১৯৮১ সাল
প্রথমে তাকে হত্যা করার জন্য খাবারে বিষ মেশানো হলো। শ্বদন্ত আরতির ষড়যন্ত্র ধরা পরে গেলো। কিন্তু বিষাক্ত নাগিনী ফনা তুলে বসেই ছিলো, ছোবল সে মারবেই। খুন সে করবেই বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা, উন্নয়নের রূপকার জিয়াউর রহমানকে। গভীর রাত। ভোর হতে তখন আর বেশী বাকী নেই। মুআজ্জিন প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভোরের আজানে সব অন্ধকার দূর করবেন কিছুক্ষনের মধ্যেই। কিন্তু এজিদের দল দিনের আলো ভয় পায়। রাতের অন্ধকার তাদের আজিবন সংগী। ষড়যন্ত্র তাদের তপস্যা। তাই রাতের আঁধারে হানা দিয়েছে ঘুমন্ত জিয়ার রুমে। এ সেই সীমার যার সাথে একই টেবিলে বসে রাতের খাবার খেয়েছিলেন। হেসেছিলেন, বুক মিলিয়েছেন, পিঠে হাত বুলিয়ে দিয়েছেন।
জিয়াউর রহমান শাহাদাত বরন করেছেন। তার লাশ দেখে তার সন্তানেরা কান্নায় ভেঙে পরছে। মাথায় আকাশ ভেঙে পরলো। দিশেহারা হয়ে গেছে। শোকে মাতম করছে। সারাদেশ শোকে মুহ্যমান। পিতার লাশ দেখে দুই ভাই মুর্ছা যাচ্ছেন। মহান আল্লাহর কাছে কেঁদে কেঁদে পিতার জন্য প্রার্থনা করছেন।
২০০৯ সাল
ড. ওয়াজেদ মিয়া। দীর্ঘদিন ধরে কিডনির সমস্যাসহ হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। বেশ কিছু দিন ধরে প্রায় মৃত্যুশয্যায় শায়িত হয়ে আছেন। ৬৭ বছর বয়সের বৃদ্ধ হাসপাতালে শুয়ে শুয়ে মৃত্যর দিনক্ষন গুনছেন। অত্যাধুনিক স্কয়ার হাসপাতালের আধুনিক কেবিনে নিঃসংগ হয়ে মাঝে মাঝে জানলা ধরে তাকিয়ে থাকেন দূর দিগন্ত পানে। মেয়ে কানাডায়, ছেলে আমেরিকান ইহুদী বিয়ে করে সেটেল্ড ডাউন। স্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, ভারতের সাথে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রাখতে গিয়ে মৃত প্রায় স্বামীকে ভুলেই থাকেন। ৯ মে তিনি ইন্তেকাল করলেন। সারাদেশের রাজনৈতিক নেতারা, সুশীল সমাজ গেলেন শ্রদ্ধা জানাতে। কিন্তু নিঃসংগ ওয়াজেদ মিয়ার বড়ই দূর্ভাগ্য তার একমাত্র পুত্র সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় আমেরিকায় খুবই ব্যাস্ত দিন কাটালেন সেদিন। পিতার লাশ শেষবারের মতো দেখার সময় তার নেই। প্রকৃতির নিয়মে ওয়াজেদ মিয়াকে সাড়ে তিন হাত মাটির ঘরে শুইয়ে রাখা হলো।
নোংরা রাজনীতিকের নোংরা মন
আজ একজন রাজনীতিকের পিতা, যিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা করেছিলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাস্ট্রপ্রধান ছিলেন। তার লাশ দেখে তার সন্তানেরা কাঁদেনি বরং দর কষাকষি করেছে বলে যারা বিবৃতি দেয় তারা অন্তত সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ নয়। অসুস্থ এইসব মানুষ ও তাদের এই প্রলাপ আসলে নিজেদের নেতার পরিচয়ই প্রকাশ করে পক্ষান্তরে। উপরের দুটি ঘটনা থেকে আপনারা অনুধাবন করতে পারবেন পিতার প্রতি কার ভালোবাসা আছে আর কার নেই। বাংলাদেশ মুক্তি পাক এসব অসুস্থ মস্তিষ্ক বিকৃত মতিয়া, তোফায়েলদের হাত থেকে।
থুথু উপরের দিকে ছিটালে নিজের গায়েই পরে
প্রিয় সাজিব ওয়াজেদ জয়, আমার এই পোস্ট টি আপনাকে হেয় করার উদ্দেশ্যে নয়। আপনি আপনার পিতার লাশ দেখবেন কি দেখবেন না। আপনার পিতার লাশ নিজ হাতে কালেমার সাথে কবরস্থ করবেন কি করবেন না। এটা সম্পূর্ন আপনার ব্যাক্তিগত বিষয়। কিন্তু আপনার লেলিয়ে দেয়া কুকুরেরা যখন অন্যের ব্যাক্তিগত বিষয় ও আবেগ নিয়ে নোংরা কথা বলে। পাশাপশি একজন শহীদ দেশপ্রেমিক ও তার পরিবার নিয়ে না জেনে না বুঝে মিথ্যা বয়ান করে তখন আমাদের খুব ঘৃনা হয় আপনাদের প্রতি। ঘৃনা হয় কি ধরনের কুকুর আপনি লালন পালন করছেন তা ভেবে। তাই মনে রাখতে হবে থুথু উপরের দিকে ছিটালে নিজের গায়েই পরে।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে এপ্রিল, ২০১৪ রাত ১২:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



