somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

না পৌছানো চিঠি

০৮ ই অক্টোবর, ২০১৮ সকাল ১০:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রিয়,
আমার শুভ কামনা তোমার বর্ণাঢ্য জীবনের কোন এক অচেনা অন্ধগলিতে মশালের অগি্ন শিখার কম্পমান আলোর মতো আলোকিত করুক। কামনার শুভ আশীষ শুধু চিঠির প্রারম্ভিক নিয়মতান্ত্রিকতা বজায় রাখার তথাকথিত প্রচেষ্টা নয় বরং আমার হৃদয়ের একান্ত চাওয়া। চোখেতে ভালো লেগেছিলে, স্মৃতিতে ছবি গড়েছিলে, নয়নের পথ ধরে মনের আঙ্গিনায় নীরবে কখন এলে ও প্রেয়সী ও প্রিয়তমা। জানো জীবনে কতো মুখেইনা দেখেছে এ পোড়া দু-চোখ অথচ তোমাকে দেখলাম সবার চেয়ে আলাদা করে। হয়তো এখন দুজন পরস্পরের অজানা। তবুও আমি আশা রাখি একদিন হয়তোবা প্রেমের ডোরে বাধঁবা আমারা একটি অভিন্ন স্বপ্নকে। সে বাঁধনে ভালোবাসা থাকবে সদ্যজাত মুখায়বের মতো পবিত্র আর নির্মোহ। প্রশ্ন করেছি নিজেকে কেন ভালবাসি তোমায়, দুর্বোধ্য হৃদয়ের যে স্থান জন্মাব্দি বিচ্ছিন্ন আরামহীন জনপদ ছিল েেসখানটায় কী অনায়েসেই ঢুকে পড়লে তুমি বিন্দু মাত্র টের পাইনি। বিশ্বাস কর অবাক বিস্ময়ে দেখেছি অনেক ভালোত্বকে লালন করেছ তুমি। প্রথমে তোমার ভালোত্বকে ভালোবাসা পরে তোমাকে । তোমার কথাবলা, একাগ্রচিত্তে পথচলা, তোমার বুদ্ধিদীপ্ত চোখের দুষ্টোমির ঝিলিক আমার খুব ভালো লাগে। তোমার ঝরণার ছন্দ তুলে হেঁটে চলা কিংবা চুল দুওলিয়ে হাটা আমার কাছে স্বতন্ত্র মনে হয়। জানো কঠিন বাস্তবতার নগ্ন শাস্ন এক এক করে মানুষের সব কাছের মানুষ গুলোকে দূরে সরিয়ে দেয়। প্রিয় মুখগুলো তখন স্বার্থপরের মোত হারিয়ে যায়, ফাঁকি দেয়। বিশ্বাস করো তুমি আমি সত্যি হারাবো না।তোমার কাছ ঘেসষ থাকবো। হয়তো অনুভবে কিংবা স্বপ্নলোকে আততায়ী হয়ে। তোমার একাকিত্বের নিষ্ঠুর সময় আর কষ্টের দিন গুলোতে আমি বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখাবো তোমায়, বুঝাবো জীবন এতো তাড়াতাড়ী শেষ হয়ে যায় না। এ আমার বাস্তব প্রতিজ্ঞা আবেগের মিথ্যা আশ্বাস নয়। আমি জানি ক্রম থেকে ক্রমন্বয়ে আমায় দূরে ঠেলে দিবে তুমি কিংবা আমি নিজেই হারিয়ে যাবো তোমায় থেকে। নিষ্ঠুর সময় হয়তো আরো ব্যবধান তৈরি করবে তোমাতে আমাতে। সেটাকে ভাগ্যের অমোঘ সত্য বলে ধরে নেওয়া ছাড়া আমার কি-ইবা করার আছে বলো? পাবার আশায়তো ভালোবাসিনি তোমায় বরং তোমাকে আমৃত্যু দিয়ে যাবো। কিছু দিতে পারার সুখ নিয়ে অনন্তকাল ধরে বেঁচে থাকবো তোমার স্মৃতিতে, তোমারই খুব কাছে। এমন ভালোবাসা পেলে পৃথিবীর কার না বুক কানায় কানায় ভরে যায়। আমি জানি তোমার বুকও ভরে উঠবে আর আমার বুকের খবর নাইবা শুনলে, আমার কোনো কষ্ট নেই তাতে। আমি বরং সুখী তোমায় বুঝতে শিখেছি তাতে তোমাকে না জানিয়ে তোমার উদ্দেশ্যে এই চিঠি লিখলাম। তুমি হয়তোবা বলবে যে, তোমার ছোট্ট সুন্দর তুলতুলে সবুজ ঘাসের ন্যায় কোমল বুকে ভালোবাসা নামের যে ভারী জিনিষ চাপিয়ে দিচ্ছি আর এই ভালোবাসার তীব্রতা তুমি সহ্য করতে পারবে কি পারবে না তা আমি জানিনা তবে আমি সইতে পারবোনা। আমায় ক্ষমা করে দিও। বিশ্বাস করো, নিজেও জানতাম না ভালোবাসার ক্ষমতা আর আগ্রাসন এতো বেশি। বিশ্বাস করো, জীবনের নিজস্ব নিয়মের বিরুদ্ধে বিদ্রেুাহ করার শক্তি কিংবা সাহস কিছুই নেই আমার। তাই কঠিনকে ভালোবাসা কিংবা ভালোবাসতে পারাতো কঠিনের চেয়েও কঠিন। আনাড়ীপনার জন্য যদি মাঝ পথে বিরক্ত আসে, যদি বিষাদে ভরে যায় বুক, ক্লান্তিতে নুয়ে যায় চোখের পল্লব তবে তো কঠিন তার কাঠিন্য হারাবে। হবে বিদীর্ণ। ফলশ্রুতিতে সে ধবংশ স্তুপ থেকে ভালোত্বটুকু কর্পুরের মতো উওড়ে যাবে। ছাই ভস্ম কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না । তাইতো তোমার ভূমিকা সম্পূর্ণ পালটে দিতে পারে কাঙ্খিত দৃশ্যপট। কলকাঠিতো তোমারই হাতে। আমার মুখয়বে কঠিন ভালোত্বটুকুর বহিঃ প্রকাশ কী অর্থ বহর করে এ প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত জানিও বিস্তারিত। প্রিয় শূন্যতা আর শূন্যস্থান আমায় যুক্তিতেই দুটোই এক দৃষ্টি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। বিশ্বাস করো শূন্যতাকে পূরণ করতে আমায় হৃদয়ে তোমাকে আমন্ত্রণ করিনি। এতে দৃষ্ঠতা আমার নেই। তোমার আগমন আমার হৃদয়ে চৈত্রের তাপদাহে আদ্রতা হারানো মরুভূমিতে নয় বরং যেথায় এখানে বসন্ত, কণ্ঠ থামিয়ে দেয়নি কোকিল, দক্ষিণের বাতাস আজো খেলা করে আঙ্গিনায় তোমায় আমন্ত্রণ সেথায়। আমাকে ভুল বুঝাবো কারণ সবারটা জানিনা আমার হৃদয়ের পাশাপাশি তবে প্রমাণ পাবে কোন একদিন। বিশ্বাস করো কিনা জানি না, স্বপ্ন লালন করে বেঁচে থাকার মজাটাই আলাদা। আমার স্বপ্নরা ফিনিক্স পাখি হয়ে উড়ে চলে গেছে আমার আকাশসীমা থেকে অনেক দূরে। কিন্তু আমার কোন দুঃখ নেই তাতে। চলে গিয়ে যা কিছু রেখে গেছে তা দিয়ে অনায়েসেই কেটে যাবে অনন্ত সময়। শরৎবাবু তার কোনো এক উপন্যাসে আমার জন্য একটা বিশেষ উপদেশ রেখে গেছেন। উক্তিটি আমার খুব বেশি প্রিয় হয়ে উঠেছে ইদানিং। তা হলো "স্বেচ্ছায় নেয়া দঃখকে ঐশ্বর্যের মতো ভোগ করা যায়"। এখন আমি তাই করি। প্রিয়, যে ভাবে লিখলে তোমায় সহজ সরল চটপটে মন আমার একান্ত নিশ্চুপ ভাষাগুলো বুঝে ফেলবে অতি সহজেই সেই ভাবে লিখেছি। তুমি যখন আমাকে সত্যিকারের বুঝতে পারবে,সুখ কিংবা দুঃখকে আরো একান্তে অনুভব করবে, প্রিয়জনের দেয়া কষ্ট তোমাকে কাঁদাবে তখন তোমার সব কষ্টকে মুছে দিতে খুব সুন্দর চিঠি লিখবো। সাদা কাগজে গুছানো অক্ষরগুলো দিয়ে লেখা সে চিঠি তোমাকে কষ্ট পেতে দিবে না। জড়িয়ে রাখবে আমার ভালোবাসার মতো করে। পরিশেষে জীবনের স্বাভাবিক গতিময়তায় একদিন নতুন বন্ধু আসবে তোমার হয়তো জীবন সাথী। সেদিন আমার সেরা প্রার্থনা থাকবে তোমাদের দু'জনকে ঘিরে। এভাবে পুরোনো কেউ পড়ে যাবে শব প্রেম জালে। এটাই জীবন, এটাই প্রেম। ভালো থেকো। শুভকামোনায় তোমারই একান্ত প্রিয়জন।
ইতি,
শূন্য
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই অক্টোবর, ২০১৮ সকাল ১০:০৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধার্মিক কে অনুসরণ করুন ভন্ডকে নয় ।

লিখেছেন কিরকুট, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৮

আমরা প্রায়ই নিজেদের ধর্মপ্রাণ জাতি বলে পরিচয় দিতে ভালোবাসি। কিন্তু প্রশ্ন হলো ধর্ম কি সত্যিই আমাদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও সত্যের পথে পরিচালিত করতে পারছে, নাকি কিছু অসভ্য মানুষ ধর্মকে নিজেদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য সাইলেন্ট ইকো

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:১০


এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও ফিকশনাল ইনভেস্টিগেটিভ ক্রাইম থ্রিলার। গল্পের সমস্ত চরিত্র, প্রতিষ্ঠান, স্থান, সাল ও অপরাধের মোটিভ লেখকের কল্পনানির্ভর। বাস্তব কোনো ব্যক্তি, পেশাজীবী বা অমীমাংসিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ক্যাপাসিটি চার্জের পর এবার নজর খাম্বায়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:০৩


বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগের শেষ নেই । বিশেষ করে যারা নির্দিষ্ট বেতনে সংসার চালান কিংবা যেসব পরিবারে কেবল একজন মাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আছেন, তাদের মাসে প্রিপেইড মিটারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কে হবেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:৫৯



কে হবেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি?

বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি পদটি সংবিধানের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন যোগ্যতার চেয়ে দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতেই বেশি হয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাকরির জন্য সুপারিশ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৫৮



গত কয়েকদিন যাবত ফেসবুক, ইউটিউব সহ অনলাইন সকল পত্র-পত্রিকা, টিভি নিউজ সহ এমন কোনো স্থান বাদ নেই যেইখানে এক ব্যক্তির রাজনীতি, সাংসদ, সংসদ, চরিত্র, বিবাহ, কাবিন নামা, প্রথম স্ত্রী,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×