিয়াস হলেই মেনকার মার ডালা দেখা হবে না, বরং মার ডলা হয়ে যেতে পারে। যদিও ডলা বিষয়টা ভোগের কিন্তু খুব একটা উপভোগ্য না।
ভোগ হিসাবে নিবেন না কি ক্রীড়া সুলভ ভাবে
নিবেন , সেটাই এখন বিবেচ্য।
** ক্রাম্পু ফ্যাক্ট তুলিয়া লও, মন মত।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



