




মেয়েটার সাথে যখন আমার পরিচয় হয় তখন ছিলো ফেব্রুয়ারী মাস ‘শীতকাল , কোন দিন তুষাড় পড়ে কোনদিন পড়ে-না , আবার এমন-ও হয় যখন তুষাড় পড়তে থাকে তো-থাকেই এবং এক সময় সেই তুষার জমে বড়ফ হয় , স্তুপ হয়ে থাকে বাড়ীর আশ-পাশ এবং রাস্তার দুই পাশে , মজার ব্যাপার হলো যখন তুষাড় পড়তে থাকে তখন কিন্তু শীত তেমন অনুভব হয়-না , শীত অনুভব হয় যখন সেই "বড়ফ" জমা হয়ে থাকা « তুষাড় » কনকনে ঠান্ডা বাতাসে গলতে থাকে , কনকনে ঠান্ডা বাতাস , আঃ সে-কি শীত ! সেই সময় বাস বা ট্রামের ভিতর-ও তেমন আরাম লাগে-না , এ্যায়ার-প্রুফ দরজা গুলো দিয়ে-ও যেন কনকনে ঠান্ডা বাতাস প্রবেশ করে ! ঠান্ডা বাতাসে রাস্তার বরফ গুলো গলতে থাকলে ঐ সময় রাস্তা অনেক পিচ্ছিল হয়ে-যায় , খুব সাবধানে চলতে গিয়ে-ও অনেকে পা পিছলে পড়ে হাত-পা ভেঙ্গে পুঙ্গ হয়ে যান , কোন কারন ছাড়াই গাড়ীগুলো রাস্তা থেকে ছিটকে পড়ে মারাত্ক ভাবে আহত বা মৃত্যু বরন করেন গাড়ী চালক বা তার সফর সঙ্গী বা সঙ্গী-গন ( এই সময়টায় ইউরোপ এ্যামিরিকার ট্রেন এমন কি বিবান চলাচল-ও বন্ধ হয়ে যায় অতিরিক্ত তুষাড় পড়ার কারনে ) ! এই রকম আবহাওয়ায় বাস বা ট্রামের জন্য দাড়িয়ে থাকা খুবই কষ্টকর ব্যাপার ! মাঝে-মধ্যে ভাবি এই রকম আবহাওয়ায় যদি আমাদের বাংলাদেশে থাকতো তা"হলে স্কুল , কলেজ এবং অফিস-গুলো থাকতো লোক-শূন্য , যেখানে সামান্য বৃষ্টির অজুহাতে আমরা ফাকি দিয়েছি স্কুল আর বড়রা ফাকিদিতো অফিস , আর এ-তো "তুষাড়" আর "বরফ" ! আবার ভাবি এই রকম আবহাওয়া আমাদের বাংলাদেশে না থাকাতে বরং ভালোই হয়েছে , -যদি থাকতো তা"হলে তো গরীব লোকগুলো শীতের প্রভাবে সবাই মৃত্যু বরন করতেন , যাদের একবার খাওয়ার পর পরের বার খাওয়ার নিঃশ্চয়তা থাকে-না তারা কি করে তৈরী করতেন শীত আর বরফ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য পাকা-বাড়ী ?
আজ-ও এমন কিছুই ভাবছিলাম কনকনে ঠান্ডা বাতাস ,শীত এবং বাংলাদেশ ‘এমন সময় ট্রাম আসার শব্দ পাই , সদ্য পরিচয় হওয়া মেয়েটা-ও প্রতিদিন ঐ দিক দিয়েই আসে যে দিক থেকে ট্রামটা আসছে , তাকাতেই মেয়েটাকে-ও নজরে পড়লো " ট্রামটা ধরার জন্য দোউড়াচ্ছে নতুবা কনকনে ঠান্ডা বাতাস আর শীতে দাড়িয়ে থাকতে হবে কিছুখন , আমি হলে-ও তা"ই করতাম , কাছে আসতেই মেয়েটা পা পিছলে পড়ে গেলো , এই রকম পরিস্থিতিতে স্থানীয় লোকেরা এগিয়ে আসে-না কখন-ও , করার মধ্যে করবে এ্যাম্বুলেন্স কল অথবা পুলিশ ! এ্যাম্বুলেন্স অথবা পুলিশ এসে যা করার করবে এর মধ্যে অনেকে মারা-ও যায় , "ওরা নাকি আবার "মানবতা-বাদী" মানুষ ? আমাদের এশিয়া নিয়ে এই সবদেশের সাদারা কখনও আমার সাথে "মানবতা-বাদী" ব্যাপার নিয়ে কেউ আলোচনা করতে আসলে আমি "ওদের ছাড়ি-না , আমার একটু-ও মুখ কাপে-না "ওদেল বলতে "তোমরা "মানবতা-বাদী" নও তোমরা হলে «আসল জঙ্গীবাদী" , একটা কুকুরকে কিছু বললে তোমরা খেপে উঠ আর চোখের সামনে একটা লোক মারা যায় তা দেখে তোমরা চোখ সরিয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে থাক যেন কিছুই দেখ-নাই ! রাস্তায় চলতে গিয়ে প্রায়"ই এমন সব অ-মানবিক ঘটনা দেখতে পাওয়া যায় , একটু সাহায্যের অভাবে চোখের সামনে একটা লোক মারা-যায় তবু-ও একগ্লাস পানি-ও দিবে-না , এসব করে-না শুধু পুলিশের জেরার ভয়ে , কিন্তু আমরা এশিয়ানরা অনেকেই এই সব তোয়াক্কা করি-না , এক গ্লাস পানি বা একটু সাহায্যের অভাবে আমার চোখের সামনে একটা লোক মারা যাবে আর আমি কিছু করবো-না শুধু তাকিয়ে দেখবো তা কি করে সম্ভব ? এভাবে পড়তে দেখে আমি দৌড় দিয়ে গিয়ে মেয়েটাকে ধরলাম , হাত ধরে উপড়ে তুলার আগে শুধু জিগ্যাসা করলাম কেমন ব্যাথা পেয়েছ উঠে দাড়াতে পাড়বে-তো ‘না এ্যাম্বুলেন্স কল করবো ? মেয়েটা জবাব দিলো "না এ্যাম্বুলেন্স কল করতে হবে-না "তুমি আমার হাতটা ধর আমি উঠছি !

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




