২০০৬ সালের অক্টোবরের শেষে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার যখন অত্যন্ত বিস্ফোরণমুখ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে, সেসময়েও কেউ ভাবেনি, বিএনপি অচিরেই কমপক্ষে এক দশকের জন্য ক্ষমতা হারাবে, আরাফাত রহমান আর কখনো প্রধানমন্ত্রীর পুত্র হিসেবে পরিচিত হবেন না, তারেক রহমানকে নির্বাসনে যেতে হবে, দোর্দণ্ডপ্রতাপশালী মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া বিশ্বাসঘাতকতা করবেন।
উপরন্তু তখন বিএনপির জন্য সময় আওয়ামী লীগের তুলনায় অনুকূলে ছিলো। তখন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ছিলেন প্যাট্রিসিয়া বিউটেনিস, বৃটিশ হাইকমিশনার ছিলেন আনোয়ার চৌধুরী। আমার কথা যতোই অবিশ্বাস্য মনে হোক না কেন, গ্রন্থশালায় গিয়ে সেসময়ের পত্রিকা উল্টে দেখুন! দেখবেন এদের সকলের মুখেই এমন সব কথা উচ্চারিত হচ্ছিলো, যাতে বিএনপির প্রতি প্রচ্ছন্ন সমর্থনের সুর ছিলো। সেসময় জেএমবি দমন করে বিএনপি পশ্চিমের প্রভূত বাহবা হাসিল করে। বিশ্বখ্যাত টাইম ম্যাগাজিনে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারের জানালা দিয়ে বাইরে দৃষ্টিপাতরত খালেদা জিয়ার ছবি ছাপানো হয়েছিলো একেবারে প্রচ্ছদ জুড়েই। শিরোনাম ছিলো, 'রেসকিউ মিশন'।
এমনকি পরিস্থিতির কারণে প্যাঁচে পড়ে আওয়ামী লীগও ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারী ঘোষিত নবম সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করে। কেবলমাত্র ৩ জানুয়ারী তারা মনোনয়নপত্র তুলে নেয়ার পরই একটা অনিশ্চিত পরিস্থিতির শংকা জাগে। তখন থেকেই একটি সম্ভাব্য সামরিক অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা উঁকি দিতে থাকে। ঠিক তার অষ্টম দিনের মাথায় গনেশ উল্টে যায়। তারপরের ইতিহাসের ধারা তো আজো চলমান।
সেই পরিস্থিতির চেয়ে আজকের পরিস্থিতি আরো অনেক অনেক বেশি সঙ্গীন ও গোলযোগপূর্ণ। তবে ২০০৭ সালে বিদেশী রাষ্ট্রদূতদের তৎপরতার সাথে এখনকার তৎপরতার তুলনা করে দেখতে পারলে আকলমান্দ মাত্রই ইশারা পেয়ে যাবে।
বস্তুত, বর্তমানের ইহুদী নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রতিটি দেশের সরকার পরিবর্তনে বিদেশীদের ব্যাপক ভূমিকা থাকে। এমনকি আমেরিকাও এ থেকে মুক্ত নয়। সেদেশে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আজ পর্যন্ত ইহুদী লবির সমর্থন ছাড়া কোন প্রেসিডেন্ট ক্ষমতাসীন হতে পারেননি।
আমাদের দেশে নিয়মতান্ত্রিক বা অনিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সরকার পরিবর্তন বিদেশীদের ভূমিকা আরো নগ্ন। এই বিশ্বব্যবস্থায় জনগণ সর্বক্ষেত্রেই গণতন্ত্রের নামে তালি বাজানো হিজড়া ছাড়া বেশি কিছু নয়। এদেশে কেমনে হুকুমত পাল্টানো হবে সেটা রাজনীতিবিদদের মত নিয়ে বিদেশীরা ঠিক করবে না। বরং রাজনীতিবিদরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তুর্কী নাচন দিয়ে যাবে, এবং একদিন দেখবে তাদের সবার খেল খতম! ঠিক যেমনটা ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারী দিনভর গুলশানের কয়েকটি বাসায় বিদেশীদের সাথে ম্যারাথন বৈঠক করতে করতে মান্নান ভূঁইয়া আর আবদুল জলিলরা অনুভব করতে পেরেছিলেন!
আচ্ছা, সেদিন আসলেই কি ওনাদের মনে এই উপলব্ধিটি কাজ করেছিলো? উঁহু, মনে হয় না...!
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ বিকাল ৪:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


