somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাহাড়ে ধর্মের নাম চলছে রাজনীতি : প্রশাসন অসহায়

১৯ শে আগস্ট, ২০১৪ রাত ১১:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একের পর এক হত্যাকাণ্ড, অপহরণ, চাঁদাবাজি, খুন-গুম, অন্তর্ঘাতের সংঘর্ষ ও আধিপত্যের লড়াইয়ে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে উত্তপ্ত পার্বত্য রাজনীতিতে নতুন করে শুরু হয়েছে ধর্মের ব্যবহার। দেশের সব জেলাতেই রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার থাকলেও পাহাড়ের রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার যুক্ত হয়েছে ভিন্ন মাত্রায় এবং ভিন্ন আঙ্গিকে। ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতির এই নতুন মাত্রা পাহাড়ের ওয়াকিবহাল মহলকে ভাবিয়ে তুলেছে।মূলত সহজ সরল পাহাড়ি মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির সুযোগ নিয়ে তাদের রাজনীতির বেড়াজালে আবদ্ধ করে এখানকার পরিবেশ উত্তপ্ত করার পাঁয়তারা করছে একটি মহল। আর এ ক্ষেত্রে বেছে নেয়া হচ্ছে রিজার্ভ ফরেস্টের জায়গা, বিভিন্ন সরকারি খাস জমি এবং পাহাড়বাসির দখলসত্ত্ব জমিসমূহ।এরই ধারাবাহিকতায় পার্বত্য চট্টগ্রামে একের পর এক বিতর্কিত জায়গা দখল করে ভাবনা কেন্দ্র ও বৌদ্ধ মন্দির নির্মাণ প্রক্রিয়া চলছে বিভিন্ন দিকে।  সাধারণ পাহাড়ি নারী-পুরুষদের সামনে এগিয়ে দিয়ে পেছন থেকে কল-কাঠি নাড়ছে এখানকার প্রভাবশালী আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলো। আর এই দলগুলোকে নীরবে এবং সরবে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে দেশের কিছু স্বার্থন্বেষী মানবাধিকার সংগঠন ও এনজিও।এসব সংগঠনই অন্তত এক দশক ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, পাহাড়ে ইসলামি জঙ্গি সংগঠনগুলোর আস্তানা গড়ে উঠেছে এবং এই অঞ্চলে ইসলামি জঙ্গিদের প্রশিক্ষণও দেয়া হচ্ছে।
কিন্তু বর্তমান সময়ে এই অঞ্চলের বাস্তবতা একবারেই ভিন্ন।পাহাড়ে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে অস্ত্র ও সন্ত্রাসের রাজনীতিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠা করতে এখন ভিন্ন প্রক্রিয়ায় এগুচ্ছে এখানকার আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলো। নিজেদের টিকে থাকার সস্তা কৌশল হিসেবে বেছে নিয়েছে ধর্মকে। আর সাধারণ পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে ব্যবহার করে প্রশাসনের মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে।তবে এসব রাজনৈতিক দলগুলো এসব ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা বরাবরের মতোই অস্বীকার করেছে।সাম্প্রতি খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলার বেশ কটি উপজেলায় উপসনালয় গড়ার নাম করে প্রশাসনের সঙ্গে সাধারণ পাহাড়িদের মুখোমুখি হবার কয়েকটি উদাহরণ পাওয়া গেল।রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহারের বড় ঘটনাটি ঘটে গত ১ মে বাঘাইছড়ি উপজেলাধীন বঙ্গলতলী ইউপি’র দুইটিলা এলাকায়। এখানে বন ভাবনা কেন্দ্র স্থাপনকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। এই ঘটনা নিরসনে প্রশাসন একাধিকবার আলোচনা ও উপজেলা প্রশাসন বৈঠক করেও কোনো প্রকার সমাধানে পৌঁছুতে না পারায় উত্তেজনা প্রশমনে দুইটিলা নামক স্থানে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।এদিকে একই ধরনের আরো একটি ঘটনা নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়, রাঙামাটি শহরের মানিকছড়ি এলাকায়। এখানেও একই ধরনের পরিস্থিতি’র দিকে পরস্পরবিরোধী দুইটি পক্ষ এগুতে থাকলে জেলা প্রশাসন এখানেও ১৪৪ ধারা জারি করেন।  এরপর আবার নতুন করে সাজেকের গঙ্গারাম মুখে বৌদ্ধ মূর্তি স্থাপনকে কেন্দ্র করে আবারো উত্তেজনা দেখা দেয়।বাঘাইছড়ির গঙ্গারামের উজোবাজার এলাকায় ২২শে জুলাই মঙ্গলবার সকালে উপজাতীয়রা বৌদ্ব মূর্তি স্থাপনের চেষ্টা করা হলে প্রশাসনের সঙ্গে উপজাতীয়দের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।প্রশাসন উত্তেজনা ঠেকাতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বৌদ্ধ মুর্তি স্থাপনে বাধা দিলে গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম সাজেক শাখার উদ্দেগ্যে উজোবাজারে মিছিল ও সমাবেশ করেন নেতারা। পরে সেখানে সার্বক্ষণিক পুলিশ প্রহরা দেয়া হয়।  অতি সম্প্রতি স্থাপিত উজো বাজারটিতে নতুনভাবে গড়ে তোলা হয়েছে শতাধিক দোকান ঘর। যার প্রত্যেকটি পাহাড়ি সম্প্রদায়ের। তাই তারা এখানে প্রার্থনা করার লক্ষ্যে একটি বৌদ্ধ মূর্তি স্থাপন করতে কাজ করছেন।কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখানে মুর্তি নির্মাণ করা যাবে না। কারণ এখানে বিজিবি ক্যাম্প স্থাপন করা হবে।কিন্তু এলাকাবাসী মনে করে,এটি পাহাড়িদের ধর্ম পালন ও ধর্মীয় অনুভূতির ওপর চরম আঘাত এবং জায়গা-জমি বেদখলের গভীর চক্রান্ত ছাড়া আর কিছুই নয়।  কিন্তু ঘটনার একটু গভীরে গিয়ে জানা গেল সম্প্রতি বিজিবি জোন স্থাপন করার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্থ করতেই তাদের এই মূর্তি স্থাপনের আন্দোলন।  আর এই আন্দোলনে পূর্ণাঙ্গ সার্পোট দিয়ে এগিয়ে নিচ্ছে একটি আঞ্চলিক সংগঠন।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে আগস্ট, ২০১৪ রাত ১১:৫৩
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথায় পাই পাগলের শ্বশুর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮


পাগলের পাতা ছাগলে খায়,
দাঁতের দোষটা হাতেই যে কয়;
দেয় রে দোষটা দেয় চোখের,
মনটা যে ধোয়া তুলসীপাতা,
কেউ দেখে না রে মুখের।

মুখের কথা ঠোঁটে কয়,
ছাগল ডাকে রে ভাই, ব্যাঁ-ব্যাঁ;
পাগলের কাজ পাগল করে সই,
সাধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×