somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজ চাঁদ দেখা গেলে পরে কাল ঈদ

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৬ দুপুর ১২:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


কথা যখন উঠলোই একটু আগে বাড়াই।

বাল্যকালে আমার ঈদ মানেই ছিল অপরিসীম আনন্দ। কারণ এক রোজার সময় একমাস ছুটি। সেহরী খেয়ে সবাই ঘুম থেকে উঠতো দেরীতে , আমি সেই সুযোগের সদ্্বব্যবহার করে ভোরবেলা চলে যেতাম বনবিভাগের পাহাড়ে, না হয় ডি. সি হিল। কোন পাখির ডিম দিয়েছে, কোথায় কোন ফলের গাছ হচ্ছে, আর কয়দিন আমগুলোর বয়স হবে পেড়ে আনার মত । আমার এই ধরণের নানাবিধ গুরুত্বপর্ূণ কাজের জন্য সময় পাওয়া যেত এই মাসে। আমার সংগী ছিল আমার দোস্ত তানসেন। দুপুরে ছাদের ট্যাংকের ছায়ায় বসে যাবতীয় লৌকিক এবং অলৌকিক রহস্য নিয়ে আলাপ করতাম আমরা। অফুরন্ত সময় আনন্দঘন। বিকালে ফুটবল।

এই রমজান মাসে আমি এত বেশী দৌড়-ঝাঁপ করেছি যে গরমে আমার জ্বর হত ঠিক ঈদের দিন। আমার বেশ কয়েকটা ঈদ গেছে জ্বরে কোঁকাতে কোঁকাতে।

রমজানের অনেক বিচিত্র মরতবার মধ্যে ছিল বরফ কিনে আনা। আমাদের বাসায় ফ্রিজ ছিলোনা। ইফতারীতে ঠান্ডা পানির জন্য বরফ কিনে আনতে হতো রাস্তা থেকে। এক টুকরা 2/3 টাকা, কাঠের গুড়ায় মুড়িয়ে পাটের রশি দিয়ে বেঁধে দিত। বাসায় আনার পথে বরফটা গলে যাচ্ছে। দ্্রুত হাঁটতে হবে এবং সাবধানে যাতে বরফ পড়ে না যায়।

রমজানের সবচেয়ে আনন্দের বিষয় নতুন জামা। এটা আমি আমার আশে পাশে সবার মধ্যেই দেখেছি। তবে পরে পরে এই আনন্দ অনেকখানি ফিকে হয়ে গেলো।

গতবার তিরিশটা হয়েছে, এবার উনত্রিশটা হবে। এই আশা নিয়ে ইফতারীর পর ঘন্টাভর আকাশের দিকে চেয়ে ছিলাম, চাঁদ উঠলো কি না। ভীষণ আগ্রহে পানি ঢেলে দিয়ে চাঁদ না উঠলে সে রাতটা যেত খুব বাজে। রাগ উঠত খুব , কেন চাঁদ উঠল না।

ঈদের দিন ওঠা হতো খুব ভোরে। বাসায় বাথরুম একটা, মানুষ তার চেয়ে অনেক বেশী, সবাই গোসল করবে সকালে। বড়ভাই বোমা মারলেও উঠবেনা , উনি উঠবে নামাজে যাওয়ার দশমিনিট আগে। সুতরাং ছোটদের কাজ ছিল ভোরে উঠে গোসল করে তৈরি হয়ে যাওয়া। এরপর বড় ভাইয়ের হাত ধরে লালদিঘীর ময়দানে নামাজ পড়তে যাওয়া।

ঈদের সেই আনন্দ অনেক বছর হলো পাই না।

এখন ঈদ মানেই অন্য সব দিনের মত একটা দিন,
ঈদ মানে পুরোনো অনুভব নতুন ভাবে বোধের দিন।
........................................................................................

বাংলাদেশে ঈদের চাঁদ নিয়ে তেমন বড় মাপের ফ্যাকড়া কখনোই ছিলো না। চাঁদপুর , কাঞ্চনগর এরকম কিছু জায়গায় একদল সৌদি আরবের সাথে তাল রেখে ঈদ করত। যার যা শখ। তবে এখন আস্ত আস্ত ফ্যাকড়া শুরু হয়েছে । শহর দূষিত হচ্ছে , আমাদের দৃষ্টিসীমা পুরোটাই ঢেকে থাকে ধোঁয়া আর ধূলায়। ক্ষীণকায়া চাঁদ দেখা যায়না বড় শহর গুলোতে , অনেক ছোট শহরে দেখা যায়। এই নিয়ে শুরু হয়েছে হল্লাবাজি।

(সম্ভবত ) 1999/2000 সালের ঈদে লাগলো ফ্যাকড়া। রাত দশটা র্পযন্ত জানলাম কাল ঈদ হবে না। ঠিক দশটার খবরের সময় বলল চাঁদ দেখা গেছে।
কি ভয়াবহ সংবাদ ?

লোকজন অফিসে যেতে লেট করে , আজকাল চাঁদ ওকি তিন ঘন্টা লেট করে ডিউটিতে আসা শুরু করল না কি ? এই বিভীষণের কোন উত্তর নেই। আমাদের চাঁদ দেখা কমিটি নামক মর্ূখ-মাতালদের হাতে সর্ূয পশ্চিমেও উঠতে পারে।

গতকাল পড়লাম পৃথিবী থেকে হাজার আলোকর্বষ দূরে নতুন স্টেলার সিস্টেম আবিষ্কার হয়েছে। আমাদের বাসায় ফ্রিজ থেকে বার করে লোকজন জুস খাচ্ছে। আমার চুল পেকে বুড়ো হতে চললাম । আর আমাদের চাঁদ দেখা কমিটি , আমার শৈশবের চাঁদের বুড়ির যুগে রয়ে গেছে।

........................................................................................

দেশের বাইরে এসে দেখছি সপ্তকান্ডে রামায়ণ শেষ হয়নি, আমরা বাংলাদেশীরা অষ্টম, নবম এবং দশম খন্ড বের করেছি। সাথে যোগ দিয়েছে আমাদের ব্রাদার হুড পাকিস্তানী, এবং মধ্যেপ্রাচ্যের লোকজন।

নিউর্ইয়কে ঈদ হয় দুদিন, লস এনজেলসেও দু দিন, মোটে মিলে বোধ করি এই মুলুকে তিন দিন। লে হালুয়া লেঠা সামলাও।

আমার সাথে লস এনজেলসের সময়ের ব্যবধান তিন ঘন্টা, কিন্ত ঈদ করি দুটো ভিন্ন দিনে। আমার এখানে ঈদ হয় মিশরিয়ান ইমামের কথামত। তবে এখানেও এখন দুদিন ধরে ঈদ শুরু হয়েছে, কারণ পাকিস্তানিরা আলাদা হয়ে গিয়েছে এই বেদুঈন দের থেকে । বিশাল ক্যাঁচ নতুন মসজিদ হয়েছে, এ ওর মসজিদে নামাজ পড়ে না। মাঝখানে বাংলাদেশী মাগনা খাওয়ার দল নিজের মত করে মাঝামাঝি ঝুলে আছে।
.......................................................................................

এখন কোন ইমাম কে জিজ্ঞাসা করুন যে আযান বাংলায় দিলে কি সমস্যা। সে হয়তো জিভ কেটে আস্তাগফিরুল্লাহ্ বলবে। ইন্টেগ্রিটি অফ মুসলিম ব্রাদারহুডের দোহাই দিয়ে
বলবে সম্ভব না। আরবীতেই পড়তে হবে। কিন্তু
একই টাইম জোনে দুদিন/তিনদিন ঈদ করলে ব্রাদারহুড যে বদারহুডে পরিণত হয় সে হুঁশ থাকে না।

যাই হোক যে কোন একদিন করতে পারলেই হয় আমার, দুদিন হলে আরো ভালো । দুদিন ধরে হালুয়া খাওয়ার মজাই আলাদা।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমরা যেন পারষ্পরিক সম্মান আর ভালোবাসায় বাঁচি....

লিখেছেন জানা, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৪২



প্রিয় ব্লগার,

শুভেচ্ছা। প্রায় বছর দুয়েক হতে চললো, আমি সর্বশেষ আপনাদের সাথে এখানে কথা বলেছি। এর মধ্যে কতবার ভেবেছি, চলমান কঠিন সব চিকিৎসার ফলে একটা আনন্দের খবর পেলে এখানে সবার সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালাদেশের নির্বাচনী দৌড়ে বিএনপি–জামায়াত-এনসিপি সম্ভাব্য আসন হিসাবের চিত্র: আমার অনুমান

লিখেছেন তরুন ইউসুফ, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৩



বিভিন্ন জনমত জরিপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রবণতা এবং মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক তৎপরতা বিশ্লেষণ করে ৩০০ আসনের সংসদে শেষ পর্যন্ত কে কতটি আসন পেতে পারে তার একটি আনুমানিক চিত্র তৈরি করেছি। এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম পরে, আগে আল্লাহ্‌কে মনে রাখো

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:৩৭

প্রিয় শাইয়্যান,
পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্‌কে তুমি যখন সবার আগে স্থান দিবে, তখন কি হবে জানো? আল্লাহ্‌ও তোমাকে সবার আগে স্থান দিবেন। আল্লাহ্‌ যদি তোমার সহায় হোন, তোমার আর চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনঃ কেন আমি বিএনপিকে ভোট দিবো?

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২৯



আসছে ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সরকারপক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই নির্বাচন হবে বিতর্কমুক্ত এবং উৎসবমুখর পরিবেশে। আমার অবশ্য এই দুই ব্যপারেই দ্বিমত... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘বাঙালি মুসলমানের মন’ - আবারও পড়লাম!

লিখেছেন জাহিদ অনিক, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আহমদ ছফা'র ‘বাঙালি মুসলমানের মন’ বইটা আরাম করে পড়ার মতো না। এটা এমন এক আয়না, যেটা সামনে ধরলে মুখ সুন্দর দেখাবে- এমন আশা নিয়ে গেলে হতাশ হবেন। ছফা এখানে প্রশংসা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×