somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার মিষ্টি প্রীতি

২২ শে মার্চ, ২০০৬ রাত ২:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘটনা এক:
আমি সকাল থেকেই কান্নাকাটি করছি মিষ্টি খাওয়ার জন্য। আব্বা বিকেলে অফিস থেকে এসে আমাকে নিয়ে বাজারে গেলেন। একটা মিষ্টির দোকানে ঢুকে এক কোনায় নিয়ে বসালেন যাতে আমার মিষ্টি খাওয়া দেখে কারো নজর না লাগে।
বয়কে চারটা মিষ্টি আনতে বললেন। আনার পর আমি গপাগপ চারটা মিষ্টিই খেয়ে ফেললাম। আব্বা বয়কে বললেন "আরো চারটা নিয়ে আস"
এবার একটা খেলাম। তারপর আমার মিষ্টি খাওয়ার গতি আস্তে আস্তে কমতে লাগল। আরও একটা কোন রকমে খেলাম। তারপর মুখ কাচুমাচু করে আব্বাকে বললাম "মিষ্টিগুলো তিতা লাগছে কেন?"

ঘটনা দুই:
রাতে আমি আর আমার ছোট ভাইকে আম্মা দুধভাত খেতে দিলেন। যথারীতি আমি চিনি বেশী নিলাম। আরও একটু চিনি নেওয়ার জন্য হাত বাড়াতেই আম্মা আমার দিকে কটমট করে তাকালেন। তাই আর নেওয়ার সাহস পেলামনা। ভাত খেতে শুরু করলাম। ভাগ্য আমার প্রতি সেদিন সদয় (নাকি নির্দয় :) ) ছিল মনে হয় হটাৎ কারেন্ট চলে গেল। আমি ভাবলাম এইতো সুযোগ। অন্ধকারে হাতরে চিনির বয়ামটা নিলাম। হাত ঢুকিয়ে এক মুঠো চিনি নিয়ে ভাতে দিলাম তারপর বয়ামটা যায়গামত রেখে দিলাম। ভাত মাখতে মাখতেই কারেন্ট চলে আসল। পরম আনন্দে প্রথম নোলা মুখে দিলাম। মুখে দিয়েই আমার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ল। একি!! ভাতগুলো এমন লবনাক্ত কেন?
দেখি আম্মা আমার দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছেন।
আসলে হয়েছে কি, আমাদের লবনের এবং চিনির বয়াম দুটো ছিল একই রকমের। যখন কারেন্ট গেল আম্মা বুঝতে পেরেছিলেন আমি চিনির বয়ামে হামলা চালাব। তাই আম্মা চিনির বয়ামের যায়গায় লবনের বয়ামটা কৌশলে রেখে দিয়েছিলেন।

ঘটনা তিন:
মাস ছয়েক আগের ঘটনা,
অফিসে আমি চা তেমন খাইনা কিন্তু কনডেনসড মিল্কের প্রতি একটু স্পেশাল দুর্বলতা আছে। আমাদের অফিস সহকারী জসিম সেটা জানত। একদিন ও চা বনাচ্ছে, আমি কনডেনসড মিল্কের কৌটা থেকে আঙ্গুলের ডগায় করে একটু দুধ নিয়ে খেলাম। জসিম হটাৎ আমাকে চ্যালেনজ করে বসল আমি যদি এককৌটা দুধ পুরোটা খেতে পারি তাহলে সে নিজের পকেটের টাকা দিয়ে এককৌটা দুধ অফিসের জন্য নিয়ে আসবে এবং আমাকে দশ টাকা দেবে। আমি মনে মনে ভাবলাম জসিম মিয়া তুমি বাঘের গুহায় পা দিয়েছ:)। ও আমাকে একটা কৌটা ফুটো করে দিল আর আমি এক চুমুকেই পুরো কৌটা খালি করে ফেললাম। সেদিন জসিমের চেহারাটা দেখার মত হয়েছিল, ওর কল্পনাতে ও ছিলনা আমি এককৌটা দুধ এভাবে খেয়ে ফেলতে পারব।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে মার্চ, ২০০৬ রাত ২:৩২
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গোকুলে বাড়িছে সে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৪

গোকুলে বাড়িছে সে

পরিস্থিতি যতই ঘোলাটে হচ্ছে, ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছে- ক্ষমতার অন্দরমহলে অস্বস্তি বাড়ছে। একের পর এক বক্তব্য, ভিডিওবার্তা, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দেখে মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগছে- এত অস্থিরতার কারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ রক্ত ঋণ

লিখেছেন ইসিয়াক, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৪




আমাদের পরিবারে সাব্বির নামটা উচ্চারণ করা নিষিদ্ধ । সাব্বির ভাইয়া আব্বুর প্রথম সংসারের একমাত্র সন্তান আর আমরা দুই ভাই -বোন তার দ্বিতীয় সংসারের।
সাব্বির ভাইয়ার মা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ক্ষমতা আসলে কত দিনের?

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৩৬

একটি ১২ ঘণ্টার প্যারোল, একটি শেষ বিদায় এবং ক্ষমতার অনিত্যতার নির্মম শিক্ষা

“পুলিশ ভাই, আমাকে তো এখনই নিয়ে যাবেন, আমি দুই মিনিট ফ্যামিলির সঙ্গে কথা বলি?”

কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোথাও একটা ভুল হচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৪২

একটা ছোট নৌকা পাল তুলে পাড়ি দিচ্ছে-
অনন্ত নক্ষত্রবীথি।
পেরিয়ে যাচ্ছে- গ্রহ নক্ষত্র, মহাজাগতিক উল্কা।
দূরে কোথাও সংঘর্ষ হচ্ছে।
ধীর, অতি ধীর তার গতি। নৌকায় কয়েকজন মানুষ!
একটি শিশু,... ...বাকিটুকু পড়ুন

পড়ালেখার গুরুত্ব

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৫



পড়ালেখার গুরুত্ব কি, আর কেনো পড়ালেখা করতে হবে? আমার মনে হয় উত্তর সকলের কম বেশি জানা আছে। কিন্তু আমরা বাস্তবে কি করছি? আমাদের দেশে মনে হয় ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখার আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×