somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নাগরিক শক্তির স্বপ্নে আমি বিভ্রান্ত হই প্রতিনিয়তঃ

২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ রাত ১১:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইনুস সাবে চমক দিবেন এই অপেক্ষায় আছি অনেক দিন...তিনি বিদেশে যাওনের আগে একটা কইরা ঘোষণা দেওনের কথা প্রচারিত হয়...আমার মতো অলমোস্ট দিন আনি দিন খাই টাইপ মানুষও তখন একটা দৈনিক পত্রিকা কিননের পরিকল্পণা করি, তিনি চমকাইয়া দিবেন...বহুদিন চমকাইতে পারি না। জলিল সাবে এর আগে ট্রাম্প কার্ডের চমক লাগাইন্যা কথা বলছিলেন...আমি অনেক আগ্রহী হইয়া উঠছিলাম...দেশের যাবতীয় যাপণে কোন চমক নাই...কেরম বিরক্তির মধ্য দিয়া চলে আমাগো দিন...এইদিকে ঐদিকে যা হয় সব অন্য কোন মানুষের কথা, তাগো লগে আমার জীবন ধরণের কোন মিল নাই...মধ্যবিত্ত সুলভ ফ্যান্টাসিতে ভুগতে থাকি...ইনুস সাব যদি পারেন আমার জীবনেও চমক দিতে!

এইবারে মনে করছিলাম ইনুস সাবে কিছু বলবেন...আমি তার পক্ষের লোক না, কিন্তু আজিব ব্যাপার ঘটে একটা, মাঝে মাঝে মনে হয় যদি তিনি পারেন!? তার যাদুই কাঠি যদি আসলেই কাজ করে? অন্ততঃ আমার সকল চাওয়া পাওয়াতেই যদি তিনি ছুঁইতে পারেন! গ্রামীণ ব্যাংক দিয়া তিনি হয়তো কোন তেলেশমাতি দেখাইতে পারেন নাই...নজীর স্থাপণ ছাড়া। ঋণনির্ভরতা নিয়া আমার অনেক জাজমেন্ট আছে, এই ভাবে কোন উন্নয়ণ অবকাঠামো তৈরী হয় না, দারিদ্র দূর করা বলতে আমি ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা অর্জণ বুঝি না...কিন্তু এই সব কিছু ছাপাইয়া যদি তিনি সেই ডাক দিতে পারেন যেই ডাকে দেশের আপামর জনতা দৌড়াইতে শুরু করনের আশ্বাস খুঁইজা পায়!

তিনি ডাকেন!
আমি তার ডাকে খবরের কাগজের পাতায় চোখ রাখি...তিনি হয়তো আমাগো আত্মবিশ্বাস ফিরাইয়া আনবেন তার মুখের বচনে! বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন রম সমালোচনা হতাশার কথা কইয়া আইসাও পত্রিকার পাতায় আমি আশাবাদী চোখই মেইলা দেই...এই আশাবাদে হয়তো অন্ধ আবেগ থাকে না কিন্তু সম্ভাবনার দুয়ার খুলনে তাগীদ থাকে। কিন্তু কি জানি...আমি তার ডাকের মাধুর্য বুঝতে পারি না...আমার অ্যাপ্রিসিয়েশন ভালো না হয় তো...মন খারাপ হয়...মনে হয় এই পথ বড়োই বন্ধুর!!

তিনি রাজনীতির মানুষ না, তার আহবানে অপেশাদারী মনোভাব থাকবো সেইটা খুব সহজে বিবেচ্য হইয়া উঠতে পারতো, কিন্তু এতো কি সহজ! ইনুস সাবের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাতো কম না! তিনিতো এর আগে এই দেশের একসময়কার সবচাইতে বড় ঋণদাতা সংস্থার প্রসার ঘটাইছিলেন...এখন না হয় তার অবস্থা বেশি সুবিধার না অন্যান্য মাইক্রো ক্রেডিট নির্ভর সংগঠনের জোয়ারে। কিন্তু গ্রাম-মহল্লা-ওয়ার্ডে আগ্রহীগো উদ্দেশ্য কইরা তিনি যেই সংগঠন গইড়া তুলনের কথা বলেন, সেইটা আসলে কি? সংগঠন গইড়া তুলবো কারা? কার উপর দায়িত্ব বর্তাইবো সৎ, যোগ্য আর উৎসাহী মানুষ নির্বাচনের? গ্রামীণ ব্যাংক কোনভাবে এই রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকবোনা এই কথা বরং আমার কাছে ভয়ঙ্কর মনে হয় হয়...অদূরদর্শীতা! (আমাগো ত্রিভুজতো ইনুস সাবের রাজনীতিতে আগ্রহী, সে যদি উত্তরা এলাকার আহবায়ক হয়! সে তো ধর্ম নিরপেক্ষ না! সে তো সাম্প্রদায়িক!)

ইনুস সাবে একটা বিষয় ধরতে পারছেন, আমাগো দেশের রাজনীতির সবচাইতে চটকী কথা...মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়নের কথা বলেন তিনি, আমি একটু থমকাই...দুধের সাধ ঘোলে মিটানোর মতোন আর কি! মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন কি ছিলো আমাগো? বন্দররে বৈদেশিক পরিচালনা কাঠামোতে সমর্পণ? দেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানায় যা কিছু আছে তার বেসরকারী করণ? দারিদ্র দূর করতে ব্যক্তিরে ঋণ নির্ভর নির্ভর কইরা তোলা? আমি কনফিউজড মানুষ...আরো সংশয়ী হই! মুক্তির স্বপ্ন মানুষরে শুনছি নিজের হাতে, নিজের অংশগ্রহণে বিরাট কিছু করতে পারনের দিকে মোটিভেট করে...তারমানে কি ইনুস সাব তার পুরানা উন্নয়ণ পরিকল্পণা থেইকা বাইর হইয়া আইলেন অবশেষে! ওয়ার্লড ব্যাংকের সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করণে সাহস দেখাইলেন? আমি আশান্বিত হই...কিন্তু এরপর তিনি আর কিছু ক'ন না, তিনি ধোয়াট্যাই রাখেন আমারে/আমাগো।

ইনুস সাবে একটা বাক্য শেষ করছেন দেশের রাজনৈতিক বিশেষত্ব কি হইবো সেইটা নিয়া। তাঁর রাজনীতি হইবো মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়ন আর ঐক্যের রাজনীতি। এই রাজনীতি হইবো অসাম্প্রদায়িক, ধর্ম নিরপেক্ষ, গণতন্ত্র, সুশাসন, দুর্নীতিমুক্ত আর দলীয়করণমুক্ত। আশান্বিত হওনের মতো কথা। কিন্তু সাংবাদিকগো প্রশ্নে তিনি আবার কিরম(?) কথা শুনাইলেন...স্বাধীনতা বিরোধীগো লেইগা নাকি বাছাই প্রক্রিয়া থাকবো। আর এর শেষ যখন তিনি করেন ঐক্যের রাজনীতির কথা কইয়া তখন সেইখানে অন্য গন্ধ পাই আমি...আমারে মাফ কইরেন ভাইয়েরা...ঘর পোড়া গরু সিদুঁইরা মেঘ দেখলেই ডরাই...আমি জানি না আসলে এই স্বাধীনতার স্বপ্ন আমরা কবে দেখছিলাম...ভুইলা যাওনের এক অভিনব স্বপ্ন!

তয় ইনুস সাব আমার নিজের রাজনৈতিক সময়ের একটা সমৃতি মনে করাইয়া দিলেন। তিনি কইলেন তার রাজনীতির অর্থনৈতিক সোর্স হইবো জনগণ...জনগণই তার মূলধন। আমরা দল চালাইতে মানুষের কাছে যাইতাম গণ চাঁদা তুলনের অভিপ্রায়ে। সেইখানে আমাগো উদ্দেশ্য ছিলো মানুষের সাথে যোগাযোগ, দলের বক্তব্য যতোদূর সম্ভব নিয়া যাওন যায় আর যেহেতু মানুষের রাজনীতি তাই তাগোই আমরা দায়বদ্ধ করতে চাইতাম। ইনুস সাবও কি তা'ই চান? চাইলে তো ভালো কিন্তু তিনি তো রাজনীতি বলতে এখনো শিক্ষিত মানুষের একটা সংস্কৃতির কথাই বুঝেন...মতামততো নিছেন এর লেইগাই পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়া...তিনি কি ভুইলাই গেছেন, এই দেশের কতোভাগ মানুষ এখনও প্রাণের চাইতে প্রিয় বর্ণমালা পড়তে পারে না!!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৪১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জলে স্থলে শূন্যে আমি যত দূরে চাই

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৫৩



আমি ভেবেছিলাম, তুমি আমাকে ভুলেই গেছো!
লম্বা সময় ধরে কোনো যোগাযোগ নেই। আমিও নানান ব্যস্ততায় যোগাযোগ করতে পারিনি। তুমিও যোগাযোগ করনি! অবশ্য তুমি যোগাযোগ অব্যহত না রাখাতে আমি বেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অদৃশ্য ছায়া: সমুদ্রের সাক্ষী

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬



ঢাকার বনানীর সেই ক্যাফেতে বৃষ্টির শব্দ এখন আরও তীব্র। আরিয়ান তার কফির মগে আঙুল বোলাচ্ছিল, তার চোখ দুটো ক্লান্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ। সাঈদের দিকে তাকিয়ে সে নিচু গলায় বলতে শুরু করল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

'মানবাধিকার' (অণু গল্প)

লিখেছেন আবু সিদ, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪

'মানবাধিকার' একটা এনজিও। তারা বিদেশী সহায়তা নিয়ে মানুষ, বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ সুরক্ষায় কাজ করে। আজ তারা একটা বড় সমাবেশ করছে প্রেসক্লাবে। সমাবেশে সাংবাদিকসহ নানান পেশার মানুষ অংশ নিয়েছে। টিভি সাংবাদিকেরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নদী তীরের ইমাম থেকে গ্লোবাল ফ্রিল্যান্সার: একটি অনুপ্রেরণার গল্প

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:০৬




নদী তীরের ইমাম থেকে গ্লোবাল ফ্রিল্যান্সার: একটি অনুপ্রেরণার গল্প

একটি বিশাল নদীর কোলঘেঁষে গড়ে ওঠা শান্ত এক জনপদ, আর ঠিক নদীর ঘাট ঘেঁষেই ছিল একটি সুন্দর মসজিদ। সেই মসজিদের ইমাম সাহেব... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুধু দ্বিতীয় রিফাইনারি (ERL-2) টা করে দেখান , সবার মুখ বন্ধ হয়ে যাবে !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গতকাল নাটকীয়তায় ভরা একটা দিন আমরা পার করলাম । রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্বোধনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেন ঝড় বয়ে গেল। পুরো সোশ্যাল মিডিয়া যেন দুই ভাগে ভাগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×