জিনিষরে সরলীকরণের সুবিধা যেরম, জ্বালাও ঠিক একইরম বাড়ে। 1971-এ এই দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সাংগঠনিক যেই আবেদন আছিলো, সেইখানে ভাষাভিত্তিক জাতির স্বপ্ন আসলে কদ্দূর ছিলো সেইটা কি কখনো বিতর্কের মুখামুখি হইছে? আমি দেখি নাই...এমনকি জিয়াও সেইটা স্বিকার কইরা নিয়াই কইছিলেন, যে এই ভূখন্ডে অন্য ভাষাভাষি মানুষের অবস্থানরে স্বিকৃতি দিতে হইলে দেশের জাতীয়তা হইতে হইবো ভূখন্ডের সীমানা কেন্দ্রীক। এই হইলো সরলীকরণের জ্বালা!
পাকিস্তানের উদর্ুভাষী আধিপত্যবাদের লগে লাগছিলো আসলে কাগো? ইতিহাস কয় বাঙালী প্রতিরোধই ছিলো মূখ্য...এই বাঙালী আসলে কারা? হাজার বছরের বিভিন্নরম আধিপত্য-সংগ্রাম-মূখাপেক্ষী জীবন যাপনের মধ্য দিয়া তৈরী হইছিলো একটা যোগাযোগমূখী জাতি, যারা মূল ধ্বনিগত অবস্থান থেইকা প্রায় একইরম...কেবল অভিজ্ঞতার কারণে কিছু চিহ্ন ব্যতিক্রম ভাবে ব্যবহার হয়, কিছু শব্দ পরিবেশের কারণে পালটায়...বাতাসের ভূমিকা আছে, মাটির ভূমিকা আছে এই পালটানির খেলায়...
জাতিসংঘ দেখলাম ঘোষণা দিছে সব প্রান্তিক জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতি আর ভাষারে বাঁচাইয়া রাখতে ভূমিকা নিতে হইবো, লূপ্ত প্রায় ভাষারে শিক্ষার সাথে সম্পর্কীত কইরা দিতে হইবো। এখন এইটা কারা করবো? জাতিসংঘ কয় এই দায়িত্ব সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতির নিয়ন্ত্রক অংশের! বাংলা ভাষাভাষীরাই যেহেতু এই এলাকায় বেশি, তারাই যেহেতু এইখানে শিক্ষা কাঠামোর পরিকল্পক, তাই তারাই আগাইয়া থাকা...কিন্তু এই টপ ডাউন প্রক্রিয়া আসলে কেমনে খেলে তার খেলা!? আমি আসলে একজন পাহাড়ি যুবার স্বপ্ন কেমনে বুঝি? আমার মনে আছে 1994 সালে ব্যোম নারীগো টপলেস দেখছি তাগো এলাকায় কাজ করনের টাইমে, সেই একই জনগোষ্ঠীর নারীরা এখন টিশার্ট টপ্স আর জিনস পরে! আমার কাছে মনে হয় সংস্কৃতি গেলো! কিন্তু আসলে কি হইলো তা কি কক্ষনো ভাবছি! ভাবনাটা কি আসলেই সম্ভব? আমি মনে করি সম্ভব না, অন্য অনেকেই হয়তো অন্যরম ভাবেন।
যেই বিষয়ে শুরু করছিলাম সেইটা এক্কেরে ভিন্ন ছিলো...এই জাতির মুক্তিকামী স্বপ্নে ছিলো বাংলা ভাষা! এইটারে কেউ ভিন্ন কইলে তারে গাইল পারাটা দায়িত্ব হইয়া উঠবো আমার। আর এই ভাষা ভিত্তিক স্বপ্নে অন্য ভাষাভাষিরা কেমনে ছিলো? পাহাড়ি জনপদের মানুষেরা আসলে কেমনে ছিলো? ব্যোমাং সার্কেলের তৎকালীন ত্রিপুরা রাজা ছিলেন পাকিস্তানের পক্ষের লোক। কিন্তু পুরা পাহাড় কি একইরম ভাবছে? না! মানবেন্দ্র লারমা ভাবেন নাই...প্রীতি চাকমা ভাবেন নাই। এখন তারা বাঙালী আন্দোলনে থাকলেও নিশ্চিত নিজের জাতিগোষ্ঠী নিয়া এই ভূখন্ডেই থাকতে চাইছেন! কিন্তু তারা কি বাঙালী হইতে চাইছিলেন? নিশ্চয়ই না!
ভাষাভিত্তিক একটা জাতির নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু হইলেও এই ভূখন্ডে অন্য যেইসব ক্ষুদ্র জাতি তারা আসলে কেমনে চলতে চায় তার সকল টেকনিক্যাল প্রোপার্টিস তারা নিজেরাই ঠিক করবো! তারা নিজেরাও বাঙালী হইতে চায় কি না...তারা আলাদা রাষ্ট্র হইতে চায় কি না...তারা এই রাষ্ট্রেই তাগো সংস্কৃতি, ভাষা, আর আনুসঙ্গিক জীবন যাপণ নিয়া সমান্তরালে চলবো কি না...এইসব তাগো ভাবনার বিষয়...কথা গুলি আসলে ইঙ্গিত করে পাহাড়ি এলাকায় স্বায়ত্বশাষণের। পাহাড়ি এলাকায় 13টা ক্ষদ্রজাতি সত্ত্বার অবস্থান সরকারী ভাবে চিহ্নায়িত। তাগো মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক কিরম আমরা বুঝুম...বা বুঝি? মারমাগো লগে চাকমা কিম্বা কুকিগো লগে মারমাগো রিলেশন কি আমাগো বুঝনের জো আছে? আমি নিজে খুব বেশি জানিনা...
যাই হোক হাসান মোরশেদরে এক পোস্টে দেখলাম গ্রেট বৃটেনের উদাহরণ দিতে...যদিও আমার কাছে সবচাইতে বড় উদাহরণ সোভিয়েত ইউনিয়ন...একরাষ্ট্রে কেমনে 15টা ভাষা সরকারী হইতে পারে সেইটা বুঝন যায় তার দিকে তাকাইলে। কালচার এক্কেরে সাবজেক্টিভ একটা বিষয়...এই জ্ঞান তৈরী হইতে অনেক প্রভাবক অনেক অভিজ্ঞতা কাজ করে...এইটারে কারা টিকাইবো সেইটা আসলেই এই 2007'এ একটা আলোচ্য হইতে পারে। উপর থেইকা আমরা? নাকি ভিতর থেইকা অন্যরা?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



