অনেক দিন ধরে রমনা পার্ক, সোরোয়ার্দি উদ্যান এবং বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যাই না। যাই না মানে কোন কাজ নেই এবং ব্যস্ততা বা ইচ্ছা হয় না। কয়েকদিন আগে দুপুরের দিকে কি মনে করে এই অঞ্চল গুলোতে হাটা ধরলাম। প্রথমে রমনা পার্ক, পরে সোরোয়ার্দি উদ্যান এবং সন্ধ্যার পর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা। একাই, হুদাই সময় কাটালাম। নিজ মনে হাটলাম।
এই এলাকা গুলোর সাথে আমার একটা যোগাযোগ আছে বহু বছর ধরে। কলেজে পড়া থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ার সময় পর্যন্ত। কত সময় কাটিয়েছি, কত আড্ডা দিয়েছি! আহ, সেই দিন গুলো!
বর্তমানে রমনা পার্কের অবস্থা বেশ ভাল মনে হল। গাছ গুলো বড় হয়ে গেলেও এখনো অনেক সুন্দর আছে। অবশ্য এটা হয়েছে ভাল রক্ষনাবেক্ষনের জন্য (এই বিষয়ে আর একটা ব্লগ লিখবো, কয়েকটা ছবি সহ)।
আজ শুধু সোরোয়ার্দি উদ্যান নিয়েই বলি। আমি যখন এই উদ্যানে প্রবেশ করি তখন ঘড়িতে বেলা সাড়ে তিনটা। পুরা সোরোয়ার্দি উদ্যান চকর মেরে আমার নিজেরো মাথা চকর দিতে লাগছিলো! এখানে, সেখানে, চিপায় চাপায় শুধু গাঁজার ঘ্রান! আহ।
কমের পক্ষে ২০/৩০টা স্পট বা একক গাঁজা বানানোর এবং টানার জায়গা দেখলাম। কারো কারো দিকে তাকাবার সময় নেই। মটর সাইকেল দিয়ে জটলা বা অন্য কোন গাছের আড়ালে, এমন কি স্মৃতি স্থম্ভের কাছাকাছি। সব চেয়ে ছবির হাট টু রমনা (শুশু পার্কের পিছনের) রাস্তাকে গাঁজার রাস্তা মনে হল। চোখের সামনেই উনারা ভরছেন আর টানছেন!
এই জীবনে কম তো দেখলাম না! লালন শাহর ছেউড়িয়া থেকে লিভারপুলের সেই ব্রীজের নীচে! সৌদি মুরুভূমি থেকে কলকাতা সরদার স্ট্রীট! ছবির হাট টু রমনার রাস্তাকেই সেরা মনে হল! হা হা হা। দিনের বেলায় এই অবস্থা, রাতে কি হয় কে জানে!
কাজে কাজেই, আর লজ্জা কি, আর মাইন্ড করে কি লাভ! সোরোয়ার্দি উদ্যানের নাম পাল্টে 'গাঁজা উদ্যান' করে দেয়া হউক!
(খোলামেলা লিখে ফেলার জন্য দুঃখিত কিন্তু কি আর করব! আমি না লিখলে কেহ না কেহ লিখবেই, আজ বা কাল!)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



