গত পরশুদিন এক বাসায় রাতের খাওয়ার পর গল্প হচ্ছিল। বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে। সেখানে যারা ছিলেন সবাই স্কলার লোক। একজন শিক্ষক বয়েস পঞ্চাশ এর কোঠায় , তিনি বলছিলেন 71-75 সময়কার বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে। আমার পাশে বসা আমার এক ত্রিশের্াধ বন্ধু আমার কানের কাছে এসে বললেন, '' একটা আইডিওলজি একজন সাপের্াট না করতেই পারে, সেজন্য তাকে রাজাকার বলব কেন? ''
ওর বয়স 31/32 । এই ধরণের কথা আমি আগেও শুনেছি। আগে খুব ধাককা খেতাম। এখন
প্রস্তুত থাকি এই ধরণের চিন্তার বিস্ফোরন সামাল দেওয়ার জন্য।
........................................................................................
যেকোন তত্ত্ব-তথ্য প্রতিষ্ঠা করার প্রধান বাহন এর প্রচার। এই কাজটি স্বাধীনতার পরর্বতী ত্রিশ বছরে সম্পন্ন হয়েছে। তত্ত্বটা হচ্ছে , ....... সব বিষয়েই পক্ষ-বিপক্ষ থাকতে পারে তাই বলে বিপক্ষ অবলম্বনকারীদের ঘৃণা কেন করতে হবে, কেন কাঁধে কাঁধ মেলানো যাবেনা......।
এই তত্ত্বের এত বেশী প্রচার হয়েছে যে এটা এখন ভিত্তি গেড়ে বসেছ আমাদের মাঝে।
........................................................................................
1947-1971
নিতান্তই দাসবৃত্তির সময় এই ব-দ্্বীপ এর জন্যে। মানব সম্পদ, সুজলা সুফলা ভূ-প্রকৃতি, অসামপ্রদায়িক মনোভাব র্সবর্অথে আগুয়ান এই জাতি পূর্ব পাকিস্তান নামের দায় বহন করেছে।
এরপর দর্ীঘ নয় মাস ছিল এই জাতির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ র্অজন। লাখো শহীদের রক্ত, কোটি মা-বোনের ইজ্জত সব কিছু এক পাল্লায় দিয়ে অন্য পাল্লায় এসেছে '' স্বাধীনতা '' ।
.......................................................................................
স্বাধীনতা শব্দটির সংক্ষিপ্ততা , কিংবা এই লিখার শব্দ প্রাচর্ুয্য কোন কিছু দিয়েই স্বাধীনতার মূল্য হৃদয়ঙ্গম সম্ভব নয়। ত্রিশ লাখ সংখ্যাটার দর্ূবলতা এমনই যে, ত্রিশ লাখে কয়টা শূন্য হয় বলা যায়না দেখামাত্র। রবীন্দ্রনাথ নামটা দিয়ে বুঝা যায় না মানুষটির ব্যপ্তি। এমনকি মুক্তিযোদ্ধা শব্দটির ব্যপ্তি ও সংক্ষিপ্ত ।
কারণ এই যুদ্ধে জড়িত ছিল কোটি কোটি বাঙ্গালী। এই যুদ্ধের শিকার শুধু ত্রিশ লাখ শহীদ কিংবা দুকোটি মা-বোন নয় । এই যুদ্ধের ব্যপ্তি অনেক বড়। ত্রিশ লাখ শহীদের কোটি কোটি মা , বাবা , ভাই ,বোন অসংখ্য অনাগত প্রজন্ম এই যুদ্ধের শিকার। শুধু দুকোটি মা-বোন র্ধষিত হয়নি , র্ধষিত হয়েছে দু-কোটি পরিবার। র্ধষিত হয়েছে অনাগত প্রজন্ম ।
30,000,00
2, 00, 000, 00
এগুলো শুধুই সংখ্যা। এই সংখ্যা ধারণ করেনা, ভগিরথীর দ্্বিভাগ হয়ে যাওয়ার বেদনা। ধারণ করেনা জগৎ জ্যেতির রক্ত।
--------------------------------------
একটা ছোট সত্য গল্প বলি। চট্টগ্রামের পাহাড়তলীর এক ব্যবসায়ী তার গাড়ি দিয়ে মুক্তিদের খাবার এবং অস্ত্র সাপ্লাই দিতেন । তাকে হত্যা করা হল। তার ঘরে হলো হামলা, তাঁর স্ত্রী , ছেলে , মেয়ে , নাতি সবাই পেছনের জঙ্গলায় পালাতে সর্মথ হলো। শুধু একজন পালাতে সর্মথ হয়নি । তার বড় মেয়ে দু
সন্তানের মা। তাকে জবাই করে হত্যা করা হয়।
নিজে জীবিত থাকলেন অথচ বোন মারা গেল , এই বেদনা নিতে পারেননি বড় ভাই । দর্ীঘ তিন বছর অনেকটা খাদ্যদ্্রব্য সর্্পশ করেননি তিনি ,
আস্তে আস্তে মারা যান 1974 এ।
স্বাধীনতা যুদ্ধের পঁয়ত্রিশ বছর পর আজো দেখি পরিবারটিকে যুদ্ধের চেতনা ধাারণ করে
বেঁচে আছে।
.....................................................................................
রাজাকার জামাতীদের বাঁধা বুলি , তাদের প্রচার যন্ত্রের কল্যাণে প্রায় সফল করে এনেছে। এখন রব উঠে , '' রাজাকার কথাটা অবান্তর '' , পঁয়ত্রিশ বছরের মধ্যে রাজাকারীর ইতিহাস মুছবার চেষ্টা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সত্তুর বছর বাদে রব উঠবে , '' মুক্তিযুদ্ধ কথাটা অবান্তর ''।
কেন রাজাকার কথাটা অবান্তর ? 26 বছর আগের নিজের জন্মের স্মৃতি অবান্তর মনে হয়না , 50 বছর আগে পাকিস্তান জন্মের স্মৃতি অবান্তর মনে হয় না , 60 বছর আগে প্রতিষ্ঠিত ইসরাইলের বিরোধিতা অবান্তর মনে হয় না, ভিয়েতনামের নাপাম বোমা অবান্তর মনে হয় না, হিরোশিমা-নাগাসাকির বোমার স্মৃতি অবান্তর মনে হয় না ।
তবে কেন রাজাকার শব্দটা অবান্তর হবে ?
........................................................................................
মুক্তিযুদ্ধ যেমন একটি চেতনার নাম, রাজাকার ও একটি চেতনার নাম।
এটা 90 মিনিটের ফুটবল খেলা নয় যে, খেলা শেষে কোলাকুলি হবে। এটা নয় মাসের জীবন-মরণ যুদ্ধ । নিজেদের অস্তিত্ত্ব রক্ষার যুদ্ধ ।
এই অস্তিত্ত্বের বিপক্ষে এই দেশীয় যারা ছিল তারা রাজাকার।
........................................................................................
রাজাকার চেতনার আবার নব জাগরণ শুরু হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধে একটা আইডিয়া , একটা ফ্লুক, একটা স্টান্ট এই ধরণের একটা প্রচারণা শুরু হয়েছে।
কখনো ভারত বিরোধীতার ধূঁয়া , কখনো ইসলাম প্রীতির নামে , রাজাকার শব্দটিকে দূষণ মুক্ত করার চেষ্টা চলছে।
নব্য রাজাকার চেতনার ধ্বজা ধারীরা এখন 1971 এ র্ধষনের প্রমাণ চায়। হত্যার প্রমাণ চায়। একাত্তরের গণহত্যায় জামায়াতের
সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ চায়। কারণ তাদের তখন জন্ম হয়নি , তারা দেখেনি এসব , তাই তারা প্রমাণ চায়।
এরা কি নিজেদের মায়ের কাছে নিজেদের জন্ম মূহর্ুতের প্রমাণ চায় ?
নব্য রাজাকার চেতনার এখন জোয়ার চলছে , রাজাকারদের শাস্তি চাওয়াটা এখন অরাজকতা, রাজাকারদের কাঁধে কাঁধ না মিলানোটা এখন দেশের শত্রুতা।
এই নব্য রাজাকারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হল, আবার যুদ্ধ । আবার সম্ভ্রম রক্ষার লড়াই। রাজাকারদের রাজাকার বলবার লড়াই । রাজাকার চেতনার মূল উপড়ানোর লড়াই।
যুদ্ধ অপরাধীদের কাঠগড়ায় দাঁড়া করানোর লড়াই , রাজাকারদের উত্তর প্রজন্মের মিথ্যা র্চচার বিরুদ্ধে লড়াই ।
নব্য রাজাকারদের বিরুদ্ধে লড়াই।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




