somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রকাশিত কবিতার খাতা

২২ শে মার্চ, ২০১১ রাত ১০:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দু’দিন আগে আমার এক বন্ধু অনেকগুলো কবিতা নিয়ে আমার কাছে এসেছিল। প্রেম-বিরহের সুতায় গাথা একগুচ্ছ কবিতা। বিরহ ব্যাঁথা আসলে কি! বাতাস যেমন শুধু অনুভব করা যায় বিরহ ব্যাঁথাও ঠিক সে রকম। সুখ-দুঃখ, ব্যাঁথা- বেদনা অনুভব করার জিনিস। ট্যাবলেট খেয়ে এগুলো তাড়ানো বা হাসিল করা সম্ভব নয়। যায় না। সুখ এমন কিছু নয় যে কাঠাল খাওয়ার মতো দু’পিছ সুখ খেয়ে ফেললাম আর সুখী হয়ে গেলাম। দুঃখও তেমন। তবে দুঃখ-সুখ আমাদের জীবনেই আসে। ইচ্ছায়-অনিচ্ছায়, আগ্রহ-আনাগ্রহে। আসে বাতাসের মতো, ঝড়ের মতো, বৃষ্টির মতো। বন্ধুর কবিতা গুলো আমাকে বেশ মর্মাহত করেছিল। ব্যাঁথার কথামালা কাগজ-কলমের বন্ধনে আবদ্ধ। চোখের পানির ঘ্রান প্রতিটি ছন্দে। তার ছোট জীবনে অনেক ট্রাজেডি আছে। পড়াশোনা শেষ করে চাকরির জন্য পায়ের জুতা ক্ষয় করা তারপরও চাকরি না পাওয়ার গ্লানি। প্রেম করে প্রেমিকাকে না পাওয়ার ব্যার্থতা সব কি বড় বড় এক কষ্টের পাহাড়। বন্ধুটি আসলে ঠিক প্রেম করেনি। বেকার জীবনে বিয়ে করার এক মহৎ উদ্দেশ্য সামনে নিয়ে বিয়ে করতে গিয়েছিল। পড়াশোনা শেষ করার পর চাকরি না হতে পারে কিন্তু বয়স তো আর থেমে থাকেনা। ওর কথা গুলো ঠিক কবিদের মতো, কবিতার মতো। আমার কাছে মনে হয় সব সময়। প্রায়ই বলতো কতো বছর বাচবো। পড়াশোনা শেষ করতে করতে ত্রিশ বছর, চাকরি খুজতে খুজতে আর পাঁচ, বাকী কি থাকে! জীবনের, যৌবনের। আমরা আসলে বিয়েটাকে খুব কঠিন করে ফেলেছি। বিয়ে কঠিন করে সহজ করেছি জ্বেনা-ব্যাভিচার। আগাছার মতো নোংরামী, নষ্টামির সয়লাব। গলা টিপে হত্যা করেও যেন তা মিটিয়ে দেওয়া যাবেনা। ওর কতো গুলো মেয়ে বন্ধুর কথা বলে। একসাথে অর্নাসে পড়েছে। বেশ মজায় কাটিয়েছে ছাত্র জীবন। স্বপ্ন আর প্রত্যাশার পাহাড় ছিল প্রত্যেকের বুকে। ইদানিং তাদের কারও বিয়ে হচ্ছেনা। ছেলে দেখতে আসে তো ছেলের মেয়ে পছন্দ হয়না আবার অনেক ছেলে যারা আসে তারা মেয়ের প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়না। হ্যান্ডসাম যুগ। ক্লোজআপের যুগ। মেয়েরা সারাদেশ ভরে প্রতিভা খোজার মতো স্বামী খুজে বেড়ায়। ছেলেরা সুন্দরী লালনা, নচনে- বাচনে, নিজেকে প্রর্দশনে বিজ্ঞ সব মেয়ে খোজে। তারপর টাকা ওয়ালা হতে হবে। পাজেরো গাড়ি থাকতে হবে। বাড়িতে লিফট থাকতে হবে। চেয়ারে স্প্রিং থাকতে হবে। খোলা জ্বানালা দিয়ে সাগর কিংবা নদী একটা কিছু দেখার মতো সুন্দর পরিবেশ থাকতে হবে। থাকা আর চাই চাই করে শেষ পর্যন্ত বলে বিয়ে করবো না। বিয়ে কি মানুষ করে? আমার কবি বন্ধু অমানুষ হয়ে বিয়ে করতে গিয়েছিল! পারিবারিক অবস্থা ভাল হবার কারনে মেয়ে পক্ষ বেকার ছেলেকে ও মেয়ে দেখাতে রাজি হয়। ওর নাম সাথী। দেখতে গিয়ে নাকি শুধু মেয়েটার মুখের দিকে তাকিয়ে ছিল। তার মুখ নিয়ে একটা কবিতাও লিখেছে- কি মায়াবী মুখ, দেখে ভরে বুক
কি যে তুমি আমার, বোঝার সাধ্য কার?
বাড়ি এসে বাবার কাছে বলতেই শুরু হয় অগ্নি বৃষ্টি। বউকে খাওয়াবি কি? সারা জীবন কি বুড়ো বাপের ঘাড়ে বসে খাবি! মানুষ কারও ঘাড়ে বসে খায়না। চেয়ার-টেবিলে বসে খায়। ইসলামী ভাবধারার মানুষেরা নিচে ফ্লোরে দস্তারখানা বিছিয়ে খায়। কবি ইসলামী হোক বা আধুনিক কালচারের হোক সে বাবার ঘাড়ের উপর থালা-বাটি, তরকারির গামলা রেখে একলাফ দিয়ে ঘড়ে উঠে যে খেতে বসবে না এ বিশ্বাস আমার আছে! তারপরও কতো কথা। বিয়ের সাধ মিটলেও মেয়েটাকে মন থেকে মুছতে পারেনা। আমি জানি সে যে চাকরি পাচ্ছেনা, নিজের পায়ে নিজে দাড়াতে পারছে না এ অপরাধ মোটেও তার নয়। কবি সর্বশেষ সেখানে ইন্টারবিউ দিয়েছিল সেই প্রতিষ্ঠানে দু’জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। খালি দুটো পদের জন্য ছয়জন মন্ত্রী পাঁচজন পাঁচজন মানুষের পক্ষে সুপারিশ করেছেন। আমার লোক চাকরির ব্যাবস্থা করুন। প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের থরে কম্প অবস্থা। দুটো পোস্ট, ত্রিশ জনের জন্য সুপারিশ! তাও আবার মন্ত্রীদের সুপারিশ বলে কথা। তাদের যদি বলা হয়, স্যার পোস্ট তো দুটো। আপনি একাই ছয়জনের জন্য সুপারিশ করেছেন? তারা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। মন্ত্রীদের আবার রাগ একটু বেশিই থাকে। গম্ভীর কন্ঠে বলবেন, পোস্ট খালি করুন। অনেক প্রতিষ্ঠানে পোস্ট খালি করা হয়েছে।
কিছু কথা হচ্ছিল। হরেক রকম কথা। কথার ফাকে ফাকে কবিতার দিকে নজর বুলাই। কবিতা আমার খুব বেশি পছন্দ নয়। অনেকে বলবেন যার মন বলতে কিছু নেই শুধুমাত্র তারই কবিতা ভাল লাগেনা। মন থাকার কারনেই বা কে কি করতে পারছে! বড় বড় মন ওয়ালারা মনের ধকল সহ্য করতে না পেরে অসহায় ভাবে চিৎকার দিচ্ছে। কবিতা লিখছে। পাঁচ কেজি মন থাকলেই মানুষ মানুষের উপকার করছে, না ভালোবাসছে? বর্তমান সময়ে মোড়ল মনের অধিকারী জাতি আমেরিকা। শিক্ষা-দীক্ষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, বড়ত্ব-মহত্ব সবকিছুতে শ্রেষ্ঠত্বের দাবীদার ঐ আমেরিকা। সেই জাতি বড়ত্ব – মহত্ব আর উদারতার এমন এক সীমায় পৌছে গেছে যে, সেখানে পুরুষের বিয়ে করার জন্য নারীর প্রয়োজন হয়না। নারীর প্রয়োজন হয়না পুরুষ। দিন বদল, যুগ বদলের কল্যানে নারী-নারী, পুরুষ-পুরুষ বিয়ে তারা আইন করে জায়েয করে ছেড়েছে। আমাদের এসব শুনলে গাল ভরে বমি আসলেও ওনারা এসবেই পরিতৃপ্ত, আনন্দিত। তাদের উত্তরসূরী যে এদেশে নেই এমন নয়। আছে। তারা কেবল জেন্ডার বৈষম্য তুলে দেওয়ার জন্য মাঝে মাঝে সামান্য সামান্য কথা বলেন। জেন্ডার বৈষম্য সামাজিক উন্নতি ও প্রগতির পথে অন্তরায়। এ বৈষম্য থাকা চলবে না। নারী- পুরুষে কোন ভেদাভেদ চলবে না। সৃষ্টিগত ভাবে যেখানে ভেদাভেদ আছে, পকৃতি গত ভাবে যেখানে ভেদাভেদ আছে সেখানে আমি এক সৃষ্টি যদি বলি ভেদাভেদ থাকবে না তাহলে আমাকেই আগে ভেদাভেদ, পার্থক্য দূর করতে হবে! কিভাবে দূর করবেন? আপনাকে সৃষ্টি করা শিখতে হবে। তা কখনোই মানুষের পক্ষে, কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। যিনি সৃষ্টিকর্তা তিনিই একমাত্র সৃষ্টি করেন। তার প্রতিটি সৃষ্টি নির্ভূল,নিখুত, সুন্দর। আপনারা বড়জোর আল্লাহপাকের সৃষ্টির উপর যন্ত্রপাতি চালিয়ে বদলে বিকৃত হতে পারেন। যারা বলেন, জেন্ডার বৈষম্য থাকবে না, তারা আসলে কি বলেন তারাই তা জনেন না। জেন্ডার তো আছেই। মেল,ফিমেল। আরও এক জেন্ডার আছে। দুনিয়ার সবাইকে তারা সেই জেন্ডার বানাতে চায়। উন্নতি ও প্রগোতির শীর্ষে আবস্থানকারীদের অবস্থা অনেকটা তৃতীয় জেন্ডারের মতো। আচরন, চরিত্র| যারা জেন্ডার বৈষম্য দূর করতে চান তারা বদলে যান। তাদের আপন, পক্ষে স্লোগানকারীদের বদলে দিন। বদলে যাও, বদলে দাও।
অনেক সময় আমার বন্ধু মহোদয় চুপ করে বসে ছিল। মানুষের আসলে কতো চিন্তা। মানুষ চিন্তার ঝুড়ি মাথায় নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। খাওয়ার চিন্তা, পরার চিন্তা, বাচার চিন্তা। বিয়ের চিন্তা। কেউ কেউ গোপনে বিয়ে করে। মোবাইল করলে বলে আমার বউ আমাকে বিস্কিট খাইয়ে দিচ্ছে। তাদের কি সুখ! বন্ধুকে বলি, কিরে চুপ করে বসে আছিস কেন? গোমড়া মুখে বসে থাকবি না। বিয়ে না হলে কি মানুষ বাচেনা? নারী ছাড়া কি মানুষ বাচেনা?
• বাচে।
• তাহলে এতো চিন্তা কিসের?
• ভাবছি কতোদিন বেকার থাকবো?
কিছুক্ষন সময় নিয়ে বলে, আচ্ছা আমি যদি কবি হয়ে যাই তাহলে কি বেকারত্ব থাকবে? তুই কবিতা গুলো পড়।
আমার খুব হাসি পায়। কবি! কবি হয়ে তিনি বেকারত্ব ঘোচাবেন? যে দেশে প্রতিদিন মানুষ খুন হয়। সন্তান বাবা-মা হারা হয়। স্ত্রী তার স্বামী হারায় সে দেশে আর কিছু না থাক কবির অভাব থাকেনা। আমাদের ছোট দেশটা কবি লেখকে ভরা। কতো কবি!
আমার বন্ধু বলে, আমি একটা বই বের করবো।
টাকা আছে’
না
তাহলে
প্রকাশক বই বের করবে টাকা লাগবে কেন! আমাকে আরও টাকা দেবে।দেবেনা?
সেটা অনেক দূর। সেই দূরে পৌছাতে হলে অনেক টাকা খরচ করতে হয়।
তাহলে
তুই একটা কাজ করতে পারিস।’
কি?’
একটা কবিতার খাতা বের করতে পারিস। খাতা ভরে কলম দিয়ে লিখে লিখে দোকানে দোকানে দিবি।
আমার সহাস্য কৌতূকে বন্ধুর চোখে জ্বল আসে। বলে, আমি বাচবো না রে।
আমার কোথাও ব্যাথা করেনা।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৩ এ ওয়াকআউট করেছিলেন, ২০২৬ এ তিনিই ঢাবির ভিসি ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২


২০২৩ সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভা চলছে। একজন শিক্ষক দাঁড়িয়ে বললেন, হলগুলোতে ছাত্রলীগের গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। কথাটা শেষ হতে না হতেই তৎকালীন ভিসি জবাব দিলেন, "গেস্টরুম কালচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ ভোর ৪:২১

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
==========================
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি ও বাঙালির মুক্তির অগ্রদূত। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শেখ লুৎফর রহমান ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

এপস্টেইনের এলিট: ইসরায়েলের মিডিয়া নিয়ন্ত্রন এবং প্রপাগাণ্ডা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ ভোর ৬:৩৮


ইতিহাসবিদ ইলান পাপে বলেছেন, "ইসরায়েল অবৈধ বসতি স্থাপনকারী, ঔপনিবেশিক শক্তির একটি প্রজেক্ট। এটি ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় গড়ে ওঠা স্বাভাবিক রাষ্ট্র নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তির দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যবস্থা"। এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পিতা তোমার জন্মদিনে জানাই শুভেচ্ছা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:৩৬


কার ডাকেতে টগবগিয়ে ফুটলো বাংলাদেশ
কার ডাকেতে বিজয় ছিনিয়ে  মুক্ত হলো স্বদেশ?

কার ডাকেতে সমবেত হয়েছিলো দীপ্ত তরুণেরা,
কার ডাকেতে দ্বিধা ভূলে একত্রিত  তারা?

কার ডাকেতে অসাম্প্রদায়িক হলো আমার প্রিয় দেশ
কার ডাকেতে স্বপ্ন... ...বাকিটুকু পড়ুন

তিনি বাংলাদেশী জাতির জনক

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



বঙ্গবন্ধৃ শেখ মজিবুর রহমানকে জাতির পিতা মানে বাংলাদেশী নাগরিকগণের একাংশ। ১৯৭১ সালের পূর্বে বাংলাদেশী নামে কোন জাতি ছিল না। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের নাগরিকগণের একাংশ পশ্চিম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×