somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভাষাভিত্তিক জাতি আর ক্ষুদ্রজাতিসত্ত্বা নিয়া প্রাসঙ্গিক ভাবনা

২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ রাত ১২:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জিনিষরে সরলীকরণের সুবিধা যেরম, জ্বালাও ঠিক একইরম বাড়ে। 1971-এ এই দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সাংগঠনিক যেই আবেদন আছিলো, সেইখানে ভাষাভিত্তিক জাতির স্বপ্ন আসলে কদ্দূর ছিলো সেইটা কি কখনো বিতর্কের মুখামুখি হইছে? আমি দেখি নাই...এমনকি জিয়াও সেইটা স্বিকার কইরা নিয়াই কইছিলেন, যে এই ভূখন্ডে অন্য ভাষাভাষি মানুষের অবস্থানরে স্বিকৃতি দিতে হইলে দেশের জাতীয়তা হইতে হইবো ভূখন্ডের সীমানা কেন্দ্রীক। এই হইলো সরলীকরণের জ্বালা!

পাকিস্তানের উদর্ুভাষী আধিপত্যবাদের লগে লাগছিলো আসলে কাগো? ইতিহাস কয় বাঙালী প্রতিরোধই ছিলো মূখ্য...এই বাঙালী আসলে কারা? হাজার বছরের বিভিন্নরম আধিপত্য-সংগ্রাম-মূখাপেক্ষী জীবন যাপনের মধ্য দিয়া তৈরী হইছিলো একটা যোগাযোগমূখী জাতি, যারা মূল ধ্বনিগত অবস্থান থেইকা প্রায় একইরম...কেবল অভিজ্ঞতার কারণে কিছু চিহ্ন ব্যতিক্রম ভাবে ব্যবহার হয়, কিছু শব্দ পরিবেশের কারণে পালটায়...বাতাসের ভূমিকা আছে, মাটির ভূমিকা আছে এই পালটানির খেলায়...

জাতিসংঘ দেখলাম ঘোষণা দিছে সব প্রান্তিক জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতি আর ভাষারে বাঁচাইয়া রাখতে ভূমিকা নিতে হইবো, লূপ্ত প্রায় ভাষারে শিক্ষার সাথে সম্পর্কীত কইরা দিতে হইবো। এখন এইটা কারা করবো? জাতিসংঘ কয় এই দায়িত্ব সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতির নিয়ন্ত্রক অংশের! বাংলা ভাষাভাষীরাই যেহেতু এই এলাকায় বেশি, তারাই যেহেতু এইখানে শিক্ষা কাঠামোর পরিকল্পক, তাই তারাই আগাইয়া থাকা...কিন্তু এই টপ ডাউন প্রক্রিয়া আসলে কেমনে খেলে তার খেলা!? আমি আসলে একজন পাহাড়ি যুবার স্বপ্ন কেমনে বুঝি? আমার মনে আছে 1994 সালে ব্যোম নারীগো টপলেস দেখছি তাগো এলাকায় কাজ করনের টাইমে, সেই একই জনগোষ্ঠীর নারীরা এখন টিশার্ট টপ্স আর জিনস পরে! আমার কাছে মনে হয় সংস্কৃতি গেলো! কিন্তু আসলে কি হইলো তা কি কক্ষনো ভাবছি! ভাবনাটা কি আসলেই সম্ভব? আমি মনে করি সম্ভব না, অন্য অনেকেই হয়তো অন্যরম ভাবেন।

যেই বিষয়ে শুরু করছিলাম সেইটা এক্কেরে ভিন্ন ছিলো...এই জাতির মুক্তিকামী স্বপ্নে ছিলো বাংলা ভাষা! এইটারে কেউ ভিন্ন কইলে তারে গাইল পারাটা দায়িত্ব হইয়া উঠবো আমার। আর এই ভাষা ভিত্তিক স্বপ্নে অন্য ভাষাভাষিরা কেমনে ছিলো? পাহাড়ি জনপদের মানুষেরা আসলে কেমনে ছিলো? ব্যোমাং সার্কেলের তৎকালীন ত্রিপুরা রাজা ছিলেন পাকিস্তানের পক্ষের লোক। কিন্তু পুরা পাহাড় কি একইরম ভাবছে? না! মানবেন্দ্র লারমা ভাবেন নাই...প্রীতি চাকমা ভাবেন নাই। এখন তারা বাঙালী আন্দোলনে থাকলেও নিশ্চিত নিজের জাতিগোষ্ঠী নিয়া এই ভূখন্ডেই থাকতে চাইছেন! কিন্তু তারা কি বাঙালী হইতে চাইছিলেন? নিশ্চয়ই না!

ভাষাভিত্তিক একটা জাতির নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু হইলেও এই ভূখন্ডে অন্য যেইসব ক্ষুদ্র জাতি তারা আসলে কেমনে চলতে চায় তার সকল টেকনিক্যাল প্রোপার্টিস তারা নিজেরাই ঠিক করবো! তারা নিজেরাও বাঙালী হইতে চায় কি না...তারা আলাদা রাষ্ট্র হইতে চায় কি না...তারা এই রাষ্ট্রেই তাগো সংস্কৃতি, ভাষা, আর আনুসঙ্গিক জীবন যাপণ নিয়া সমান্তরালে চলবো কি না...এইসব তাগো ভাবনার বিষয়...কথা গুলি আসলে ইঙ্গিত করে পাহাড়ি এলাকায় স্বায়ত্বশাষণের। পাহাড়ি এলাকায় 13টা ক্ষদ্রজাতি সত্ত্বার অবস্থান সরকারী ভাবে চিহ্নায়িত। তাগো মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক কিরম আমরা বুঝুম...বা বুঝি? মারমাগো লগে চাকমা কিম্বা কুকিগো লগে মারমাগো রিলেশন কি আমাগো বুঝনের জো আছে? আমি নিজে খুব বেশি জানিনা...

যাই হোক হাসান মোরশেদরে এক পোস্টে দেখলাম গ্রেট বৃটেনের উদাহরণ দিতে...যদিও আমার কাছে সবচাইতে বড় উদাহরণ সোভিয়েত ইউনিয়ন...একরাষ্ট্রে কেমনে 15টা ভাষা সরকারী হইতে পারে সেইটা বুঝন যায় তার দিকে তাকাইলে। কালচার এক্কেরে সাবজেক্টিভ একটা বিষয়...এই জ্ঞান তৈরী হইতে অনেক প্রভাবক অনেক অভিজ্ঞতা কাজ করে...এইটারে কারা টিকাইবো সেইটা আসলেই এই 2007'এ একটা আলোচ্য হইতে পারে। উপর থেইকা আমরা? নাকি ভিতর থেইকা অন্যরা?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জলে স্থলে শূন্যে আমি যত দূরে চাই

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৫৩



আমি ভেবেছিলাম, তুমি আমাকে ভুলেই গেছো!
লম্বা সময় ধরে কোনো যোগাযোগ নেই। আমিও নানান ব্যস্ততায় যোগাযোগ করতে পারিনি। তুমিও যোগাযোগ করনি! অবশ্য তুমি যোগাযোগ অব্যহত না রাখাতে আমি বেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অদৃশ্য ছায়া: সমুদ্রের সাক্ষী

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬



ঢাকার বনানীর সেই ক্যাফেতে বৃষ্টির শব্দ এখন আরও তীব্র। আরিয়ান তার কফির মগে আঙুল বোলাচ্ছিল, তার চোখ দুটো ক্লান্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ। সাঈদের দিকে তাকিয়ে সে নিচু গলায় বলতে শুরু করল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

'মানবাধিকার' (অণু গল্প)

লিখেছেন আবু সিদ, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪

'মানবাধিকার' একটা এনজিও। তারা বিদেশী সহায়তা নিয়ে মানুষ, বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ সুরক্ষায় কাজ করে। আজ তারা একটা বড় সমাবেশ করছে প্রেসক্লাবে। সমাবেশে সাংবাদিকসহ নানান পেশার মানুষ অংশ নিয়েছে। টিভি সাংবাদিকেরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নদী তীরের ইমাম থেকে গ্লোবাল ফ্রিল্যান্সার: একটি অনুপ্রেরণার গল্প

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:০৬




নদী তীরের ইমাম থেকে গ্লোবাল ফ্রিল্যান্সার: একটি অনুপ্রেরণার গল্প

একটি বিশাল নদীর কোলঘেঁষে গড়ে ওঠা শান্ত এক জনপদ, আর ঠিক নদীর ঘাট ঘেঁষেই ছিল একটি সুন্দর মসজিদ। সেই মসজিদের ইমাম সাহেব... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুধু দ্বিতীয় রিফাইনারি (ERL-2) টা করে দেখান , সবার মুখ বন্ধ হয়ে যাবে !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গতকাল নাটকীয়তায় ভরা একটা দিন আমরা পার করলাম । রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্বোধনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেন ঝড় বয়ে গেল। পুরো সোশ্যাল মিডিয়া যেন দুই ভাগে ভাগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×