একদিন কবিতার শহরে আগুন লাগলো,
কবিতার সকল দলিল- দস্তাবেজ পুড়ে ছাই হয়ে গেল ।
কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে হাজারো কবি, কবিতানুরাগী- তাদের হৃদয় হয়েছিল খুন ।
সুদীর্ঘ বেলা কবিতার সাথে কেউ হাসেনি, কেউ কাঁদেনি, তারা হয়েছিল শোকে সর্বনাশ ।
এরপর নতুনদের মাঝে কুসংস্কার কিংবা অন্ধ বিশ্বাস ধরা দিলো-
কোন একসময় কবি ছিল, কবিতা লেখা হতো, কবিতা পাঠে মুগ্ধ হতো মানব হৃদয়,
মায়েরা সে গল্প শুনিয়ে খোকাদের ঘুম পাড়ায়, খোকারা মনে মনে স্বপ্ন দেখে-
কবিদের সাথে তাদের দেখা হবে, তারা কবিতার সাথে খেলবে ,
কিন্তু খোকারা বড় হতে হতে বুঝতে পারে এটা শুধুই ছিল রূপকথা গল্প ।
দিবারাত্রির কিছু কিছু মুহূর্ত নিরাশ কাটে, সকল মানব হৃদয় বিষণ্নতায় ভোগে,
এই সময়গুলোয় তারা যেন কিসের টান অনুভব করে, কিছু সুর, কিছু মিলনাত্বক ?
তার ব্যাখ্যা কেউ দিতে পারে না, তাদের মন হয় নীরব, নিথর ।
হঠাৎ একদিন এমন নিরাশ মুহূর্তে কিছু কিছু মন কেঁদে উঠলো-
কিছু শব্দ, কিছু চরণ, কিছু ভাবাবেগ প্রকাশ করতে থাকে নিঃশব্দে,
সে মনগুলো খুব সুখ লাভ করে,
তারা যেন হয়ে উঠে শষিত হৃদয়ে একফোঁটা জলের মালিক,
তাদের মনে বৃষ্টি ঝরে, চন্দ্র ফোটে, জোছনা ঝরে, জোনাকিরা খেলা করে স্বপ্ন বনে ।
তাই তারা ছড়িয়ে দিতে চাইলো তাদের মনের শব্দ, চরণ, অনুভব অভুক্ত মনের উদ্দেশ্যে,
এভাবেই কুসংস্কার ফিরে এল সত্যিরুপে, সবাই আবার যেতে লাগলো কবিতা অবগাহনে ।
কবিতা কে প্রশ্ন করা হলো, তুমি না পুড়ে হয়েছো ছাই ?
কবিতা হেসে জবাব দিলো, তারা দেখেনি আমরা উড়ে গিয়েছিলাম,
আমরা পুড়ি না, জান না আমরা প্রবহমান জীবনের সুখনিদ্রিত ইতিহাস ?
তবে এতকাল তোমরা কোথায় ছিলে ?
আমরা খুঁজেছি হৃদয়, যারা আমাদের জন্য কেঁদেছিল তাদের হৃদয় ছিল মৃত ।
তাই এতকাল করেছি বাসযোগ্য হৃদয়ের আবাদ, যে হৃদয় আমাদের স্বযত্নে লালন করবে,
কিন্তু বহু হৃদয় ঢুকতে দেইনি আমাদের, তারা রূপকথা শুনেই ঘুমিয়ে পড়তো ।
তাই আমরা এতকাল শুধু ঘুরেছি, আকাশ-পাতালে, গ্রহ- নক্ষত্রে, প্রকৃতি হয়ে;
অতঃপর আমাদের সময় আসলো, কিছু হৃদয় পেলাম যারা আমাদের কামনা করতো,
তাদের কামনায় ঘর বানালাম তাদের শীতল হৃদয়ে, সাজালাম হাজারো অনুভবের কারুকার্যে ।
এ হলো আমাদের ফিরে আসা... সামলে রেখো আমাদের শহর ।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ৯:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



