somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সেইসব দিনগুলি...এইসব দিনরাত্রি

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৫:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একদিন সকালে পত্রিকা দেইখা আমার ছোট কাকা হঠাৎ চীৎকার দিয়া উঠলো। আমরা ঐ চীৎকারের মর্মার্থ ধরতে পারি নাই কোনকালে। কিন্তু ঐ চীৎকারে মা'রে দেখলাম ছুইটা যাইতে বসার ঘরে...তারপর বাড়ির সবাইর মুখ থমথম...প্রেসিডেন্ট জিয়া মারা গেছেন...মারা গেছেন কওয়াটা ভুল হইলো...তারে খুন করা হইছে! আমাগো বাড়ির মানুষের চিন্তাটা অন্য অনেকের চাইতে বেশি ছিলো, কারণ তার সাথে ছিলেন আমার এক মামা, মেজর আহসান, জিয়া সাহেবের চীফ সিকিউরিটি গার্ড, আমার প্রিয় ফজল মামা।

আমার আদৌ জেনারেল জিয়া সাহেবরে নিয়া এই পোস্ট লেখনের খায়েশ নাই। তিনি অনেকের দোয়ায় হয়তো বেহেস্ত পাইছেন, হয়তোবা অনেকের দোয়ায় তার নরকের দরজার সামনে ঝিমানির-অপেক্ষার দিন গুজরান চলতেছে। আমার কিছুই যায় আসে না তাতে...আমি নিস্পৃহ আর অবিশ্বাসী মানুষ , এইসব বিষয় নিয়া গল্প করনের বেলায়। আমার হঠাৎ গত কয়দিন ধইরা মনে পইড়া যাইতেছে ঐ সময়টার কথা। সাত্তার সাহেবের কথা...আমার বাপের কুঞ্চিত ভ্রুযুগলের কথা...

বয়স কতো আমার তখন!? সবে 9 পার হইয়া 10 এ পা দেওনের সময় হইছে। বাড়িতে দুইটা বিষয় নিয়া অনেক তোলপাড় চলতো বইলা আমি একটু ইচড়ে পাঁকার মতোন অংশ নিতাম...রাজনীতি আর আবাহনী-মোহামেডানের ফুটবল যুদ্ধ। বাপে পুরানা জমানার আওয়ামি সমর্থক...কাকায় তখন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা, মানে এ্যান্টি আওয়ামি, বাপে মোহামেডানের প্রবল ভক্ত, আর চাচায় আবাহনীর সমর্থক গোষ্ঠীর নেতা। আমি একটু বাপ বিরোধী টাইপ ছিলাম ছোটবেলা থেইকাই, সেইহেতু ছিলাম কাকার ন্যাওটা। অর্থাৎ... বুইঝা নেন কি আছিলাম, বেশি বুঝাইয়া দিতে আর ইচ্ছা করে না আজকাল।

আমার মনে পইড়া যায় যে, সাত্তার সাহেব বক্তৃতা দিছিলেন একটা দুঃখ ভারাক্রান্ত কনঠে...চোখ ছলছল ছিলো তার...যে দেশ নাকি দুর্নীতিতে ছাইয়া গ্যাছে...আর এই দুর্নীতির বাহক হইছে দলের লোকেরাই...বিএনপি মন্ত্রীসভার সদস্যরাই। আর তাই তিনি বাধ্য হইতেছিলেন সবাইরে বরখাস্ত করনে। দেশে তখন জরুরী অবস্থা জারী হইছিলো সম্ভবতঃ...আমি তখন হয়তো এইসব রাজনৈতিক শব্দাবলী জানতাম না, কিন্তু মনে আছে যারা মন্ত্রী ছিলো তারা আর নাই এই ভাবনায় আমি বাড়ির ছাদে গিয়া এক একা অনেক ভাবছি তখন...চিন্তাক্লীষ্ট শিশুর, চিন্তার শৈশব!

আমার বাপ তখন একজন লোকের নাম কইতেন খুব, সেই লোক নাকি দেশ দখলের পায়তারা কষতেছিলো...বাপের ব্যবসা আর রাজনীতির সাথে যোগাযোগ থাকনের কারনে এইসব তার পরিকল্পণার মধ্যে রাখতেই হইতো এখন বুঝি। এরশাদ নামের ঐ লোকই জিয়ারে মারনের ষড়যন্ত্র করছে এই আলাপ চলতে দেখছি ঘন্টার পর ঘন্টা আমাগো বাসায়। মামার লাশ সনাক্ত করছিলো আমার বাপে...সেই কারণে তার বেশ কয়েকবার ক্যান্টনমেনটে যাইতে হইছিলো। প্রতিবারই সে মুখ ভার কইরা ফিরতেন...

এরপরের ঘটনা কয়মাস পর ঘটছিলো ঠিক নির্দিষ্ট কইরা মনে নাই কিন্তু মনে আছে এরশাদ সাহেব ক্ষমতা নিলেন। আমার তখন ট্যাংক-কামান খেলার সামগ্রী, তাই যুদ্ধ বিগ্রহ ভালো লাগে, একজন মিলিটারীর পোশাকে স্মার্ট প্রেসিডেন্ট পাওনের সম্ভাবণায় রোমাঞ্চিত হইছিলাম আমি মনে আছে। কিন্তু বাপের মুখ ভার কাটে নাই...কাকায় বিদ্রোহে ফাটছে! যাই হোক দেশের অনেকেই তখন ঐ দুর্নীতি দমনের প্রক্রিয়ারে স্বাগতঃ জানাইতো, অনেকেরেই কইতে দেখছি এইবার দেশে যদি একটু শান্তি আসে। আমার তখন ভালো লাগতো, এরশাদ আমার খেলার সাথী, হিরো!

এরশাদের পরিণতি আমরা জানি...আর বেশি কিছু বলনের প্রয়োজন নাই ঐ সময় নিয়া...আমি নিজেও পরে কাকার মতো তার বিরুদ্ধে নামছিলাম...সে অনেক কাল পরের কথা...কাকা অবশ্য দল পালটাইয়া নতুন বাংলায় জয়েন করছিলো! আমার বাবা বঙ্গবন্ধুর ফেনা তুলতে তুলতে বহুত কিছু খোয়াইলো ইত্যবসরে...আমি তাগো দুইজনের বালখিল্যতা নিয়া খোঁচাই...এখ নো!

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের কৃষি আধুনিকায়ন রোডম্যাপ: একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিপত্র রূপরেখা : পর্ব -১ ও ২

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:১১


প্রস্তাবিত রূপরেখা: কৃষিকে জীবিকানির্ভর খাত থেকে প্রযুক্তিনির্ভর, জলবায়ু-সহনশীল
ও বৈশ্বিক বাজারমুখী বাণিজ্যিক শিল্পে রূপান্তরের জাতীয় কৌশল প্রস্তাবনা ।

বাংলার মাঠে প্রথম আলোয়
যে ছবি আসে ভেসে
কাঁধে লাঙল, ঘামে ভেজা মুখ
কৃষক দাঁড়ায় হেসে।

সবুজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিশুদের পর্যবেক্ষণ, শিশুদের ভালোবাসা

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৩


Two for joy!

আমার চার বছরের নাতনি আলিশবা আমাকে ব্রীদিং এক্সারসাইজ করতে দেখলে সে নিজেও শুরু করে। যতটা পারে, ততটা মনোযোগের সাথে অনুকরণ করতে চেষ্টা করে। আমি ওকে দেখলে কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি ধার্মিক না মানুষ?

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮



ধার্মিক হওয়া কোনো কাজের কথা নয়।
ধার্মিক হওয়া সহজ। বিজ্ঞানী হওয়া সহজ কথা নয়। পিএইচডি করা সহজ কথা নয়। সেই তুলনায় কোরআন মূখস্ত করা সহজ। জন্মগত ভাবে আমি বাপ... ...বাকিটুকু পড়ুন

'মানুষ' হওয়া খুব সোজা, 'মুসলমান' হওয়া কঠিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩৪



একটু আগেই ভাবছিলাম, মানুষ হওয়াটা খুব সহজ। বাবা-মা জিংজিং করে আমাদের পৃথিবীতে এনেছেন, এতে আমাদের কৃতিত্ব কোথায়! কোন কৃতিত্ব নেই। আমরা অটো ভাবেই 'মানুষ' হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছি। দুইজন মানব-মানবীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

তোমাকে ভালোবাসি I love you

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৩:০২

তোমাকে ভালোবাসি বাতাসের মতো,
যেমন শিশুর কাছে বালি একটা খেলনা,
অথবা ঝড়ের মতো, যাকে কেউ বোঝে না।

I love you like the wind,
Playing like a child in the sands,
Or a storm that no... ...বাকিটুকু পড়ুন

×