somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সিনেমা হলের দিনকাল

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ দুপুর ২:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির হিসাব অনুযায়ী নব্বই দশক পর্যন্ত সারা দেশে সিনেমা হল ছিল এক হাজার ৪৩৫টি। বর্তমানে আছে ২৭৮টি। ঢাকায় সিনেমা হল ছিল ৪৪টি। বর্তমানে রয়েছে ২৬টি। বর্তমানে কোনোভাবে চালু থাকা সিনেমা হলগুলো হলো—চিত্রা, আজাদ, মানসী, অভিসার, নেপচুন, গীত, পুনম, সংগীত, মধুমিতা, জোনাকী, রাজমণি, রাজিয়া, পদ্মা, সুরমা, বলাকা, বিজিবি, মুক্তি, এশিয়া, পর্বত, পূরবী, সনি, শাহীন, সৈনিক ক্লাব, আনন্দ, ছন্দ ও শ্যামলী।

ঢাকায় বন্ধ হয়ে যাওয়া ১৯টি সিনেমা হল হলো—স্টার, মুন, লায়ন, রূপমহল, শাবিস্তান, তাজমহল, আগমন, অতিথি, জ্যোতি, সাগরিকা, গ্যারিসন, বিউটি, মল্লিকা, পূর্ণিমা, গুলিস্তান, নাজ, ডায়না, যমুনা ও মেঘনা।

চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিয়া আলাউদ্দীন বলেন, সিনেমা হলের ব্যবসা মন্দা হওয়া শুরু হয় নব্বই দশকের শেষ দিক থেকে। তখন এর কারণ ছিল ভিসিআর, ডিশ ও পাইরেসি। ভিসিআর আর ডিশের মাধ্যম দর্শক ঘরে বসে ছবি দেখতে পায় বলে সিনেমা হল-বিমুখ হতে শুরু করে। আর ছবি মুক্তি পাওয়ার পর পরই অল্প টাকায় পাইরেটেড ছবি কিনে ঘরে বসেই ছবি দেখতে শুরু করে। পরে এর সঙ্গে যুক্ত হয় অশ্লীলতা। এ কারণে তখন থেকে পরিবার নিয়ে সিনেমা হলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। ২০০৬ সালের পর অশ্লীলতার দাপট কমে এলেও পর্যাপ্ত মানসম্মত ছবির অভাবে মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্তের দর্শক আর সিনেমা হলে ফিরছে না।

মিয়া আলাউদ্দীনের কথায় সিনেমা হল ভাঙা শুরু হয় ১৯৯৯ সালে। ওই বছর রাজধানীর গুলিস্তান ও নাজ সিনেমা ভাঙা হয়। কথা ছিল ওই দুটি সিনেমা হলের জায়গায় বিপণি বিতান এবং তার ওপর সিনেমা হল তৈরি হবে। কিন্তু ২০তলা ভবন তৈরি হলেও তাতে আজও স্থান পায়নি সিনেমা হল। ব্যবসায়িক মন্দার আশঙ্কায় সিনেমা হল নির্মাণে আগ্রহ হারিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। তার কথায় সারা দেশের সিনেমা হলের চিত্র এমনই হতাশাজনক।

চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি ইফতেখার নওশাদ বলেন, যেভাবে মানহীন ও স্বল্প সংখ্যক ছবি নির্মাণ হচ্ছে, তাতে সিনেমা হল চালু রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আশির দশকে ইংরেজি ছবি আমদানি করে সিনেমা হল চালানো যেত। এখন হলিউডের ছবির মান আর আগের মতো নেই। তা ছাড়া এসব ছবি ডিভিডি ও স্যাটেলাইট চ্যানেলে দেখা যাচ্ছে। তাই সিনেমা হলে এসে দর্শক আর তা দেখতে চাচ্ছে না। ভারতীয় ছবি আমদানি করা হয়েছিল। কিন্তু সেগুলো পুরনো আর একাধিকবার তা দর্শক স্যাটেলাইট চ্যানেল ও ডিভিডিতে দেখেছে বলে সিনেমা হলে এসে আর দেখতে চায়নি।

ইফতেখার নওশাদের কথায় এ অবস্থার উন্নতি তখনই হবে যখন পর্যাপ্ত মানসম্মত ছবি নির্মাণ করতে পারবেন আমাদের নির্মাতারা। পাশাপাশি উপমহাদেশীয় ছবি একসঙ্গে এ দেশে মুক্তি দিতে হবে। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলো পাকিস্তান। সেখানকার চলচ্চিত্র শিল্পের অবস্থা আমাদের চেয়েও ভয়াবহ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। প্রায় সব সিনেমা হল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরে সেখানে ভারতের ছবি একসঙ্গে মুুক্তি দেওয়ায় একদিকে প্রতিযোগিতায় গিয়ে তাদের ছবি উন্নত হয়েছে এবং দর্শক পেয়ে সিনেমা হল নির্মাণের হার বেড়েছে। ইফতেখার নওশাদ আরও বলেন, শুধু ঢাকায় নয়, দেশের সিনেমা হলগুলো কোরামিন দিয়ে কোনোভাবে টিকিয়ে রাখা হয়েছে। অধিকাংশ সিনেমা হলের পরিবেশ ভালো বলা যাবে না। ছবি যদি পাওয়া না যায় আর দর্শক যদি না আসে তা হলে লোকসান গুনে আর কত সিনেমা হলগুলো টিকিয়ে রাখা সম্ভব? এগুলোর পরিবেশ উন্নয়ন ও সংস্কার করতে তো অর্থ দরকার তা মালিকরা কোথা থেকে পাবে? তার কথায় এ অবস্থা চলতে থাকলে সহসাই এ দেশ সিনেমা হলশূন্য হয়ে পড়বে।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ দুপুর ২:৩৬
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভাবতে পারি না

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১৪


আমি ভাবতে পারি না মধ্য রাতের চাঁদ
আমি ভাবতে পারি না স্নিগ্ধ ভোরের স্নান
মধ্য দুপুরের সূর্য তাপ, সন্ধ্যার ক্লান্তি মুখ!
আমাকে ডেকে নিয়ে যায় ঘাসফড়িং কিংবা
জোনাকির ঘরপোড়া দল- শান্তির সংগ্রামে
দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পতাকার যুদ্ধ অথবা গামছা ও কালিমা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪০

একটি দেশের পতাকা শুধু কাপড় নয়। এটা একটি চুক্তি—আমরা কে, এই প্রশ্নের সম্মিলিত উত্তর। বাংলাদেশের পতাকার রং লাল-সবুজ। লাল মানে রক্ত, সবুজ মানে মাটি। এই দুটি রঙের পেছনে একটি নির্দিষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

কি করে কি করি, কি যে করি !

লিখেছেন মেহবুবা, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:০৫




আজ বেশ ক'দিন হোল আমার ব্লগবাড়িতে জ্বীন ভূতের কারসাজি চলছে! আধা পৃষ্ঠা জুড়ে কয়েকটি পোষ্ট আসছে, সব আসছে না।নিজ ব্লগবাড়িতে কত কি আয়োজন থাকে ; যেমন মন্তব্য,... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের আন্দোলনরত HSC শিক্ষার্থীদের ধিক জানাই

লিখেছেন অপলক , ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:২০



দেশের কমপক্ষে ৬ টি জেলায় উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বাতিল ও স্থগিতের জন্যে আন্দোলনে নেমেছে। এরা হল লীগ সরকরারের শিক্ষা ব্যবস্থায় বেড়ে ওঠা তরুন তরুনী, যারা পড়ালেখা না... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারত কোন ভাবেই স্বাধীনতার জন্য বাংলাদেশে সৈন্য পাঠায়নি!!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৬


ভারত কোন ভাবেই বাংলাদেশ স্বাধীন করার জন্য সৈন্য পাঠায়নি! সৈন্য পাঠিয়েছিল পাকিস্তানকে বিভক্ত করতে ও তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানকে লুটপাট করার উদ্দেশ্যে। প্রতিবেশি দূর্বল হলে দাদাগিরি করতে পারবে এটাই ছিল ইন্দ্রিরাগান্ধির ভিষন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×