somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অন্তর্কলহে আওয়ালীগে অশান্তি

১৬ ই আগস্ট, ২০১৪ রাত ১০:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১/১১-এর পর টানা দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ অন্তর্কলহে এখন আর শান্তিতে নেই। প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজনৈতিক মামলা-হয়রানি এড়াতে এলাকা ছাড়া হলেও অন্তর্কলহে জীবন শঙ্কায় ভুগছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।একের পর এক হত্যাকাণ্ড কেন্দ্রীয় নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূলে আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগ। এতে দেশজুড়ে দলীয় নেতাকর্মীদের খুনিদের বিচারের আওতায় আনতে না পারায় তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর ক্ষোভ বাড়ছে।জানা যায়, ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে সরকার গঠনের পর থেকেই আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ যেন আওয়ামী লীগ নিজেই। গত ছয় বছরের শাসনামলে শঙ্কা আর নিরাপত্তাহীনতায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন পর্যায়ে গ্রুপিংয়ে নানামুখী সংকটে দলটির মাঠ পর্যায়ের রাজনীতি।জনপ্রিয়তা, রাজনৈতিক অন্তর্দ্বন্দ্ব, স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার এবং ব্যবসায়িক কোন্দলসহ বিভিন্ন কারণে একের পর এক লোমহর্ষক খুনের শিকার হচ্ছে দলটির বিভিন্ন সারির নেতাকর্মী। কোনো কোনো যাত্রায় দুর্বৃত্তদের হামলা থেকে তারা বেঁচে গেলেও আতঙ্কে রয়েছেন ঐসব নেতা।সূত্রমতে, ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতায় আসার পর এখন পর্যন্ত দলটির যত নেতাকর্মী খুন হয়েছেন, ২০০১ থেকে ২০০৭ বিরোধী দলে থাকা অবস্থায়ও (তুলনামূলক) এত নেতাকর্মী খুনের ঘটনা ঘটেনি। এছাড়াও ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে সরকার গঠনের পর দেশজুড়ে বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় নেতা নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন। এর সঙ্গে জড়িত ছিল নিজ দলের নেতাকর্মীরাই।বেশ কয়েকটি নৃশংস খুনের ঘটনার পেছনে নিজ দলের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। খুন হওয়া নেতাকর্মীদের পরিবারের পক্ষ থেকেও খুনের পেছনে নিজ সংগঠনের নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এর মধ্যে নরসিংদীর পৌর মেয়র লোকমান হোসেন, ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার চেয়ারম্যান একরামুল হক একরাম, ঢাকা মহানগর যুবলীগ নেতা রিয়াজুল হক খান মিল্কী এবং সর্বশেষ রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের নেতা জাহাঙ্গীর কবীর খুন হয়েছেন।এছাড়াও আওয়ামী লীগের গত ছয় বছরে দেশজুড়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে দলটির আড়াই শতাধিক নেতাকর্মী খুন হয়েছেন বলে জানা গেছে। ২০১১ সালের ১ নভেম্বর রাত ৮টার দিকে ৩/৪ জন মুখোশধারী সন্ত্রাসী নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের অস্থায়ী কার্যালয়ে ঢুকে পৌর মেয়র লোকমান হোসেনের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে এম্বুলেন্সেই মারা যান তিনি। এই খুনের পেছনে তৎকালীন সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমদ রাজু এবং তার ভাই সালাউদ্দিন বাচ্চুকে দায়ী করেন লোকমানের ভাই কামরুজ্জামান।ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা একরামুল হক একরামকে খুন করার ধরন সকল নৃশংসতাকে ছাড়িয়ে গেছে। চলতি বছরের ২০ মে ফেনী শহরে প্রকাশ্যে একরামকে গুলি করার পর গাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডে সঙ্গে জড়িত র্যা বের হাতে আটক আট যুবক স্থানীয় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এর মধ্যে একজনের মা আবার স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেত্রী।এদিকে রিয়াজুল হক খান মিল্কী ছিলেন ঢাকা মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। গুলশানে একটি বিপণিবিতানের সামনে গতবছর ২৯ জুলাই তাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে তার দলের অপর নেতা জাহিদ সিদ্দিক তারেক।এছাড়াও খুন হয়েছেন যশোরের আওয়ামী লীগ নেতা প্রকাশ দত্ত, অভয়নগরের রাজু আহমদ, পুলেরহাট বাজারের বাছের, জেলা তরুণ লীগের কামরুজ্জামান রিপন, যুবলীগ নেতা মজু, আবদুল খালেক, নজরুল ইসলাম বাবু, আরব আলী, সাংবাদিক জামাল হোসেন, জাফর, তরিকুল ইসলাম, রুহুল আমীন, মনিরুল, আবদুল্লাহ ওরফে বাবু, কর্মী শফিকুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান পিকুলসহ আরো অনেকে।এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, “খুনিরা কেউ পার পাবে না। কেউ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করলে তাদের যথাস্থানে পাঠিয়ে দেয়া হবে।”এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম পরিবতনকে বলেন, “দেশের সর্ববৃহৎ একটি দলের মধ্যে অন্তর্কলহ থাকা অস্বাভাবিক নয়। অচিরেই এ কলহ মিটে যাবে।”তবে এ বিষয়ে দলটির মাহবুব উল আলম হানিফসহ শীর্ষ অন্য নেতারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই আগস্ট, ২০১৪ রাত ১০:৫৭
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথায় পাই পাগলের শ্বশুর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮


পাগলের পাতা ছাগলে খায়,
দাঁতের দোষটা হাতেই যে কয়;
দেয় রে দোষটা দেয় চোখের,
মনটা যে ধোয়া তুলসীপাতা,
কেউ দেখে না রে মুখের।

মুখের কথা ঠোঁটে কয়,
ছাগল ডাকে রে ভাই, ব্যাঁ-ব্যাঁ;
পাগলের কাজ পাগল করে সই,
সাধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×