খাবার দাবার দেখলে কে না থেমে যায়! সদর ঘাটের রাস্তায় এমনি এই গরমে এমন সুন্দর করে শরবতের পশরা সাজিয়ে বসেছেন যে, দেখলেই পান করতে ইচ্ছা করবে! কোন হাকডাক ছাড়া নিরন্তর বিক্রি করে চলছেন রাস্তার ফুটপাতে বসা দুই জন শরবত বিক্রেতা। ক্রেতার অভাব নেই, গ্লাসের পর গ্লাস বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। এই গরমে নানান বয়সের মানুষ এসেই পান করে টাকা দিয়ে চলে যাচ্ছে।
অনেকদিন পর আমি সদরঘাট গিয়ে এই এক শরবত বিক্রেতার পিছনে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ ধরে দেখছিলাম। মানুষ দেখা পাশাপাশি এই সব বিক্রেতার সাথে কথা বলা এবং তাদের পন্য দেখা আমার বিশেষ পছন্দের কাজ। পরে কিছু কথা বলি, নাম জয়নাল। বাড়ী মুন্সীগঞ্জ। অনেকদিন ধরে এই ঢাকা শহরে আছেন, তবে কোন নিজস্ব ব্যবসা তেমন দাড়া করাতে পারেন নাই, এখনো চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
- এই শরবতের ব্যবসা মাথায় কি করে এল?
; (হেসে ফেলেন) কত কিছুই তো করি? সব সিজনে কি আর সরবত চলে?
- এই শরবত বানানো কার কাছে শিখলেন?
; আমার ওস্তাদ আমি নিজেই। আগে অনেককেই এই শরবত বিক্রি করতে দেখতাম, দেখে দেখেই শেখা বলা চলে।
- শরবতে কি কি দেন?
; প্রায় ২০ ধরনের আইটেম (ফলাফলাদি বেশী) (কিছু নাম বলে চলেছেন)
- চিনি কোনটা দেন?
; কেন সাধারন চিনি দেই।
- ভেজাল কিছু দেন?
; ভেজাল কি দেব।
এদিকে আমাদের কথা ফাঁকে তিনি আপেল কুঁচি কেটে চলছেন, বরফ নাড়িয়ে দিচ্ছেন, মাঝে কয়েকজন কাষ্টমার বিদায় করছেন। আমি এক সময়ে লক্ষ করলাম, তিনি নিজে এক গ্লাস শরবত নিলেন এবং তা পান করছেন, থেমে থেমে। আমি জিজ্ঞেস করলাম।

- নিজের বানানো শরবত নিজে পান করছেন?
; (জয়নাল ভাই আবারো হেসে দিলেন) কেন আমার কি পিপাসা পায় না!

জয়নাল ভাইয়ের নিজের এই শরবত পান করা দেখে আমিও এক গ্লাসের ওর্ডার দিলাম। বললাম, একটু বেশী ঠান্ডা চাই। জয়নাল ভাই, আমার জন্য শরবতের যে কোনায় বরফ খন্ড তার পাশ থেকেই চামচ দিয়ে আমার জন্য শরবত উঠিয়ে গ্লাসে নিলেন। আমার হাতে এগিয়ে দিলেন।

আমি পান করে পরিতৃপ্ত হয়েছি।
যাই হোক, কথা থেকে যায়, আমাদের দেশের এই পথের ধারের এই ধরনের খাবার কতটুকূ নিরাপদ এবং স্বাস্থ্য সম্মত। এটার আসলে কোন জবাব পাওয়া যায় না।
১। পানি ভাল কি না।
২। যে সব ফলফলাদি দিচ্ছে তা কতটুকু নিরাপদ।
জয়নাল ভাই নিজে কোন খাদ্য রঙ বা ভেজাল কিছু দিচ্ছেন না তবুও তার ব্যবহার করা উপাদান নিয়ে কথা থেকে যায়। এবং আমাদের দেশের পানি এবং ফলফলাদি নিয়ে কথা তো সেই কবে থেকে চালু আছে।
যাই হোক, আপনি যদি কোন ফাইফ স্টার হোটেলেও এমন শরবত খেয়ে থাকেন, সেখানেও এমন ফলের ব্যবহারি হয়ে থাকবে। পানিটা হয়ত ভাল মিলবে। আপেল, আঙ্গুর, মাল্টা, খেজুর, খুরমা তারাও এমনি বাজার থেকে কিনে নেবে! আমরা বা আমাদের সরকার যতক্ষন পর্যন্ত নিরাপদ খাবারের ব্যবস্থা বা কঠোর শাস্তির মাধ্যমে ভেজাল মুক্ত করতে পারবে না, ততদিন আমি আপনি কেহই নিরাপদ নয়।
যাই হোক, বেঁচে থাকার তাগিদেই আমাদের এই ধরনের পেশায় আস্তে হয়, চলে আমাদের জীবিকা। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজী আমি এই শরবত বিক্রেতা জয়নাল ভাইয়ের আরো সাফল্য কামনা করি। অন্তত তিনি যেন এই খোলা আকাশ ছেড়ে তার ব্যবসা কোন সুন্দর দোকানে নিয়ে যেতে পারেন।
ব্লগ লেখার আগেই ফেবুতে ছবিটা ছাপিয়ে দেই, লিঙ্কে এই শরবত নিয়ে বেশ কিছু আলোচনা হয়েছে, সবাই এমন শরবত খাবার বিপক্ষেই মতামত দিয়েছেন। জয়নাল ভাইয়ের ফ্রুট মিক্স শরবত!
বিচিত্র পেশাঃ ১৯
http://www.somewhereinblog.net/blog/udraji/30036990
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মে, ২০১৫ রাত ৯:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



