চিকন করিডোরটা ধরে কী যেন ভেবে অন্যমনস্কভাবে হাঁটছিল অর্চি, আচমকা টান পড়ল হাতে- মোটা কলামটার পিছনে নিজেকে আবিষ্কার করল ওই হ্যাংলা লম্বা ছেলেটার অনেক কাছে গলা জড়িয়ে আর তারপর সেই সিগ্রেট ফুঁকা গন্ধওয়ালা ওষ্ঠ নেমে এল ওর অধরে! মনে হয় ওর ভীত-বিস্মিত দৃষ্টি দেখেই মাটিতে নামিয়ে দিয়ে হাসান চলে যেতে যেতে বলল- ভাবিস না, যা করেছি তার জন্যে আমি অনুতপ্ত! তোকে এই বুকের মাঝে নিয়ে পিষে ফেলতে ইচ্ছে করে!
আগুন ভরা দৃষ্টি নিয়ে চলে গেলেও অর্চির মনে আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে গেল! মাঝে মাঝেই ও ভাবে- হাসানের চোখের ওই আগুনের নাম কি ভালোবাসা? এতটুকু জীবনে ওর যা জানা তাতে তো মনে হয়েছে ভালোবাসার দৃষ্টি হবে স্নিগ্ধ, মধুর আর মুগ্ধ! কিন্তু একী! সারা কলেজ আর ভার্সিটির সময়ে যারা ওর দিকে পলক না ফেলা মুগ্ধ চোখে তাকিয়েছে তাদের প্রতি তো ওর কোন আকর্ষণ কাজ করে নি। কেন হাসানের ওই চোখের আগুন যা ওর মনে কেবল শঙ্কা তৈরী করে তাতেই ওর ঝাঁপ দিতে ইচ্ছে করে!
আজ হাসান আর অর্চির বিয়ে। ভালোবাসার আগুনে জ্বলে-পুড়ে ছাই হতে বাবা-মা-আত্মীয় স্বজন পিছনে রেখে চলে এসেছে অর্চি হাসানের কাছে! শুধু ওর ভয় হয়- এ আগুন সারাজীবন থাকবে তো! কখনো ম্লান হয়ে যাবে না তো!
(ছবি পেলাম যেথায়)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


