বাসে এক সাথে আসলাম। সবাই অবাক চোখে আমাদের দেখছিল। আমি বুঝি না, মানুষ এসব কে কেন অন্য চোখে দেখে? সে আমার গা ঘেসে বসে ছিল। আদুরে গলায় কথা বলতো,তার কথা কেউ বুঝত না। মজাই লাগতো।
বাস থেকে নেমে সি.এন.জি তে উঠলাম,কিন্তু সবার সেই একই দৃস্টি। নিরিবিলি-আরাম করে বসে থাকবো, তার কোন উপায় নেই।এভাবে সব্বাই তাকিয়ে থাকলে কার না অস্বস্তি হয়? আমার চেয়ে ও বেশি বিরক্ত হচ্ছিল,তাই সবার চোখ এড়িয়ে আমাকে চিমটি কাটছিল। যাই হোক,মানুষের চোখের দৃস্টি আর তার চিমটি সহ্য করতে করতে সি.এন.জি যাত্রা শেষ হলো।
সি.এন.জি থেকে নেমে সে আমার প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করতে একা একাই রাস্তা পার হবার জন্য এগিয়ে গেল। আমি এদিকে সি.এন.জি ভাড়া দেয়ার জন্য টাকা বের করে দিচ্ছিলাম। তখনি বিকট শব্দ করে একটি ভটভটি বা নছিমন ক্রস করে গেল। তখন আমি তার ডাক শুনতে পেলাম। তারপর ভাড়া চুকিয়ে রাস্তার দিকে তাকালাম। রাস্তায় ওর ছোটখাট দেহটি নিথর হয়ে পড়ে আছে। গলায় আমার বেঁধে দেয়া সেই লাল ফিতেটা এখনো বাঁধা আছে,তার শুভ্র দেহটি রক্তে রঞ্জিত হয়ে পথের ধুলোয় লুটাচ্ছে। আমার পা দুটি ভেঙে আসছে আর দাড়িয়ে থাকতে পারলাম না।রাস্তায় পড়ে গেলাম আর কিছু মনে নেই।
চোখ মেলে দেখি,বাসায় আমার রুমে শুয়ে আছি। আম্মু, পাশে বসে আছে, চোখে পানি। আমি আম্মুকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে উঠি আর চিৎকার করে বলি "আম্মু,আমি বাঁচাতে পারি নি। আমার প্রতি বুক ভরা অভিমান নিয়ে মরে গেল।" আম্মু জানতো আমি কতটা ভালবাসতাম।আম্মু কিছুই বলতে পারলো না। শুধু তার চোখে পানি চিকচিক করছিল।
২ বছর হয়ে গেছে। আজকের দিনে পাড়ি জমিয়েছিল আমার অকৃত্রিম ভালবাসা।
কবরের পাশে এসে দাড়ালাম, চোখ থেকে দু'ফোটা অশ্রু ঝরে পড়লো। এখনো তার শুন্যতা আমাকে কাঁদায়। তার স্থান কাওকে দিতে পারবো না। হাজার বার পড়া কবরের ফলকটি আবার পড়লাম। সেখানে লেখা.....
"..................কিটি................"
মৃত্যুঃ- ৫ ডিসেস্বর ২০১২
সামান্য বিড়াল ছিলাম, কিন্তু 'রনি'র ভালবাসা আমাকে অন্য পরিচয় দিয়েছে। আমি সামান্য বিড়াল না, আমি আল্লাহর একটি মাখলুকাত। বিড়াল বলে, সবার অবহেলা পাইনি আমি। পেয়েছি আশে-পাশের সবার আসামান্য ভালবাসা। আজ আমি নেই,মরে গেছি.........কিন্তু মরে গিয়ে অমর হয়ে আছি তোমার মনে।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মে, ২০১৫ রাত ৯:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



