নাই কাজ তো খৈ ভাঁজের মত আজ সন্ধ্যা থেকে দুই কোরিয়ার প্রেসিডন্টদ্বয় নিয়ে অনেক অনেক তথ্য দেখলাম। দুইজনকে দুই মেরুর বাসিন্দা মনে হল, অনেকটা নরম গরম টাইপের লোক দুইজন, তবে একজায়গাতে দুইজনের মিল, দুইজনই খাঁটি দেশ প্রেমিক!
সাউথ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের নাম মিঃ মুন জো ইন, ইনি পেশায় উকিল ছিলেন, মানবতা নিয়ে কাজ করতেন, দীর্ঘদিন গনতান্তিক পার্টির লিডার ছিলেন, এর পর ২০১৭ সালে নির্বাচনের মাধ্য দিয়ে তার পার্টি ক্ষমতায় আসে এবং তিনি দেশের ১২তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন, বর্তমান বয়স ৬৭ বছর। তার প্রসঙ্গে যা জানলাম, হ্যাঁ, তিনি একদম খাঁটি একজন ভদ্রলোক বটেই, আচার আচ্রন এতই মার্জিত যে, আমি তার বেশ কিছু ভিডিও দেখে অভিভূত হয়েছি। তার মাথা নত করে কথা বলা, অন্যের দিকে হাত বাড়ানোর ভঙ্গি রীতিমত সন্মানের এবং মনে রাখার মত। সাউথ কোরিয়া মুলত নিয়ন্ত্রিত হয় কাগজ কলমে, প্রতিটা ক্ষেত্রে তাদের নীতিমালা আছে, সেই নীতিতে দেশ পরিচালিত হয়, নীতির বাইরে গেলেই বিচার ব্যবস্থায় আটকা পড়তে হয়, বিচার ব্যবস্থার ভয়ে সাধারন মানুষ খুব সুন্দর চলাফেরা করতে বাধ্য। দেশে যখন যে সমস্যা আসে, সেই সমস্যা নিয়ে একদল বিজ্ঞ মানুষ কাজ করে এবং তাদের মতামতেই নুতন নীতি তৈরী হয়, সেই নীতি জাতীয় নীতিতে যোগ হয়। খুব সাধারন, যে কোন ব্যাক্তি নিজকে যোগ্য করে তুলে নিজকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিতে পারে বা ধনী হতে পারে।
অন্যদিকে নর্থ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের নাম আপনারা নিশ্চয় শুনেছেন, হ্যাঁ, তিনি মিঃ কিম জং উন, উনার কোন পেশা ছিল না, দাদা এবং বাবার পর তিনি ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসেন এবং সেই থেকে আছেন, বত্তমান বয়স ৩৬ বছর (তার জন্ম সাল নিয়ে ঘাপলা আছে, কেহ কেহ মনে করে ১৯৮২, কেহ ১৯৮৩ আবার কেহ বলে ১৯৮৪), তিনি তার পিতার ২য় সন্তান এবং ছোট থেকে তার বুদ্ধিমাত্রার জন্য তার পিতা তাকে বিশেষ স্নেহ করতেন। তার কর্মকাণ্ডের অনেক কিছুই দেখলাম, পড়লাম, মুলত তিনি কোথায় যেয়ে থামবেন সেটাই দুনিয়ার দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়াবে আগামীতে। নর্থ কোরিয়াতে মুলত তিনি যা বলেন বা চিন্তা করেন সেটাই কথা, সেটাই নীতি, তার পরিচালিত একটা রাজনৈতিক দল আছে, ওয়ার্কাস পার্টি, এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা। এর বাইরে যাবার কারো কোন উপায় নেই। তিনি ক্ষ্মতা চর্চায় নিজকে এতই উচ্চুতে নিয়ে গেছেন যে, তার মত করে চুল কাটাও তার দেশের জনগন চিন্তা পারে না! তার লাইফ স্টাইল দিনের পর দিন সারা বিশ্বে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠছে।
দুইজনকেই আমার ভাল লেগেছে।! যে কোন দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থা মুলত কঠোর হওয়া দরকার। দুইজন দুই ভুমিকায় থেকেও দেশ পরিচালিত হচ্ছে কঠোর আইনে, মন্দ কি! যেখানেই সমস্যা সেখানেই তাদের ভুমিকা আছে।

সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ২:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




