somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে আপসহীন খালেদা

০৩ রা মার্চ, ২০১৩ রাত ১১:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিরোধী দলের নেত্রী সিঙ্গাপুর থেকে ফিরে শুক্রবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তার বক্তব্য শুরুই হয়েছে স্তম্ভিত ক্ষুদ্ধ ও মর্মাহত শব্দগুলো উচ্চারণের মধ্য দিয়ে। এরপর গণহত্যার কথা বলেছেন। দোষ দিয়েছেন সরকারকে।

এখানে গণহত্যার একটি সংজ্ঞা উল্লেখ না করে পারছি না। ১৯৪৮ সালের ৯ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহিত রেজ্যুলেশন ২৬০(৩) অনুসারে যেসব কর্মকাণ্ড গণহত্যার উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয় সেগুলো হচ্ছে:

ক) পরিকল্পিতভাবে একটি জাতি বা গোষ্ঠীকে নির্মূল করার জন্য তাদের সদস্যদেরকে হত্যা বা নিশ্চিহ্নকরণ।
খ) তাদেরকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিসাধন।
গ) পরিকল্পিতভাবে একটি জাতিকে ধ্বংসসাধন কল্পে এমন জীবননাশী অবস্থা সৃষ্টি করা যাতে তারা সম্পূর্ণ অথবা আংশিক নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।
ঘ) এমন কিছু ব্যবস্থা নেওয়া যাতে একটা জাতি বা গোষ্ঠীর জীবন ধারণে শুধু প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি নয়, সেই সঙ্গে তাদের জন্ম প্রতিরোধ করে জীবনের চাকাকে থামিয়ে দেওয়া হয়।
ঙ) একটি জাতি বা গোষ্ঠীর শিশু সদস্যদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে তাদের জন্ম পরিচয় ও জাতিগত পরিচয়কে মুছে ফেলাকেও গণহত্যা বলা হয়।

পাশাপাশি এর সঙ্গে সংগঠিত গণহত্যার শাস্তির কথাও বলা হয়েছে। যা এখানে উল্লেখের প্রয়োজন নেই।
মাননীয় বিরোধীদলের নেত্রী কি অর্থে গণহত্যার কথা উল্লেখ করেছেন তা বোধগম্য নয়। তবে দেশব্যাপী জামায়াতের তাণ্ডবে পুলিশসহ ৭৮ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তিনি যদি এ অস্থিরতা ও নৈরাজ্যকে গণহত্যা বলে থাকেন তবে সুস্পষ্ট ভাষায় বলা যায়, তিনি সঠিক কথা বলেননি। বরং আমাদের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান বাহিনীর সংগঠিত গণহত্যা ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংগঠিত সব গণহত্যায় নিহতদের এক ধরনের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। তবে আমরা অবশ্যই যেকোনো অপ্রত্যাশিত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানাই।

বিরোধী দলীয় নেত্রী সরাসরি জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডবকে সর্মথন দিয়ে মূলত দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষকে সংঘাতে দিকে ঠেলে দিয়েছেন। পাশাপাশি হিন্দু পল্লীসহ নিরীহ সংখ্যালঘুদের ওপর জামায়াতি তাণ্ডবে বৈধতা দিয়েছেন। যা একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কাছে গণতন্ত্র প্রিয় মানুষ কখনো প্রত্যাশা করে না।

অভিযোগ উঠেছে, দেশের ভাবমূর্তি বর্হিবিশ্বে নষ্ট করতে পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এটাকে ‘গণহত্যা’ বলা হচ্ছে। এতে সরকার বিশ্বের কাছে অপদস্থ হলে লাভবান হবে বিএনপি-জামায়াত। আশা করি, এ তথ্য যেন সত্যি না হয়।

সাঈদীর মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর থেকেই উগ্রবাদী জামায়াতের জঙ্গিরা পরিকল্পিতভাবে মুক্তিযুদ্ধের সময়ের মতো একযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু ও নিরীহ মানুষের বাড়ি-মন্দিরে সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এসব হামলাকে বৈধতা দিয়ে তিনি প্রমাণ করলেন, এই বাংলাদেশ তারা চাননি। এর মাধ্যমে দেশের শান্তি প্রিয় মানুষের সঙ্গে তিনি এক ধরনের প্রতারণা করেছেন। দেশপ্রেমিক প্রতিটি মানুষকে করেছেন অপমান।

বিএনপি নেতারা কাদের মোল্লার রায়ের সময় বলেছিলেন, সরকার জামায়াতের সঙ্গে আঁতাত করেছে। আর সাঈদীর রায়ের বিষয়ে বলছেন, এ রায় প্রশ্নবিদ্ধ। এই দৈত অবস্থান জাতির সামনে বিএনপির আসল রূপ বেরিয়ে এসেছে। বরাবরে মতই আবারও প্রমাণিত হয়েছে, বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষেই আছে এবং থাকবেও।

তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের লোকজন মসজিদে আক্রমণ করেছে। অথচ দেশের প্রায় সব গণমাধ্যম দেখিয়েছে ও কাগজগুলো লিখেছে, জামায়াত-শিবির এসব আক্রমণ ও তাণ্ডব চালিয়েছে। যারা জাতীয় পতাকা ছিড়ে টুকরো টুকরো করলো অথচ তিনি তাদেরই পক্ষ নিলেন। আমাদের শহীদ মিনার ভাঙচুর করা হয়েছে অথচ তার বক্তব্যে এর কোনো উল্লেখ করা হয়নি।

অনেকে তাকে ‘আপসহীন’ বলতে ভালোবাসেন। হয়তো তিনি নিজেও তাই মনে করেন। এবার প্রমাণ হয়েছে, তিনি আপসহীনই বটে, তবে স্বাধীনতা বিরোধীদের পক্ষে। যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর প্রশ্নে একজন আপসহীন নেত্রী তিনি। একথা স্বীকার করতেই হচ্ছে।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের বিজয় খুব দরকার ...

লিখেছেন অপলক , ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৩৪



বিগত সরকারগুলো যে পরিমান ক্ষয়ক্ষতি করে গেছে, তা পুষিয়ে নিতে ১০টা বছর যোগ্য এবং শিক্ষিত শ্রেনীর হাতে সরকার ব্যবস্থা থাকা খুব জরুরী। গোমূর্খ চাঁদাবাজ আর নারী লিপ্সুদের ভীড়ে জামায়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন পলিটিক্স পছন্দ করি না সেটা বলি।

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:১৩

আমি পলিটিক্স এবং পলিটিশিয়ান পছন্দ পারি না। কোন দলের প্রতিই আমার আলগা মোহ কাজ করেনা। "দলকানা" "দলদাস" ইত্যাদি গুণাবলী তাই আমার খুবই চোখে লাগে।

কেন পলিটিক্স পছন্দ করি না সেটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট : ২০২৬ ইং ।

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৩:০২

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট : ২০২৬ ইং
(বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে স্হানীয় পর্যবেক্ষণ)




আমরা সবাই অনেক উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা নিয়ে আগত নির্বাচন নিয়ে উন্মুখ হয়ে আছি,
প্রতিটি মর্হুতে বিভিন্ন... ...বাকিটুকু পড়ুন

******মায়ের শ্রেষ্ঠ স্মৃতি******

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:১৫


মায়ের স্মৃতি কোনো পুরোনো আলমারির তাকে
ভাঁজ করে রাখা শাড়ির গন্ধ নয়
কোনো বিবর্ণ ছবির ফ্রেমে আটকে থাকা
নিস্তব্ধ হাসিও নয়
সে থাকে নিঃশব্দ এক অনুভবে।

অসুস্থ রাতের জ্বরজ্বালা কপালে
যখন আগুনের ঢেউ খেলে
একটি শীতল... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণ এবার কোন দলকে ভোট দিতে পারে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৬


আজ বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন। সকাল সাতটা থেকেই মানুষ ভোট দিতে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বিএনপি জোট বনাম এগারো দলীয় জোট (এনসিপি ও জামায়াত)। নির্বাচনের পরপরই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×