গতকাল পত্রিকায় দেখলাম বেশ কয়েকজন পত্রিকার সম্পাদক সংবাদের স্বাধীনতা নিয়ে বেশ আলোচনা করছেন, তারা সাংবাদিকের পূর্ন স্বাধীনতা চান এবং এখন সেটা নাকি এখন নেই। মি মাহাফুজ আনম কিংবা মি মতিউর রহমানদের হাতে কি সাংবাদিকতা নিশ্চিত, আমি মনে করি না, তারা চাইলেই একতরফা লিখে সরকারের পতনে বড় ভুমিকা রাখতে পারেন এবং ১/১১তে তারা তাই করেছিল, যা তাদের করার কথা ছিলো না। প্রতিদিন নিদিষ্ট কিছু বিষয় নিয়ে লিখে পুরা পরিস্থিতি তছনছ করে দিতে পারে তার প্রমান এরশাদের আমল। মি এরশাদকে যা না তার চেয়েও বেশি বেশী নারী নিয়ে লিখেও কাইত করে দিয়েছিল সাংবাদিকেরা। সাংবাদিকেরা চাইলে দেশের যে কোন ব্যক্তিকে আকাশে তুলতে পারে আবার মাটিতে ফেলেও ঘাড় ভেঙ্গে দিতে পারে। ফলে আমি মনে করি সাংবাদিকতার একটা নিদিষ্ট দাগ থাকা দরকার এবং সেটা মানতেও হবে! যাই হোক, নিন্মে একটু আলোচনা করা হল।
সংবাদপত্রের সাংবাদিকদের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া উচিত কি না - এটি আসলে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার ভারসাম্যের প্রশ্ন।
* কেন স্বাধীনতা জরুরি
১) গণতন্ত্রের ভিত্তি: স্বাধীন সাংবাদিকতা ছাড়া জনগণ সঠিক তথ্য পায় না, ফলে গণতন্ত্র দুর্বল হয়।
২) জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ: ক্ষমতাসীনদের কর্মকাণ্ডের উপর নজর রাখে সাংবাদিকরা।
৩) মানবাধিকারের রক্ষাকবচ: অন্যায়, দুর্নীতি ও নিপীড়ন প্রকাশ করে সমাজকে সচেতন করে।
৪) সামাজিক পরিবর্তন: স্বাধীন সাংবাদিকতা সমাজে সংস্কার ও উন্নয়নের পথ তৈরি করে।
* তবে সীমাবদ্ধতার প্রশ্নও আছে
১) ভুয়া খবর ও ঘৃণামূলক প্রচার: সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণহীন স্বাধীনতা কখনও বিভ্রান্তি ও সহিংসতা বাড়াতে পারে।
২) জাতীয় নিরাপত্তা: কিছু তথ্য প্রকাশ রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা কূটনৈতিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
৩) নৈতিক দায়িত্ব: সাংবাদিকদেরও সত্য যাচাই, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা জরুরি।
তাই অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, সাংবাদিকদের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা দেওয়া উচিত, তবে সেটি হতে হবে নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের কাঠামোর মধ্যে। অর্থাৎ, রাষ্ট্র যেন সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়, আর সাংবাদিকরা যেন সেই স্বাধীনতাকে দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করেন।

সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




