somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ওরা আবার পরিকল্পিত বুদ্ধিজীবী হত্যা শুরু করেছে

১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ৮:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

, শুত্রুবার রাতে এক তরুণীর কান্না জড়ানো অথচ অগ্নিগর্ভ কণ্ঠে শুনতে হবে, আমাদের এক ভাই রাজিব হায়দারকে জামায়াত-শিবির নৃশংসভাবে খুন করেছে। এরপরে আর আমরা এই প্রজন্ম চত্বর ছেড়ে যাব না। আমাদের বিকেলের জাগরণী সমাবেশে যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, বিকেলে তিনটা থেকে রাত দশটা অবধি আমরা এই চত্বরে থাকব। সেই কর্মসূচীতে আমরা আর থাকছি না। কারণ, আমার ভাই খুন হয়েছেন। এতদিন আমরা লাকীর কণ্ঠ শুনেছি, কিন্তু শুক্রবার রাতে যে মেয়েটি ঘোষণা দিল তার কণ্ঠ যেন লাকীর কণ্ঠ থেকে হাজার গুণ শক্তিশালী। বাস্তব ঘটনাই বুঝি সাধারণ মানুষকে এমনি অসাধারণ করে তোলে।
বাংলাদেশকে রাজাকারমুক্ত করার যে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ বা শুদ্ধি বিপ্লব শুরু হয়েছে, এই যুদ্ধে রাজাকার ও রাজাকার সন্তানদের হাতে প্রথম শহীদ জাফর মুন্সী। তবে তিনি এই তরুণ প্রজন্মের নন। তিনি প্রজন্মসেনাও নন। তিনি সাধারণ একজন মানুষ। কিন্তু তাঁর বুকের ভেতর থাকা দেশপ্রেমের আগুনটি জ্বালিয়ে দিয়েছিল এই রাজিবদের প্রজন্ম। অন্যদিকে রাজিব ছিলেন এই দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধটি বা আমাদের এই শুদ্ধি বিপ্লবের যাঁরা ডাক দিয়েছেন সেই সংগঠকদের একজন। শুক্রবার জাগরণী সমাবেশ শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে জামায়াত-শিবির তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করে। একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বরের আগে যে কাজ করেছিল সেই কাজ করেছে জামায়াত-শিবির, রাজিব হত্যার ভেতর দিয়ে প্রমাণিত হলো তারা আবার সেই কাজ শুরু করেছে। তারা এখন আর শুধু পুলিশের ওপর হামলা করছে না। তারা একাত্তরের মতো আবার পরিকল্পিত বুদ্ধিজীবী হত্যা শুরু করেছে।
রাজিব হত্যার খবর শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে দাঁড়িয়ে পাওয়ার পরে মনে হয়, এই তরুণরা, যাঁরা কোনদিন রাজনীতি করেননি তাঁরা হত্যাকা-ের খবরে হয়ত ভয় পেয়ে যাবেন। জামায়াত-শিবিরের মূল উদ্দেশ্য সেটাই। কিন্তু বাস্তবে ঘটনা ঘটে উল্টো। ওই রাতেই এ খবর পাওয়ার পরে চারদিক থেকে শত শত তরুণ দলে দলে ঢুকতে থাকেন শাহবাগ চত্বরে। অথচ সকলে ধীরস্থির। ক্ষোভের আগুন তাঁদের চোখে-মুখে। কিন্তু চারপাশে রাখা এত গাড়ি, এত স্কুটার। না তাঁরা কোন ভাংচুর করছেন না। তাঁদের ক্ষোভের বহির্প্রকাশ শুধু স্লোগানে আর অবস্থানে। আমাদের ভেতর কবে এই তরুণরা জন্ম নিয়েছেন, কবে বড় হয়েছেন আমরা কিন্তু বুঝতে পারিনি। এই তরুণরা তো পৃথিবীর উন্নত দেশের যে কোন তরুণের মতোই।
রাজিবের খবরের পরে এই যে শত শত তরুণ-তরুণী ওই মধ্যরাতে শাহবাগে ঢুকছেন। যাঁদের কণ্ঠে কেবল একটি কথা, রাজিব হত্যার বিচার চাই। যাঁদের কণ্ঠে সেই এক দাবি রাজাকারমুক্ত বাংলাদেশ চাই। অথচ তাঁরা কোন ভাংচুর করছেন না। একটি কাগজেও তাঁরা আগুন জ্বালাচ্ছেন না।
অন্যদিকে জঙ্গী জামায়াত- শিবির শুধু যে জাফর মুন্সী আর রাজিব হায়দারকে হত্যা করছে তা নয়। রোহিঙ্গাদের নিয়ে কক্সবাজারে তা-ব চালায় একই দিনে। তখন কেবল মনে হলো, বাংলাদেশে এখন যে পশ্চিমা প্রচার মাধ্যম প্রতিনিধি আছেন তাঁরা কি আসলে অন্ধ হয়ে গেছেন। তাঁরা কি এই সত্যটুকু দেখতে পাচ্ছেন না যে, বাংলাদেশের তরুণ সমাজ শান্তিপূর্ণভাবে একটি জঙ্গী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। যে লড়াই আমেরিকা, ইউরোপও করছে। লজ্জা করে এখন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ভূমিকায়। এরা কিনা বলছে বাংলাদেশের ধর্মীয় নেতাদের ফাঁসি দেয়ার জন্য আন্দোলন করছে? এসব সংগঠনের ভূমিকা দেখে এখন মনে হয়, আসলে এরা এখন ব্যবসা করে। এরা জঙ্গীদের অর্থ দ্বারা লালিত হয়।
শনিবার অনেকেরই আশঙ্কা ছিল, জামায়াতের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরে শাহবাগে কেমন লোক হবে? যাঁরা এদিন বিকেলে শাহবাগ গিয়েছিলেন তাঁদের বুক ভরে যাওয়ার কথা। স্কুলের ছোট ছেলেমেয়েগুলোও তাদের স্কুল ড্রেস পরে চলে এসেছে। তারা উচ্চ কণ্ঠে অথচ শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানাচ্ছে। আর শাহবাগ হয়েছে জনসমুদ্র। জানাজা যেন মহাসমাবেশের আকার ধারণ করে। স্বাধীনতার ৪২ পরে জন্ম নেয়া এক তরুণের মৃতদেহ এলো জাতীয় পতাকায় জড়িয়ে, ফুলে ফুলে ও লাখো মানুষের বিনম্র্র শ্রদ্ধায় ভর করে শাহবাগ চত্বরে। তখন লাখো মানুষের চোখে জল, বুকে আগুন। আর একটি স্লোগান এক রাজিব লোকান্তরে, লক্ষ রাজিব ঘরে ঘরে।
যাঁরা রাষ্ট্রক্ষমতায় আছেন, তাঁদের প্রতি শুধু একটি অনুরোধ সারাদেশ আর কিভাবে এক হলে আপনারা বলবেন, জাতীয় ঐক্য হয়েছে। আর কবে আপনারা জঙ্গী জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করবেন? হিযবুত তাহ্রীর মতো এরাও জঙ্গী। এদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে আর কালক্ষেপণ কেন? প্রবাসী বাঙালীদের প্রতি অনুরোধ, যে যেখানে আছেন, রাজিবের রক্তের শপথ নিয়ে এখন বিশ্বজনমত গড়ে তুলতে কাজ করুন। যেমন ’৭১-এ করেছিলেন প্রবাসী বাঙালীরা। যাতে বিশ্ব মিডিয়ায় আর ভুল সংবাদ বা একপেশে সংবাদ পরিবেশিত না হয়। বিশ্বজনমত গড়ে ওঠে যেন এদের নিষিদ্ধ করার পক্ষে।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×