রাত সোয়া একটা বাজে । নদীর তীর শান্তভাবে ঘুমিয়েছে । চারদিক নীরবতা ।মাঝে মধ্যে টুকটাক পানির এবং শুনশান বাতাসের শব্দ ।হঠাৎ একটা গাড়ি এসে তীরে থামলো । অন্ধকার আলোয় বোঝা যাচ্ছে পুলিশের গাড়ির মতই, কয়েকজন পুলিশ তাড়াহুড়ো করে নামাতে তা নিশ্চিত হওয়া গেল । তারা হ্যান্ডকাপ পোড়ানো দুইজন আসামিকে টানা হেচড়া করে নামাচ্ছে গাড়ি থেকে । টর্চের আলোয় সেইরকমই মনে হলো । একে একে আরও সাতটি বস্তাও নামালো ।বস্তাগুলোর ভেতর কি যেন নড়ছে ।খোলার পর দেখা গেলো হাত পা বাঁধা জলজ্যান্ত সাতজন লোক । তাদের মাথা কালো কাপড়ে মোড়ানো ।পুলিশের বড়কর্তা আদেশ করলেন আসামীদের হ্যান্ডকাপ খুলে দিতে ।হ্যান্ডকাপ খোলার পর তাদের হাতে ধারালো চুরি দিয়ে বললেন এই সাতজনকে ভালো ভাবে সাইজ করবি যেন কোন প্রমাণ না থাকে । পানিতেও যেন ভেসে না উঠে ।এই কাজটি করতে পারলে তোদের সাজা মওকুফ করা হবে ।তারা এগিয়ে গেল লোকগুলোর দিকে ।এরপর কিছুক্ষণ পোঁচপাঁচ এবং ঘোঙ্গানোর শব্দ বাতাসে ভেসে বেড়ালো ।
আসামীদের থেকে “স্যার খতম” শব্দ দুটো শোনার সাথে সাথেই টানা দুটো গুলির শব্দ হলো ।এক ঢিলে দুই পাখি পড়লো- এনকাউন্টার করা এবং এমপি সাহেবের কুকীর্তি ডাকা ।টাকার বান্ডিল হাতে নিয়ে ঘ্রাণ শুকতে শুকতে বড়কর্তা এক বিদঘুটে হাসি দিল । স্পষ্ট বোঝা গেল এই হাসিতে বিষাক্ত পাপ লুকিয়ে আছে ।শুধুই নির্লিপ্ত কিছু বোবা প্রকৃতি তা দেখেছে ।।
…..
তখন একজন জর্জরিত কবি কল্পনায় লিখে যায়…..
পৃথিবী কিছু কিছু নিষ্পাপকে ভালবাসেনি
তাই প্রকৃতিকে দিয়ে দেয় নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য
-আইনের সত্তা কর্তৃক-
পকেটের মূল্য ভারী সত্তাদের বিচারে
খুনি দিয়ে মারে নিষ্পাপ,
পরিত্যক্তা খুনিরা মরে আইনের হাতে ;
এই কোন হাত যাহা উপভোগ করে দ্বিমুখীতা ?
এই হাত নিয়মের অজু হাত,
যাহা হিংস্রতার আদরে পালিত
যাহা পাপী নয়, মহাপাপী ।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা মে, ২০১৬ রাত ১০:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




