somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাহাদাত উদরাজী
সাহাদাত উদরাজী'র আমন্ত্রণ! নানান বিষয়ে লিখি, নানান ব্লগে! নিজকে একজন প্রকৃত ব্লগার মনে করি! তবে রান্না ভালবাসি এবং প্রবাসে থাকার কারনে জীবনের অনেক বেশী অভিজ্ঞতা হয়েছে, যা প্রকাশ করেই ফেলি - 'গল্প ও রান্না' সাইটে! https://udrajirannaghor.wordpress.com/

জীবন, এভাবেই হারিয়ে যায় যাবে!

২৪ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মানুষের জীবন পুরাই গল্প, বলা চলে প্রতিটে সেকেন্ডেই গল্প তৈরী হয়! সংক্ষেপে নিজের জীবন থেকেই দুটো তুলে দিচ্ছি!

বড় ছেলে/-
সত্য বলতে দ্বিধা নেই, আমি আমার বাবাকে অনেক মানসিক কষ্ট দিয়েছি, আমার বাবা আমাকে অন্য দুই ছেলের তুলনায় একটু বেশী আদর করতেন, যা আমি বুঝতাম, তিনি আমাকে কখনো সরাসর কিছু বলতেন না, তবে আমার আচরণে তিনি যে কষ্ট পেতেন তা এখন বুঝি (সেই সময়ে আমি বুঝি নাই), আমি একটু চালাক চতুর আর স্বাধীনচেতা ছিলাম। আমি স্কুল লাইফেই আড্ডা দিয়ে রাতে ফিরতাম, রাতে ৪/৫টা পর্যন্ত সোফায় পা তুলে টিভি দেখতাম, ভোরে ঘুমাতাম, বেলা ১২টায় উঠতাম, সময় মত খেতাম না, আমার জন্য আম্মা টেবিলেই খাবার রেখে দিতেন, যখন ইচ্ছা খেতাম ইত্যাদি ইত্যাদি। আবার বাসা থেকে পালানোর ইচ্ছাও হত এবং একবার সত্যি সত্যি এক বছরের জন্য পালিয়েও গিয়েছিলাম (ফেইসবুকে সাক্ষীও আছে, যার এই গল্প চোখে পড়বেও)। তিনি যে আমার আচরণে মনোকষ্ট পেতেন, তা এখন নিশ্চিত, কারন আমি রাতে না ফেরা পর্যন্ত তিনি ঘুমাতেন না, আম্মা সহ সবাই ঘুমালেও তিনি ঘুমের ভানে জেগে থাকতেন। আমি বাসায় প্রবেশ করেছি (কখনো আমি নিজেই চিটকারী খুলতে পারতাম বা তিনিই কখনো খুলে দিতেন), এটা ফিরছি বুঝলেই তিনি উঠে ওয়াস্রুমে যেতেন এবং তার পরেই সেই রুম থেকে আর কোন শব্দ পেতাম না! দুপুরে আম্মা প্রায় বলতেন, তোর কারনে তোর বাপে ঘুমায় না! যাই হোক, ঠিক সেইম বিষয়টা আমার বড় ছেলে আমার সাথে করে! আমি আমার বড় ছেলের দিকে তাকাই আর চিন্তা করি, যে যা করে তা ফিরেই আসে! বিচার বরাবর!

ছোট ছেলে/-
আমার দুই ছেলের বয়সের ব্যবধান ১১ বছর! ফলে দুইটা দুই মুখি। বড় ছেলের এখন আমার দরকার না পড়লেও ছোট ছেলের দরকার আছে ফলে আমি তাকে একটু বেশী চোখে রাখি এবং সে যেহেতু এখনো ১৮ পার করে নাই, ফলে দায় আমার বেশী। আর যদি মরে যাই তবে ছোট ছেলের যেন আদরে আপত্তি না থাকে ফলে যা চায়, সেটাই কথা ছাড়া দিয়ে দেই বা করেই ফেলি! না, এমন নয়, সেই আমার বাবার কথায় ফিরে আসি। আমার বাবা খুব সৌখিন ভদ্রলোক ছিলেন, উচ্চা লম্বা গায়ের রঙ ফর্সা ছিলো, মানে যাকে বলে ফুরফুরে মানুষ, ক্লিন সেভ এবং সেই আমলেই স্নো সেন্ট পাউডার দিয়ে ঝকঝকে হয়ে বাইরে যেতেন, পেটা শরীর সুদর্শন। তিনি গান ভালবাসতেন, যা আমি নিজে দেখেছি বা বুঝেছি, আমাদের সেই আমলেই বাসায় হারমোনিয়াম ছিলো কিন্তু কালের আবর্তে সম্ববত বিয়ের পরে আমাদের জন্মের পরে তিনি তা ভুলতে বসেছিলেন বা হারিয়ে ফেলেছিলেন, খুব ভোরে উঠা, নামাজ পড়া আমরা দেখেছি তবে গান গাইতে তেমন দেখি নাই। আম্মা বলতেন, তিনি হারমোনিয়াম বাজিয়ে কয়েকটা গান গাইতে পারতেন! আমারও আলিঝালি মনে পড়ে! যাই হোক, গতকাল সন্ধ্যায় বাসায় আমি আর আমার ছোট ছেলে, বড় ছেলে আড্ডায় এবং ওর মা রামপুরা গিয়েছে। আমি এই ফাঁকে সোফায় বসে ক্যারিওকে দিয়ে বেশ গলা ছেড়ে গান ধরলাম, 'বন্ধে মায়া লাগাইছে দোওয়ানা বানাইছে, কি যাদু করিয়া বন্ধে দোওয়ান বানাইছে......'! ড্রইং রুমে আমি একা, গানের মাঝে ছোট ছেলে অন্যরুম থেকে এল, আমার পাশে বসলো। হাতে ট্যাব থাকলেও আমার গানে তার নজর, যদিও সে আসার পরে আমি কিছুটা লাজুক! গান শেষ হবার পরে সে বলল, বাবা তোমার গান আমার ভাল লাগে, তুমি এভাবে গান গাইতে পার এটা আমাকে আনন্দ দেয়!

জীবন আসলেই অদ্ভুত! আমার অনেক কিছুই হবার ইচ্ছা ছিলো, কিছুই হতে পারি নাই, এমন কি আমার পরিচয়ও এখন মিয়মান, সেই বাউন্ডেলেই রয়ে গেলাম!

নয়াপল্টন, ঢাকা। ২৪/০১/২০২৬ইং
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩০
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গান - জীবন যেন স্রোতের মাঝে ভাসমান দ্বীপের মতো

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৪

১৯৮৪ সাল। স্কুলের অফিস রুমে গিয়েছি বেতন দেবার জন্য। লাইনে অপেক্ষা আমি আর আমার লাল ঝুটি বন্ধুটি। আমাদের খুঁজে খুঁজে ঐ ভীড়ের মাঝে পুষি এলো। আদর করে পুষি ডাকতাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল ড্রামের রহস্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


ঘরটি অন্ধকারাচ্ছন্ন। ক্ষণে ক্ষণে জানালার ওপাশ থেকে আসা দূরপথের সোডিয়াম বাতির একচিলতে আলো এসে পড়ছে ঘরের ভারী বাতাসের ওপর। ঘামের তীব্র গন্ধ আর উন্মুক্ত ত্বকের উত্তাপ ঘরের পরিবেশকে ভারী করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৮ বছর ১ সপ্তাহ পার !

লিখেছেন মেহবুবা, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৯


এমনি করে দিন চলে যায়। ১৮ বছর কখন পেরিয়ে গেল এখানে বুঝতে পারিনি। কত জনের কথা, কত ঘটনা মনে আসছে ! এমনি করে সূর্যাস্তের দিকে যেতে যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×