তারা বলেছিল,
এই খোকা শোন- বলা যাবে না কথা মাতৃভাষায়
যদি থাকতে চাস তোদের এই সোনার বাংলায়
তারা বলেছিল,
শোন হে বাংলাভাষী- উর্দু ধর বাংলা ছেড়ে
যদি চাস শান্তি তোদের এই ভূখণ্ডে ।
তারা গলা ছেড়ে আরও বলেছিল,
আসছ যদি অধিকার নিয়ে তেড়ে
আমরা দেবো না তোদের ছেড়ে
আসছ যদি দল বেঁধে মিছিল নিয়ে
তবে আমরা ছুড়বো গুলি অনায়াসে
এখনো সময় আছে ফিরে যা ঘরে
করিস না কড়া আমাদের শাসনকে ।
কিন্তু তারা কি জানতো ?
বাংলা ছিল বাঙালির প্রাণ
বাংলায় নেয় বাঙালি ঘ্রাণ ।
বাংলায় তোলে সুর
বাংলায় মনের নূর
বাংলায় দেয় ঘুম
বাংলায় খোঁজে উম ।
বাংলায় ‘আমি’ কথা বলে
বাংলায় ‘তুমি’ কথা বলে
বাংলায় ‘আমরা’ কথা বলে
বাংলায় ‘আমাদের’ কথা বলে
বাংলায় ‘বাঙালির’ কথা বলে ।
বাংলায় দেশ মাতৃকা হাসে
বাংলায় সদ্য জন্ম নেয়া শিশু কাঁদে
বাংলায় ঘ্রাণ ছড়ায় প্রকৃতি
বাংলায় উড়ে ঝাঁকে ঝাঁকে পক্ষী ।
বাংলায় স্বপ্ন দেখে কিশোর-কিশোরী
বাংলায় হুংকার ছোড়ে যুবক-যুবতী
বাংলায় আশীর্বাদ করে মাতা-পিতা
বাংলায় বেঁধে দেয় ভাই আদুরে বোনের মাথায় ফিতা ।
তারা কি জানতো এই সবের কথা ?
না তারা জানতো না ।
তারা জানতো না-
বাঙালির কত গভীর মমতা লুকিয়ে আছে বাংলা ভাষায় ।
তাই,
তাদের আত্মা কাঁপেনি একটুর জন্যও যে
তারা ছুড়েছিল অকাতরে বুলেট- বাঙালির নিষ্পাপ বুকে
তারা পুড়তে চেয়েছিলো বাঙালির মানসপটের স্বাধীন স্বপ্ন
তারা মুছে দিতে চেয়েছিল শত মায়ের আঁচলে লুকিয়ে থাকা খোকার যত্ন
তারা চেয়েছিল উপড়ে ফেলতে শত বাবার আঁকা সন্তানের সুমধুর লক্ষ্য ।
না তারা পারেনি,
বাঙালির ভালবাসার সাথে
তারা হেরেছিল নিষ্ঠুরভাবে
তারা শুধুই হেরেছিল
হারছে এখনো, নিয়মিত
কারণ বাংলা এখন বিশ্ব নন্দিত
কারণ পুরো বিশ্ব এখন বাংলায় নত ।
এখনো পুরো বিশ্ব শিক্ষা নিচ্ছে বাঙালি থেকে-
কোন পরাশক্তি নেবে না আর কোন জাতির প্রাণের ভাষা কেড়ে ।
বাঙালি দিয়েছে উদাহরণ- ভাষা কেড়ে নেওয়া আর আত্মা ছিঁড়ে নেওয়া একই সূতোয় বাঁধা
সুতরাং শোন হে পৃথিবী, কোন জাতির আত্মায় ভাষা কেড়ে নেওয়ার অপচেষ্টায় দিতে পারবে নাকো আর ব্যাথা
কারণ তোমরা জানো, আর পারবেনা কেড়ে নিতে কারো প্রাণের ভাষা , বাঙালি যে দেখিয়ে দিয়েছে সেই দিকনির্দেশনা ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



