somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাস্তায় হাটাহাটি একটি ঐতিহাসিক প্রপঞ্চ হইয়া উঠে!

১৫ ই নভেম্বর, ২০০৬ রাত ১:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কি যে হয় আসলে? রাস্তায় মানুষ নামছে অনেক! আমরা মানুষের ভীড় দেইখা ভয় পাই। এতো মানুষ কখনো স্বস্তিদায়ক না। কেরম অস্থিরতা থাকে ঢাকা শহরের বাতাসে। অস্থিরতাগুলি আমরা ধরতেও পারি না, কারণ তাহাও বায়বীয়। লোকজন হুদাই খাড়াইয়া থাকে, মাঝে আওয়ামি লীগের নাম ধইরা চিল্লায়। আমরা বুঝতে পারি এই মানুষেরা আওয়ামি লীগ। আর তাই আমরা আরো বুঝি, বিএনপি মানুষরা এখন বাড়িতে বা অফিসে বা "গা ঢাকা দিয়া" থাকে। আমরা যে কয়জন মানুষ এইটা দেখি তারা কোন গোত্রভূক্ত হইতে পারি না বিধায়, কই যামু তা নিয়া পরি বিপাকে! অফিসে বইসা থাকলে হমু বিএনপি মানুষ আবার রাস্তায় নামলে হমু আওয়ামি মানুষ। তাই আমি আমার সকল বন্ধুরে থুইয়া সিদ্ধান্ত নিতে চেষ্টা করি ভার্চু্যয়াল হমু কি না! কিন্তু বন্ধুগো থুইয়া যাওনটা ঠিক হয়? আর আমার জীবন সঙ্গীনিও তো আছে তারেও কি অনলাইন করা হবে? বাড়তি খরচ!
তো আমি অনলাইন হই। আমার জীবনসঙ্গীনিও হয়। আমার কয়েক বন্ধুও হয়। আমরা আওয়ামি আর বিএনপি মানুষ থেইকা আলাদা হইতে গিয়া অনলাইন হই। কিন্তু এইখানে কেরম শরীর থাকে না। আমরা খালি লিখতেই থাকি...লিখতেই থাকি। এমনেই আমাগো দিনের পর দিন কাটানের সম্ভাবনা দেখা দেয়...
2.
আমরা কেরম বিচ্ছিন্ন হই, এই বিচ্ছিন্নতা আমাগো কিছু আওয়ামি আর বিএনপি বন্ধুদের থেইকা দূরে সরাইয়া দেয়। জামায়াত মানুষরা আমাগো বন্ধু হইতে পারে না বিধায়, আমরা তাগো নাম উল্লেখ করি না। কিন্তু তারা শুনছি অন্যরম দেশের ছায়ায় যায়। দেশে তাগো খুব বেশি বেইল না থাকলেও বিদেশে তারা অনেক ভালো থাকে। কারন বিদেশীগো নাকি অনেক টাকা আর বিদেশী কইলে আমাগো দেশে বাড়তি সম্মান পাওন যায়। পবিত্র খেজুরের দেশ হইলেতো কথাই নাই! তয় এতো কিছু ঘটে একজন লোকের লেইগা। এই লোকের নাম আজিজ। এই লোকের যেই কাজ, তা হইলো দেশের মানুষের গোত্রচিহ্নিত করণ। আমরা যারা অনলাইন তারা যেহেতু সবাইরে দেখতে পাই একটুদূর থেইকা, তারা ভাবি এই লোককি অদ্ভুত ক্ষমতাবলে তার কাজ সাধন করে! দেশের মানুষ দুইভাগ হইয়া যায় কোন আহবান ছাড়াই!
3.
অনেক মানুষরে আমরা দেখি কিরম রাস্তায় এলো মেলো হাটে। তারা আবার অফিস আর ঘরবাড়িতেও যায়! এইলোকেরা হাটে। কারন কয়েকদিন দেশে গাড়ি ঘোড়ার প্রচলন কি এক দৈব বলে বন্ধ আছে। এই লোকেরা হাটে...আমাদের বোধ হয় ইহারাও আমাগো মতোন আওয়ামি কিম্বা বিএনপি মানুষ না। আমরা তাগো একজনের সাক্ষাতকার লই।
প্রশ্নঃ আপনে হাটেন ক্যান?
উত্তর ঃ উড়তে পারি না তাই,
ক্যামনে উড়ন যায় সেই বিদ্যা আপনের জানা আছে সাহেব...?
প্রশ্ন ঃ আপনে রাস্তায় গলা ফাটাইতেছেন না ক্যান?
উত্তর ঃ কারন আমার গলা ব্যথা, গতকাল বৌয়ের লগে খরচপাতি নিয়া ঝগড়া কইরা গলা ভাঙছে!
প্রশ্ন ঃ আপনে অফিসে গিয়া বইয়া থাকেন না ক্যান কিম্বা বাড়িতেই ঘাপটি মারতে পারেন...
উত্তর ঃ ভাইরে...অফিসে গেলে মনে হয় কোন কাজকাম নাই...
খালি চেয়ার টেবিলের আড়ালে লুকাইয়া থাকতে হয়।
বাড়িতে বইয়া থাকলে বৌয়ের লগে ঝগড়া, পোলাপাইনের ভ্যানতাড়া!
4.
আমরা ঠিক বুঝি না এই জন কোন গোত্রের মানুষ। কোন গোত্র তারে আসলে এরম অস্থির করে! আমরা বুঝি না এইরম বিভাজনের বহিঃপ্রকাশে আসলে কারা কিরম থাকে। তয় ধীরে ধীরে বুঝতে পারি এইরম অস্থির লোকেরা সংখ্যায় বেশি। (আমার শান্তি লাগে আমরাই সংখ্যায় বেশি!) আমি অনলাইন থেইকা বাইর হইয়া আসি। খুব সহজে রাস্তায় হাটতে থাকি। হাতে একটা হটপট। আমার জীবন সঙ্গীনির হাতে একটা অফিস ফাইল। আমরা রাস্তায় হাটি...অফিস যাই...আবার রাস্তায় হাটি...বাসায় ফিরি...আবার রাস্তায় হাটি...মার্কেটে যাই বেড়াইতে...রাস্তায় হাটি...বাসায়ফিরি...ছাঁদে যাই...চাঁদ দেখি...বাসায় ফিরি...ঘুম...দুঃস্বপ্ন...আবার বাসায় ফিরি...রাস্তায় হাটি..................
5.
হাটতে হাটতে আমাগো জুতা ছিড়ে। শীতকালে পা ফাটে। উরুর পেশীতে টান পরে। এরপর যে কি হইতে পারে তা নিয়া আর ভাবতে ইচ্ছা করে না। কারন আজিজ সাহেবের সম্ভবতঃ শিকর গজাইতে আছে, তিনি কখনোই আর টব হইতে নামবেন না!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৭


আজ দেশজুড়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। ২৪ -এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভ্ন্নি সময়ে বহু নিরীহ প্রাণ অকালে ঝরেছে। আবু সাঈদ, মুগ্ধ ছাড়াও নাম জানা-অজানা হাজারো ব্যাক্তি তাদের প্রাণ হারিয়েছেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

তেহরানের ছায়া কি এখন ঢাকা সেনানিবাসে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:০১


সোমবার সকালে জলসিঁড়িতে একটা অনুষ্ঠান হলো। ফিতা কাটা, ফুলের তোড়া, বক্তৃতা, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, স্বাভাবিক একটা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা যা থাকে সবই ছিল। সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান নিজে হাজির, পাশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাতিঘর (Lighthouse)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৬



বাতিঘর নিয়ে সেই ছোট্টবেলা থেকেই আমার অনেক কৌতুহল ছিল। কেন ঐ বয়সেই বাতিঘর নিয়ে আমার এতটা আগ্রহ ছিল, তার কারণ আজও খুঁজে পাই না। অথচ আমি নিজ চোখে কোন বাতিঘর... ...বাকিটুকু পড়ুন

"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

"৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে। শেখ হাসিনার প্রয়োজন ছিল বিশ্রাম। আওয়ামী লীগের দরকার ছিল শুদ্ধিকরণ। অন্যান্য দলগুলোরও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে বিষয়ে মজিবর ও হাসিনা এক বিন্দুও ভুল করেনি!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


বাংলাদেশের ইতিহাসে মজিবরের শেষ শাসন কাল ও হাসিনার শেষ শাসন কাল দুটি ভিন্ন সময়ে হলেও গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত মিল বহন করে। নির্বাচনী বৈধতার নিরিখে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের সংগে ২০১৪, ২০১৮... ...বাকিটুকু পড়ুন

×