somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মধ্যপ্রাচ্যে ‘ইসলামি রাষ্ট্রের' উপস্থিতি হবে শক্তিশালীএবং সম্ভবত দীর্ঘমেয়াদি

১৮ ই আগস্ট, ২০১৪ রাত ১১:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ বলতে হবে, এই জিহাদিরা মধ্যপ্রাচ্যে একটা উঠতি শক্তি, ইরাকের এক-তৃতীয়াংশ তাদের দখলে৷ ওবামা প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে বিমান হানা চালাচ্ছে, খোদ ভ্যাটিকান থেকে যার সমর্থন আসছে৷মধ্যপ্রাচ্যে ‘ইসলামি রাষ্ট্রের' উপস্থিতি হবে শক্তিশালী এবং সম্ভবত দীর্ঘমেয়াদি – বলছেন পণ্ডিতরা৷ শুধু বোমা মেরে তাদের অগ্রগতি থামানো যাবে না৷ সেজন্য লাগবে জাতিসংঘের সনদ-পুষ্ট একটি আন্তর্জাতিক জোট ও তাদের সেনাবল৷‘ইসলামিক স্টেট' নামধারী জিহাদি বাহিনীর লক্ষ্য হলো, ইউফ্রেটিস ও টাইগ্রিস নদের মধ্যবর্তী এলাকায় একটি আন্তঃ-সীমান্ত খলিফাৎ সৃষ্টি করা৷ গোড়ায় তাদের এই উচ্চাশার কথা শুনে লোকে হেসেছিল৷ আজ সেই ইসলামিক স্টেটের যোদ্ধারা আত্মবিশ্বাসে ভরপুর৷আরব সমাজে যে সব সাম্প্রদায়িক ও জাতিগত ফাটল দেখা দিয়েছে, নতুন খলিফাতের যোদ্ধারা তার সুযোগ নিচ্ছে৷ অপরদিকে তারা চরম সহিংসতা প্রদর্শন করে স্থানীয় মানুষজনকে বশ্যতা স্বীকার করতে বাধ্য করছে৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমের অন্যান্য শক্তি যে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে দ্বিধাগ্রস্ত, তারও সুযোগ নিয়েছে আইএস৷আইএস-এর অর্থ কিংবা অস্ত্রের কোনো অভাব নেই৷ গত গ্রীষ্মের অভিযানে তারা ইরাকি সামরিক বাহিনী এবং কুর্দ পেশমার্গা বাহিনীকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে৷ আইএস যোদ্ধাদের হত্যাকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছে মূলত শিয়া, খ্রিষ্টান এবং সংখ্যালঘু ইয়াজিদিরা৷ এবং এই সামরিক অভিযানের সঙ্গে চলেছে সোশ্যাল মিডিয়ায় ইসলামিক স্টেটের ঝটিতি অভিযান৷ইন্টারনেটে দেখানো হয়েছে বিরোধী-বিধর্মীদের ক্রুশবিদ্ধ করা কিংবা শিরচ্ছেদ করার নৃশংস দৃশ্য – যার উদ্দেশ্য হলো, এটা স্পষ্ট করে দেওয়া যে, ইসলামিক স্টেটের কাজ হল বিধর্মী নিধন – এবং সে কাজে তারা তাদের পূর্বসূরি আল-কায়েদার চেয়ে বেশি দড়, যার প্রমাণ: আল-কায়েদা স্বয়ং ইসলামি রাষ্ট্রকে অত্যধিক নির্মম বলে প্রত্যাখ্যান করেছে৷সিরিয়া ও ইরাকে বিশৃঙ্খলা, এবং বিশেষ করে ইরাকে সুন্নি সম্প্রদায়ের অসন্তোষ থেকেই আইএস-এর সাফল্যের সূচনা৷ নয়ত আনুমানিক দশ থেকে পনেরো হাজার যোদ্ধা নিয়ে আইএস এত দ্রুত সিরিয়া থেকে ইরাকে অভিযান চালাতে পারত না৷ রাজ্য জয়ের পর তাদের রাজ্যাঞ্চল বাড়লেও, শুধু আতঙ্কের বলে বিজিত জনগণকে বিতাড়িত করা কিংবা নিয়ন্ত্রণে রাখার পন্থাটা তারা আবিষ্কার করে ফেলেছে৷ আতঙ্ক সৃষ্টি তাদের রণকৌশলের অঙ্গ৷সবচেয়ে বড় কথা: তাদের তরুণ রংরুটের ছড়াছড়ি – সিরিয়া ও ইরাকে তাদের রংরুট ভর্তির কেন্দ্রের সামনে লাইন লেগে থাকে৷ প্রথমত, আইএস-এর অর্থের কোনো অভাব নেই, তা অস্ত্র কেনার জন্যই হোক আর রংরুটদের হাতখরচা দেবার জন্যই হোক৷ ইরাকি সেনাবাহিনী বিপুল পরিমাণ সর্বাধুনিক মার্কিন অস্ত্রশস্ত্র ফেলে পালানোর ফলে আইএস-এর অস্ত্রের ছছল-বছল৷উপসাগরীয় অঞ্চলের ধনি সমর্থক ও পৃষ্ঠপোষকদের কাছ থেকে অর্থ আসছে৷ চুরি-ডাকাতি-অপহরণ থেকে অর্থ আসছে৷ এছাড়া পূর্ব সিরিয়ার ৫২টি তেলের খনির মধ্যে ৫০টি আইএস-এর দখলে; উত্তর-পশ্চিম ইরাকেও বিশটি তেলের খনি তাদের দখলে৷ ওসামা বিন লাদেনের আল-কায়েদা একটি সীমান্তবিহীন বহুজাতিক আন্দোলন হলেও, তাদের কোনো সামাজিক ভিত্তি ছিল না৷ ইসলামি রাষ্ট্র কিন্তু একটি রাজ্যাঞ্চলীয় সত্তা হিসেবেই মাঠে নেমেছে৷আরব রাষ্ট্র বলতে আমরা যা জানি এবং বুঝি, তার ‘নেমেসিস' বা কাল হিসেবে এই ইসলামিক স্টেট মুভমেন্টের জন্ম৷ তরুণ প্রজন্ম থেকে রংরুট সংগ্রহ করার অদ্ভুত ক্ষমতা তাদের৷ এবং যে কাতার কিংবা সৌদি আরবের কোটিপতিরা আইএস-কে অর্থ যোগাচ্ছেন, সেই সব দেশের সরকারবর্গ স্বদেশে ইসলামি রাষ্ট্রের ছোঁয়া লাগার আতঙ্কে আতঙ্কিত৷

৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথায় পাই পাগলের শ্বশুর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮


পাগলের পাতা ছাগলে খায়,
দাঁতের দোষটা হাতেই যে কয়;
দেয় রে দোষটা দেয় চোখের,
মনটা যে ধোয়া তুলসীপাতা,
কেউ দেখে না রে মুখের।

মুখের কথা ঠোঁটে কয়,
ছাগল ডাকে রে ভাই, ব্যাঁ-ব্যাঁ;
পাগলের কাজ পাগল করে সই,
সাধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×