প্রতিদিন তাকিয়ে থাকে ছোট্ট বাচ্চা টা। কি সুন্দর ওর চোখ। বড় বড় কালো গভীর দুটি চোখ। মনে হয় সেই চোখে একবার কেউ ডুবলে আর কোনদিন উঠতে পারবে না। ওর আর আমার মাঝে স্বচ্ছ দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে কাঁচ। ছেলেটা যখন কাঁচে নাক ঠেকিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে, মনে হয় আমি যদি নিজেকে একবার দেখতে পেতাম!! হয়তো অনেক সুন্দর আমি, তাই এভাবে তাকিয়ে থাকে। পর মুহূর্তে মনে হলো,নাহ্ আমি যদি এতই সুন্দর হতাম তাহলে তো সবাই তাঁকিয়ে থাকার কথা। কিন্তু কেউ তো আমার দিকে এভাবে তাকিয়ে থাকে না।
আমি ভাবি, ছেলেটার বাড়ি কেমন? ওর আম্মু কি ওর মতই সুন্দর? ওর বাবা কি ওকে খুব আদর করে? যা চায় তাই এনে দেয়? যদি তাই করে তাহলে আমাকে নিয়ে যায় না কেন?
আজ ছেলেটা এখনো আসলো না। কি হলো ওর? মনটা আমার খুব খারাপ হয়ে গেল।
আরে ওইতো ছেলেটা,সাথে ওর বাবা-মাও এসেছে। এসেই আমার দিকে ছোট ছোট আঙুল তুলে আমার দিকে নির্দেশ করলো.......
বাচ্চা টা ওর মা কে সাথে নিয়ে আসলো আমার কাছে। আর ওর বাবা গেল চেয়ারে বসা টাকলু মাথার মোটা লোকটার কাছে। ওই টাকলুকে আমার একটুও ভাল লাগে না।কেমন যেন,সারাক্ষণ নাক-মুখ কুঁচকে থাকে। সব কিছুতেই তার বিরক্তি।
অবশেষে ছেলেটার বাড়িতে আসলাম। খুব ভাল লাগছে। আমার স্থান হয়েছে ওদের ছড়ানো বারান্দায়। আলো-বাতাসে ভরপুর জায়গাটা। হঠাৎ পিছনে শব্দ পেলাম, নিশ্চয় ছেলেটা আসলো। ওহ্ এখনো তো ওর নামই বলি নি। আমিও জানতাম না,ওদের বাড়িতে এসে জেনেছি। ছেলেটার নামও ওরই মতো ছোট্ট!! ওর নাম রনি।
রনি সাথে করে একটা বন্ধু নিয়ে এসেছে। তাই পালক গুলো সোজা করলাম। একটু ফিটফাট না হলে কি চলে?
নতুন ছেলেটা বললো, "রনি তোর পাখিটা না অনেক সুন্দর।"
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মে, ২০১৫ রাত ২:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



