আসেন নেপালের নুতন সরকার এসে ১০০ দিনের যে পয়েন্ট গুলো ঘোষনা দিয়েছে তার মধ্যে শিক্ষা ব্যবস্থা এই কয়েক দিনে কি করলো, জানি! অন্যান্ন পয়েন্ট নিয়েও লিখবো, আজকে শুধু শিক্ষা নিয়ে উল্লেখ করলাম। শিক্ষামন্ত্রীর বয়স ৩০ বছর মাত্র!
১) নেপালের নতুন শিক্ষা ব্যবস্থায় ক্লাস ৫ পর্যন্ত কোনো লিখিত পরীক্ষা থাকবে না। এর পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হবে বিকল্প পদ্ধতিতে, যেমন ধারাবাহিক মূল্যায়ন, প্রকল্পভিত্তিক কাজ এবং শিক্ষকের পর্যবেক্ষণ। এর লক্ষ্য হলো শিশুদের উপর অপ্রয়োজনীয় চাপ কমানো এবং তাদের সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়ানো।
২) একই সঙ্গে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক দল-সংযুক্ত ছাত্র সংগঠন নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যাতে শিক্ষা পরিবেশ নিরপেক্ষ থাকে এবং শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারে।
৩) সরকারের ১০০ দফা কর্মপরিকল্পনা শুধু পরীক্ষার কাঠামো নয়, বরং পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে আইসিটি (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) ব্যবহার বাড়ানো, সরকারি স্কুলে এককালীন অনুদান প্রদান, এবং পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষাসামগ্রীর মানোন্নয়ন।
৪) নেপালের নতুন শিক্ষা আইন অনুযায়ী প্রাইভেট স্কুলগুলো বন্ধ হচ্ছে না, তবে তাদেরকে ‘অলাভজনক প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে পরিচালনা করতে হবে এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক শিক্ষার্থীকে পূর্ণ বৃত্তি দিতে হবে। (মানে মন চাইলেই আর প্রাইভেট স্কুল খুলে ব্যবসা করতে পারবে না)
৫) একই সঙ্গে কিছু স্থানীয় সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে সরকারি চাকুরেদের সন্তানদের অবশ্যই সরকারি স্কুলে পড়তে হবে। যারা সরকারি বেতন ও ভাতা পান, তাদের সন্তানদের অবশ্যই সরকারি স্কুলে ভর্তি করাতে হবে।
৬) শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়ানো হবে, প্রাইমারী স্কুল কলেজ গুলোর পূর্ননির্মান সহ স্কুল গুলোর সব সুযোগ সুবিধা শিক্ষক বাড়ানো হবে।
উপসংহারঃ আমাদের শিক্ষামন্ত্রী এসেই কোণ সার্ভে অনলাইন ভর্তি তুলে দিয়েছে, যা অনুচিত হল, সমাজে পরিবারে শিক্ষার সমতা আবারো নষ্ট করলো, বাদ বাকীতো পুরাই ফালতু চিন্তায় ভরা, এখনো সেই ৩০ বছর আগের চিন্তায় আছে, নকল বন্ধ করা হা হা হা। সমাজে সমতা, সব শ্রেনীর পরিবারে শিক্ষা যে অধিকার তা ভুলেই গেছে! কি আর বলবো। অন্তত চেষ্টাও দেখি না। অথচ নেপালে দেখুন, কি সুন্দর চেষ্টা করছে।
এতদুর পড়ে এসে আপনার নিশ্চয় নেপালের শিক্ষা মন্ত্রীর নাম, বয়স যোগ্যতা জানতে ইচ্ছা হচ্ছে। নেপালের বর্তমান শিক্ষা মন্ত্রী হলেন সস্মিত পোখ্রাইল (Sasmit Pokharel)। তিনি ২০২৬ সালের মার্চ মাসে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং বর্তমানে শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করছেন। উনার বর্তমান বয়স ৩০ বছর (জন্ম ১৪ মার্চ ১৯৯৬), তিনি Kathmandu University School of Laws থেকে গ্রাজুয়েট হয়েছেন।

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১০:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



