ঃ এই, একটা ভালোবাসার গল্প বলো।
ঃ ধ্যাত ! কাজ করতে দাও।
ঃ বলো না, কাজ তো সারাক্ষনই করো!
ঃ ভালো যন্ত্রনায় পড়া গেলো দেখি!
ঃ [হাসি] , তোমাকে জ্বালাতে দারুন মজা !
ঃ [হতাশ] তাই তো দেখা যাচ্ছে। আচ্ছা, এই রিপোর্টটা লিখে নেই?
ঃ [রাগত ] অবশ্যই! [ উঠে চলে যেতে নেয়]
ঃ [হাত টেনে] , ক্ষমা করো হে , ক্ষমো ক্ষমো , হে প্রিয়তম !
....................................................
ঃ আচ্ছা। এইটা কিন্তু তোমার আমার গল্প না।
ঃ তাহলে কার?
ঃ ইমন নামের একটা পাগল মেয়ের । পুরা ছিট গ্রস্থ । রাচী না প্রাচী , কই থেকে উড়ে আসা পাখি।
ঃ কোকিল?
ঃ আরে নাহ! অত অসাধারন কিছু না। কাক , অথবা চড়ুই হবে হয়ত ।
ঃ নাহ, মানুষের গল্প বলো।
ঃ আচ্ছা , তাহলে মানুষ । কিংবা , মেয়ে মানুষ।
ঃ মেয়ে মানুষ কি জিনিস?
ঃ মানে, মানুষের মত, আসলে মানুষ না।
ঃ তাহলে ঊণ্মানুষ? নাকি না -মানুষ?
ঃ ধুরু, এই রকম বিরক্ত করলে বলবো না কিন্তু!
ঃ আচ্ছা, এই মুখে কুলুপ ।
....................................................
ঃ হুম! তো সেই মেয়ে মানুষটা , চড়ুই এর সাথেই যার বেশি মিল আছে , সারাক্ষণ ছটফটানি। এই গাইছে তো ঐ কবিতা আওড়াচ্ছে , এইটা তার গল্প। গল্পে ধরো গিয়ে একটা ঘর আছে । ঠিক আছে? তো সেই ঘরে কোন আসবাব নেই। সব, মেঝেতে । বুঝলা। টেবিল , চেয়ার কিচ্ছু নেই । আলমারি একটা কোন কালে কেউ দিয়েছিলো, দাদী না নানী , সেইটা আছে। খোলাই থাকে। দামী কোন গহনা -টহনা তো নেই , যে তালাবন্ধ করে রাখতে হবে!
ঃ হ্যাঁ, বললেই হলো। মেয়ে মানুষ! গহনা নেই ! ভুয়া ।
ঃ এই জন্যই তো বললাম , ছিট গ্রস্থ । গলায় হার পরতে চাইতো না........ কেন জানো?
ঃ কেন?
ঃ তার প্রিয় পুরুষের বাহু দুটো গলা জড়িয়ে থাকলেই নাকি চলে, ওতেই খুশি ।
ঃ গাধী, চরম গাধী। ড্রেসিং টেবিল-- একটা আয়নাও নেই ঘরে? মুখ দেখবে কি করে?
ঃ প্রিয় মানুষের চোখে ।
ঃ হা হা হা হা , পুরা ছাগল । এইবার বলো না যে, একটা খাটও ছিলো না।
ঃ না না, ছিলো একটা । ছোট্ট ।
ঃ মানে সেমি ডাবল ?
ঃ আরে না, সিঙ্গেলের থেকেও চিকন,মাপটা ইমন কম করে দিয়েছিলো।
ঃ ও , বুঝেছি , চরম কিপটা !
ঃ তা তো বলতে পারি না। তবে ইমন দুষ্টুমী করে বলত যে , বিছানা হওয়া উচিত সেই মাপের যাতে ২ টা মানুষ কোন রকমে জড়াজড়ি করে শুতে পারে । একজন আরেকজনকে ছেড়ে দিলেই পড়ে যাবে!
ঃ আইডিয়াটা খারাপ নাত!
ঃ শুধু তাই না, ঘরের একটা দেয়াল ও নাই!
ঃ এ্যাঁ , কেন কেন?
ঃ প্রতিদিন ভোরে প্রিয় মানুষটাকে আলোয় আলোময় করে দেখা চাই তার আর দারুন বরষায় ভেজা চাই মগন হয়ে ।
ঃ চোর ঢুকলে ?
ঃ চুরি করবেটা কি?
ঃ তাও তো কথা ! ধুরু , এইটা ফালতু গল্প। বাস্তবে এই রকম মেয়ে মানুষ থাকে না।
ঃ ঠিক বলেছো । এই জন্যই তো থাকতে পারলো না, সাত আসমানের কল্পলোক থেকে যেই সে পৃথিবীতে এলো , এই পৃথিবী প্রথম যেদিন তাকে হাতের কাছে পেল , প্রথম সুযোগেই কি করলো জানো?
ঃ কি করলো?
ঃ মেরে ফেললো , ছিন্ন ভিন্ন করে ফেললো।
ঃ কি বলছো? [ভয়ার্ত ] এইটা কি করে ভালোবাসার গল্প হয়? এইটা তো , এইটা তো হত্যার গল্প ।
ঃ নাহ, এটাই ভালোবাসার গল্প। নিখুঁত ভালোবাসার গল্প । প্রকৃতি , নিখুঁত কোন কিছুকে সহ্য করে না।
ঃ প্রমান আছে?
ঃ আছে।ওই ঘরটাকে যদি খুঁজে পাও কোন দিন তো দেখো -- ভাঙা দেয়াল। দেয়ালে দেয়ালে ছোপ ছোপ রক্ত। মেঝে জুড়ে ছড়ানো , ছিটানো পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া স্বপ্নাবশেষ ।
ঃ স্বপ্ন? এইটা আসলে দুঃস্বপ্ন , তাই না? মিথ্যা গল্প , সব মিথ্যা।কি কুৎসিৎ!
ঃ নাহ , সত্য। মিথ্যা গল্পরাই সুন্দর হয় । বেশির ভাগ সত্য গল্পই অসুন্দর , কষ্টের ।
ঃ ইমনের কবর কোথায় জানো?
ঃ জানি । বাংলাদেশের যত মেয়েমানুষ দেখবে । শরীর চলছে , চোখ গুলো মৃত । সব কটা মৃত চোখে তুমি তার ছায়া দেখতে পাবে । সব কটা জীবন্মৃত শরীরে খুঁজে পাবে তার কবর ।
ঃ এ তুমি কি শোনালে ? ভালোবাসার গল্প কই?
ঃ আসলে ভালোবাসা বলে কিছু নেই । তাই ভালোবাসার গল্প বলেও কিছু নেই । সবটাই.................. গল্প ।
বিশ্ব নারী দিবস ২০০৭
ঢাকা
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


