আমার বন্ধু শিহাব!
শিহাবের বিয়ের বয়স পার হতে চলেছে। আঙ্কল-আন্টি কোনো ভাবেই শিহাব কে বিয়ে দিচ্ছে না। এদিকে একে একে দুই দুইটা গার্লফ্রেন্ডের বিয়ে হয়ে গেছে। শিহাব অতি চিন্তিত তার ভবিষ্যত নিয়ে আদৈ কি সে বিয়ের পিড়িতে বসতে পারবে নাকি আজীবন চিরকুমার হয়ে থাকতে হবে।
বিবিধ চিন্তায় মশগুল শিহাব কঠিন একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে বসলো, যে কোনো মুল্যে বিয়ে তাকে করতেই হবে!
পরের দিন রাতে হঠাৎ শিহাবের রুম থেকে বিকট চিৎকারের আওয়াজ ভেসে এলো। বাচাও! বাচাও! আমাকে নিয়ে যেও না! আমি বিয়ে করবো না, বিয়ে করতে চাই না ইত্যাদি কথা কানে আসলো আঙ্কেল-আন্টির।
আঙ্কেল-আন্টি শিহাবের রুমে গিয়ে যা দেখল তাতে অবাক না হয়ে পারল না। শিহাবের হাত-পা বাধা খাটের সাথে, জানালা ভাঙ্গা, শিহাবের গলায় বিয়ের মালা আর মাথায় বিয়ের টোপড়!
তখন ও শিহাব চিৎকার করে যাচ্ছে। আন্টি শিহাবের মাথা কাছে গিয়ে বলল, "বাবা, কি হয়েছে তোর? তুই এমন করসিস কেন? শিহাব চোখ খুলে বলল, আম্মু আমাকে বাচাও, ঐ ডায়নী আমাকে বিয়ে করতে চায়। আমাকে ওদের দেশে নিয়ে যেতে চায়। আমি ঐ কালো ডায়নী কে বিয়ে করব না। আমাকে বাচাও........."
আন্টি খানিক টা ভয় পেয়ে গেল এই ঘটনায়! আঙ্কেল কোনো কথা বললেন না, চুপ করে কি যেন ভাবলেন এবং রুম থেকে চলে গেলেন। আন্টি সারা রাত শিহারের রুমে বসে শিহাব কে পাহারা দিলেন।
পরের দিন শিহাব তার প্রানের বন্ধু মাহবুব কে ফোন দিয়ে বলল, "মামা, তোর প্লান কাজে আসছে। আব্বু সকালে দেখি বড় মামাকে নিয়ে আমার রুমে আসছে। বড় মামা আমাকে বলছে, আজ বিকালে তোর জন্য মেয়ে দেখতে যাবো। বিকালে কোথাও যাইস না। পছন্দ হলে আজ ই কাবিন করিয়ে বউ নিয়ে বাসায় আসব।"
আর এই বিয়ের খুশি তে শিহাব দেড় মাস পাগল ছিল। বাসা থেকে বউ ছেড়ে বের হত না, তার বন্ধু বান্ধব ফোন দিলে তাকে পাইত না। সে বন্ধু-বান্ধব থেকে কাট অফ হয়ে গেল। আস্তে আস্তে সে বউ পাগল হিসেবে বন্ধুদের কাছে পরিচিতি লাভ করল।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



