somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন হোটেলবয়

০১ লা মে, ২০১৫ দুপুর ১২:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এই স্কুল ছাত্রীটি প্রতিদিন খেতে আসে। ঘেমে থাকা চিবুক, শ্রান্ত দৃষ্টি, এলোমেলো হয়ে যাওয়া চুল নিয়ে সোজা চলে যায় ওয়াশ রুমে। সেখানে হাতমুখ ধুয়ে প্রতিদিন নির্দিষ্ট একটা টেবিলেই বসে।
টিস্যু নিয়ে এগিয়ে যায় রফিক।
মেয়েটা জানেই না বা কল্পনাই করতে পারে পারে না, প্রতিদিন ঐ টেবিলটা খালি পাওয়ার পেছনে কোন একজনের হাত থাকতে পারে।

প্রতি বৃহস্পতিবার - শুক্রবার কোন একজনের যে এই দুপুরবেলা টা কাটতেই চায় না, তা হয়তো মেয়েটার মাথায় কখনো আসেই নি।

কেন প্রতিদিন একটা ছেলেই টিস্যু এগিয়ে দেয়, এটা নিয়েও হয়তো কখনো ভাবে নি।
স্কুল ব্যাজে ইংরেজি বড় হাতের অক্ষরে মেয়েটার নাম লিখা।

রফিক ইংরেজি পড়তে পারে না।
কখনো কাউকে সাথে নিয়ে আসে না মেয়েটা। সব সময় একা আসে, চুপচাপ খেয়ে চলে যায়। সাথে কেউ আসলে হয়তো নাম ধরে ডাকতো, তখন সহজেই নামটা জানতে পারতো।
আবার, মেয়েটার গুটানো স্বভাবের জন্য কিছু জিজ্ঞেস করতেও ভয় পায়।
তাই রফিক অনেক কস্টে, অনেকদিন সময় নিয়ে মেয়েটার স্কুল ব্যাজের লিখাটা হুবহু কপি করতে পারলো।

সেই কপি করা লেখাটা নিয়ে নিজের চতুর্থ শ্রেণী পড়ুয়া বোনের কাছে গিয়ে জানতে চাইলো কি লেখা আছে।
সরকারি প্রাইমারি স্কুলের অবহেলা প্রাপ্ত ছাত্রী নিজের চেস্টায় যতটুকু পারে তাতে অনেক কস্টে মেয়েটির নাম উদ্ধার করতে পারলো "ছুমনা"।

ছুমনা ওরফে সুমনা খেয়ালই করতে পারে না নোংরা- ময়লা একটা ছেলে মার্জিত হওয়ার চেস্টা করছে।
মেয়েদের ষষ্ঠ ইন্দ্রীয় নাকি খুবই প্রখর, কেউ পর্যবেক্ষণ করলে নাকি কিভাবে যেন ওরা টের পেয়ে যায়।
কিন্তু সুমনার হয়তো ইন্দ্রীয় ঠিকভাবে কাজ করছে না, অথবা ওর এমন কোন ইন্দ্রীয়ই নেই।

রফিক মাসের পর মাস সুমনার খাওয়া লক্ষ্য করছে সেটা যেন সুমনার নজরেই পড়ছে না। একজন হোটেল বয় তার কাস্টমারের খাওয়া লক্ষ্য করবে সেটা স্বাভাবিক ভেবেই হয়তো কেয়ার করে না সুমনা।
সুমনার প্রতি রফিকের এই অতি আগ্রহ সুমনার চোখে পড়ে না। সে নির্বিকার।

রফিক জানে, সে কখনো বলতে পারবে না তার মনের কথা। আসলে সে নিজেও জানে না, কেন সে সুমনার প্রতি এত আগ্রহী।
তবে এটা যে ভালবাসা নয় সেটা উপলব্ধি করতে পারে। কারন, তার ভালবাসার মতো কোন যোগ্যতাই নেই।

কিন্তু, ভালবাসতে যে যোগ্যতার প্রয়োজন পড়ে না বা সামর্থ্য দেখে যে কেউ ভালবাসে না সেটা রফিকের অজ্ঞাত।

এভাবে বেশকিছুদিন যাবার পর মেয়েটি আর আসেনা হোটেলে। দিন যায়, মাস যায় হোটেলে সুমনার কোন আনাগোনা নেই, কিন্তু প্রতিদুপুরে রফিকের মনে সুমনার চলাফেরা দিনকে দিন বাড়তেই থাকে।

অবশেষে রফিক বুঝল এই হোটেলে সে আর কাজ করতে পারবে না। তাই রফিক ওদের জেলা সদরে নতুন একটি হোটেলে কাজ নিলো।

প্রথমদিনেই রফিকের চোখে পড়লো নতুন স্কুল ড্রেস (আসলে ওটা কলেজ ড্রেস ছিল) পড়া সুমনাকে।

সুমনাও রফিককে দেখে ভ্রূকুটি করলো, ধীরে ধীরে সেটা হাসিতে পরিণত হলো।

এ হাসি নিতান্তই হাসি নয়, এ হাসিতে প্রকাশ পেল নির্ভরতা, আপন মানুষ কাছে পেয়ে শরীরের শিথিলতা, অচেনা মানুষের ভীরে হঠাৎ আপন কাউকে পেয়ে যাওয়ার আনন্দ।

রফিক হাসি মুখে টিস্যু নিয়ে এগিয়ে গেল, সুমনা রফিকের চোখের দিকে তাকিয়ে আছে; আজ হয়তো খাবারের অর্ডারের বাইরেও কথা হবে দুজনের।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মে, ২০১৫ দুপুর ১২:২৪
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন কর্মী ও তার ন্যায্য পাওনা

লিখেছেন কিরকুট, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২০

বাংলাদেশের বেসরকারি খাত নিয়ে কথা বলতে গেলে আমরা সাধারণত বিনিয়োগ, মুনাফা, ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি, বাজার সম্প্রসারণ কিংবা উদ্যোক্তার ঝুঁকির কথা ভাবি। কিন্তু এই পুরো ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ কর্মীর শ্রম নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্যাস বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দায়ী কে?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১১



২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও সরকারি স্থাপনাগুলোতে আকস্মিক বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়।প্রথম দফার হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীসহ বেশ কয়েকজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাক্তাররা সামনে আরও পিটুনী খাবে... প্রতিকারের সময় এখনি

লিখেছেন অপলক , ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৫



দেশে রুগির চেয়ে ডাক্তার, নার্স বা সরকারী সেবা প্রদানকারী সংস্থার সংখ্যা অনেক কম। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে নিবন্ধিত চিকিৎসকের সংখ্যা ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৯৯ জন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আ-তে আনন্দবাজার, আ-তে আওয়ামী লীগ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৫


ইন্টারনেটে খবর পড়তে পড়তে হঠাৎ একটা শিরোনাম সামনে এলো। পড়েই কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হলো, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বুঝি বিশাল কোনো ঘটনা ঘটে গেছে। শিরোনাম, “আধ পয়সা বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০১৮ সালের পর ঢাকাতেই ৪টা এক্সপ্রেসওয়ে

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৫৩



একটা দেশের উন্নয়ন কতটা এগিয়েছে, সেটা বোঝার অনেকগুলো উপায় আছে। তবে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সেই দেশের রাস্তা, সেতু আর যোগাযোগব্যবস্থা। কারণ এগুলোর পরিবর্তন সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×