পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের টুকরো
এই প্রতিবাদ সভায় শামীম ওসমান বলেন, ‘আমি মাঠে নামতে পারি। তবে আমি মাঠে নামব না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার সব। আমি প্রধানমন্ত্রীকে সব জানিয়েছি। তিনি সব হারিয়েছেন। তিনি নজরুলের স্ত্রী-সন্তানসহ অন্যদের মতো সব হারানোর ব্যাথা বোঝেন। ভাই নাসিম ওসমানের মৃত্যুর পর আমার মানসিক ও শারীরিক অবস্থা ভালো না। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই ঘটনার পেছনে-আগে-পরে যারা আছে, তাদের খোঁজে বের করা হবে। কেউ পার পাবে না।’
‘আমি অসহায় বোধ করছি। আমি আসলেই অসহায় বোধ করছি। তবে আমি আমার জন্য চিন্তা করি না। আমি আমার জন্য চিন্তা করি না। হায়াতের মালিক আল্লাহ। নারায়ণগঞ্জকে এভাবে চলতে দিতে পারি না। এর শেষ দেখতে চাই। আমি মাঠে নামব। আল্লাহকে হাজির-নাজির করে আপনারা ওয়াদা করেন, আপনারা আমার সঙ্গে থাকবেন। আমি শামীম ওসমান। শামীম ওসমান কাউরে কেয়ার করে না।’
খারাপ মানুষের ভালো গুণ
শামীম ওসমান আপনি বেঁচে থাকুন। আপনার জন্য আমার দোআ রইলো। সবাই জানে যে আপনি খুব খারাপ। কিন্তু এটা জানেনা খারাপ মানুষেরও ভালো গুন আছে। আমি আপনার মাঝে অনেক ভালো গুন দেখি। দৈনিক নয়া দিগন্তে প্রকাশিত আপনার বক্তব্যের পুরোটাই মনযোগ দিয়ে পড়েছি। আমি চেস্টা করি আপনার বক্তব্য সবসময় মনযোগ দিয়ে পড়ার। আমি আবিষ্কার করি কি অবলীলায় একজন মানুষ এতো সুন্দর সত্য বলতে পারে। সত্য বলা খুব কঠিন। সবাই সত্য বলতে পারেনা। সত্য বলা একটা শিল্পও বটে। আপনাকে আমার মনে হয় একজন শৈল্পিক সত্যবাদী। আপনি কিছুই লুকান না। আপনার মনের গহিনে কোন কিছু লোকানোর স্বভাব আপনার নেই। আপনি যা বলেন মনের ভেতর থেকেই বলেন। আপনি আইভীকে পছন্দ করেন না সেটা আপনি প্রকাশ্যেই বলেন। আপনি হাড়গুর ভেঙ্গে নদীতে ভাসিয়ে দেবেন। ঠ্যাং ভেঙে পকেটে ঢুকিয়ে দিবেন। এই যে শৈল্পিক সাহসী কথা বার্তা তা আপনাকেই মানায়। আমার ধারনা উপমহাদেশে এমন সাহসী কথা বলার মতো রাজনীতিবিদ আর নেই। আফসোস মুজিব কাক্কুর যদি আপনার মতো সাহস থাকতো তাহলে আজ স্বাধীনতার ঘোষকের পদটা জোর করে ছিনিয়ে নেয়ার যে আওয়ামী প্রচেস্টা তার কোন প্রয়োজন পরতো না।
শামীম ওসমান-শেখ হাসিনা সুসম্পর্ক
শামীম ওসমান আপনার বক্তব্য পড়ে স্পষ্ট বুঝতে পারলাম শেখ হাসিনার সংগে আপনার সম্পর্কে কোন খাদ নেই। সোনায় খাদ থাকতে পারে কিন্তু শামীম-হাসিনায় কোন খাদ নেই। আপনি বলেছেন আপনার শক্তি শেখ হাসিনা। আমিও বিশ্বাস করি আপনার শক্তি শেখ হাসিনা। আপনি আরো বলেছেন শেখ হাসিনাই আপনার সব। আমরা সেটা আগে থেকেই জানি যে শেখ হাসিনাই আপনার সব। তা নাহলে বিগত ৪ দলীয় জোট সরকারের সময়ে আপনি দেশছাড়া থাকার কথা নয়। আপনি যে খালেদা জিয়ার ভয়ে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন তারপর হাসিনার সময়ে যখন দেশে বীর বিক্রমে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন তখনইতো বুঝতে পেরেছি হাসিনাই আপনার সব। আপনি আরো বলেছেন যে আপনি নারায়নগঞ্জে ৭ গুম-খুনের ব্যাপারে সব জানিয়েছেন। খুবই আনন্দিত হয়েছি যে তৃনমূলের একজন ত্যাগী আওয়ামী নেতার সাথে দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেত্রীর এমন সম্পর্ক দেখে। নিশ্চয় বাংলাদেশের রাজনীতিতে এ এক নতুন দিগন্তের উম্মোচন করবে। এই যে গুমনেত্রী সরাসরি আপনার কাছ থেকে খবর নিলেন, নিলেন না কোন আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে, এ থেকেই প্রমান হয় নেত্রীর কত অগাধ বিশ্বাস ও ভালোবাসা আপনার প্রতি। খুব ভালো লাগলো। আপনি আরো বলেছেন স্বজন হারানোর বেদনা নেত্রী বুঝেন। এটা একদম সত্যি কথা। স্বজন হারানোর বেদনা তিনি বুঝেন বলেইতো প্রত্যেকদিন দেশে গুম-খুন হচ্ছে। তিনি যদি না বুঝতেন তাহলে কি এদেশে কেউ গুম খুনের শিকার হতেন।
কিঞ্চিত ভিন্ন প্রসংগ: জানতে হলে পড়তে হবে
তখন ফখর-মইন যুগ চলছে। খালেদা-হাসিনা-নিজামী সবাই জেলে। ফুলটাইম পলিটিশিয়ানরা হঠাৎ করে ফুলটাইম বেকার হয়ে পরেছেন। যেহেতু ধানমন্ডিতে বাসা ছিলো সে হিসেবে মাঝে মাঝে এক ছাত্রলীগ বন্ধুর সূত্র ধরে হঠাৎ বেকার হয়ে যাওয়া ফুলটাইম পলিটিশিয়ানদের ভীরে আড্ডা দিতে যেতাম ২৭ নাম্বারে। ওখানে শেখ হাসিনার ব্যাক্তিগত সহকারীদের মধ্যে কয়েকজন প্রায়ই আসতেন। তাদেরকে কেন্দ্র করেই এই আড্ডাটা জমে উঠতো। বেশীরভাগ নেতাকমীরা তো তখন পলাতক। তো ওখানে যারা আসতেন তারা লো প্রোফাইল কিন্তু শিক্ষিত ও পরিষ্কার ভদ্রলোক। আমি আবার পড়াশোনা করেন এমন নেতা-কর্মীদের খুব পছন্দ করি তা যেকোন দলেরই হোক । আজ মনে পড়ছে শেখ হাসিনার এক ব্যাক্তিগত সহকারীর ব্যাগে একবার চারটি বইয়ের মধ্যে গোলাম আযম ও মওদুদীর লেখা দুইখানা বই দেখে যারপর নাই আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম এই বস্তু দুটি আপনার ব্যাগের মধ্যে কিভাবে উপস্থিত হলো? তিনি উত্তরে যা বলেছিলেন টা আমার কাছে এখনো শিরোধার্য, "রাজনীতি করতে হলে জানতে হবে, আর জানতে হলে পড়তে হবে।" ধন্যবাদ নেতা আপনাকে, একটা ভালো জিনিস শিখেছিলাম। বেকারদের আড্ডার বেশীরভাগ আলোচনা হতো কে কিভাবে ক্ষমতায় আসবা কিংবা আসতে চায় তা নিয়ে। তো নেত্রী ছিলেন সেইসব আলোচনার বিষয়বস্তু। তো একবার একজন নেত্রী সম্পর্কিত অনেক গল্পের মধ্যে একটি গল্প বলে নেত্রীর চরিত্রের ছোট-খাটো একটি দিক ফাঁস করে দিয়েছিলেন। সেটাই বলবো এখন।
এইবার গল্পটা বলি
ধরুন কোন অঞ্চলে কোন বিশেষ খারাপ নেতা মাথা চারা দিয়ে উঠেছে। চাঁদাবাজি, খুন, ধর্ষন হাতের ময়লার মতো চালিয়ে যাচ্ছেন। ছিনতাইকারীরা নিয়মিত মাসোহারা দিচ্ছে শেল্টারের বিনিময়ে। থানার দালালী করে কামাই করছেন। ভুমি দখল, টেন্ডারবাজী ইত্যাদি করে দলের বারোটা, ভাবমূর্তির তেরোটা বাজিয়ে চলছেন। করছেন গ্রুপিং, সিনিয়দের দেখাচ্ছেন বুড়ো আংগুল। তার প্রতাপ ও প্রভাবে সাধারন সহ দলীয় নেতাকর্মীরাই চুপ করে আছেন। কাউকে কেয়ার করেন না। তো ঐ এলাকার অতিষ্ঠ সিনিয়র নেতারা বহু কষ্টে আ্যপয়েন্টমেন্ট নিলেন নেত্রীর। নেত্রীকে কদমবুছি করে ঐ কুলাংগার নেতার সমস্ত হিসাব নিকাষ বুঝিয়ে দিলেন নেত্রীকে। বিচার চাইলেন নেত্রীর কাছে। বললেন দলকে বাঁচাতে, দলের ইজ্জত রক্ষা করতে। এলাকার সাধারন মানুষ ছি-ছি, রি-রি করছে আওয়ামীলীগকে। নেত্রীকে একটা বিহিত করতে হবে।
নেত্রী এসব আকাম কুকামের কথা শুনে রেগে ফেটে পড়েন, তারপর বলেন যে, দে আমাকে তোরা, ঐ কুলাঙ্গারের নাম্বারটা দে। আমি এখনি ব্যবস্থা করছি। তোরা বাড়ী যা দলের জন্য কাজ কর। তোরা আছস বলেইতো দল আছে।
এরা অফিস থেকে বের হওয়ার পরে।
এবার তিনি ঐ সন্ত্রাসী কুলাংগার নেতার নাম্বারে ফোন ঘুরাবেন। ওপ্রান্ত থেকে হ্যালো শুনে নিজের পরিচয় দিয়েই, কুত্তার বাচ্চা, শুওরের বাচ্চা থেকে শুরু করে খুনকির পুত হয়ে , তোর মায়েরে.... তোর বাপরে ..... করার পরে বলবেন কি শুরু করেছিস? মনে করিস আমি কিছু জানিনা। তোদের জন্য আমার দলের এই অবস্থা! ঐ পাশের কুলাঙ্গার নেতাটার মনে করেন পেট খারাপ হয়ে যাবার অবস্থা। নেত্রী গালি দিচ্ছেন বিষয়টা ভাবলেই তো বুঝা যায় কার কি অবস্থা হবে। এটা হচ্ছে নেত্রীর স্টাইল, কদমবুছি নেয়াটা যেমন স্টাইল, তুই তোকারী করাটাও স্টাইল। মায়েরে-বাপ পাকিস্তান টাইপ কথা বলাটাও নেত্রীর স্টাইলের আওতায় পরে।
যাই হোক এবার নেত্রী একটু আস্তে করে বলেবন, আমার যে দল চালাতে হয়। আমার যে কত খরচ আছে, কিভাবে চলে, তার কি কোন খবর রাখস তোরা। আমার ভাগ কই। আমার নাম ভেংগে ব্যাবসা করিস আমার ভাগ কই? তুই জলদি করে আমার ভাগটা পাঠিয়ে দে। এইসব ভাগের হিসাব হ্যান্ডেল করার জন্যও লোক আছে।
প্লিজ গল্পটি কেউ বিশ্বাস করবেন না
খুবই অবাক হচ্ছেন। বিশ্বাস করছেন না। আমিও বিশ্বাস করিনি। কিন্তু এরপরে ঢাকা শহরের শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাতের খুব কাছের একজনের কাছ থেকে যখন শাহাদাতের সাথে নেত্রীর ফোনালাপের কয়েকটা বাক্য শুনেছিলাম তখন বিশ্বাস করতে বাধ্য হয়েছি (পরে একদিন শেয়ার করবো ঐ গল্পটা)। আজ যখন শামীম ওসমান বলেন নেত্রীকে সব জানিয়েছি, নেত্রীকে সব বলে দিয়েছি। নেত্রীই আমার সব। তখন বিশ্বাস করতে বাধ্য হই। তখন চরম অবিশ্বাস্য গ্রন্থ "আমার ফাঁসী চাই" বিশ্বাস করতে বাধ্য হই।
আমার উপরের বক্তব্য কাউকে বিশ্বাস করতে হবে না। জোড় করে কারো মধ্যে বিশ্বাস আনতে চাইনা। এবং আমিও এগুলো বিশ্বাস করতে চাইনা। কারন আমাদের রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের আমরা একটা ভীষন শ্রদ্ধার জায়গায় বসিয়ে রেখেছি। আমরা সেই শ্রদ্ধাটা নষ্ট করতে চাইনা। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস আজ যখন শামীম ওসমান, জয়নাল হাজারী, আবু তাহের, কক্সবাজারের বদি ইত্যাদি ব্যক্তিবর্গেরা কথা বলেন তখন উপরোক্ত গল্পটি বিশ্বাস না করে পারিনা। এমনকি এই গল্পের বাইরেও অনেক কিছু বিশ্বাস করে নিতে হয়।
বেঁচে থাকুক শামীম ওসমানেরা
তাই আমি মন থেকে দোয়া করি। শামিম ওসমান আপনি বেঁচে থাকুন। শামীম ওসমানদের বেঁচে থাকা খুব দরকার। এরা না থাকলে এদেশের রাজনীতির রাজাধিরাজ, রানীধিরানীদের আমরা চিনতে পারতাম না।
ঐ সমাবেশে তিনি আরো বলেছেন, ‘আমি শামীম ওসমান। সুফিয়ান-হোসেন, গুন্ডাপান্ডাদের শায়েস্তা করার জন্য আমি একলাই যথেষ্ট।’ এই গুম-খুন মামলার এক আসামী ইকবাল বিএনপি করে। সে নির্বাচনের আগে রেব-১০কে এক কোটি টাকা দিয়ে নজরুলকে ধরে নিয়ে গেছে। পরে আমাকে ফোন দিলে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে কথা বলে তাকে ছাড়িয়ে আনি। এবং আরো নিশ্চিত করেন "আমার শক্তি হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
[এই পোস্টে শামীম ওসমান শুধু একজন ব্যক্তি নয়, শামীম ওসমান একটা প্রতীক। কারন শামীম ওসমানেরাই লেডী লেন্দুপদের মতো রাজনীতিবিদদের পেশী শক্তি। আপনারা সবাই জানেন এরকম শামীম ওসমানের অভাব নেই বাংলাদেশে। বিগত ৭/৮ বছরে লেডী লেন্দুপের হাত ধরে ডজন ডজন শামীম ওসমানদের আবির্ভাব ঘটেছে, আরো হয়তো ঘটবে।]

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



