শানে নুযুল বলতে বুঝায় কুরআনের আয়াত অবতীর্নের প্রেক্ষাপট।কোন বক্তার বক্তব্যের সঠিক অর্থ বুঝার জন্য উক্ত বক্তার বক্তব্যে কোন ঘটনার পেক্ষাপটে দেয়া হয়েছিল তা জানার উপর নির্ভর করে-তাতে কোন সন্দেহ নেই। আবার সেই ঘটনাকে যিনি যেভাবে বুঝবেন উক্ত বক্তার বক্তব্যের উদ্দেশ্যকে সেভাবে ব্যখ্যা করবেন।কোন ঘটনা কোথায় ঘটলে যখন লোকমুখে তা প্রচারিত হয় তখন ঐ একই ঘটনার প্রত্যাক্ষদর্শিরা একই ঘটনাকে বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে ব্যখ্যা করে থাকে।
তাহলে দেখা যাচ্ছে একই ঘটনা বিভিন্নভাবে বর্ণিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে আবার একই বক্তার বক্তব্যকেও মানুষ বিভিন্নভাবে বুঝে থাকে।ঘটনাকে যিনি যেভাবে বুঝবেন বক্তার কথাকেও তিনি সেভাবে বুঝবেন।
এবার আসি কুরআনের আয়াতের শানে নুযুলের (পেক্ষাপটের ব্যাপারে)।আপনি যদি কুরআনের আয়াতের শানে নুযুল খোজেন তাহলে কুরআনের ৫০% আয়াতের কোন শানে নুযুলই পাবেন না-যদিও তা কোন না কোন পেক্ষাপটে অবতীর্ণ হয়েছে। আবার যে ৫০% আয়াতের শানে নুযুল পাবেন সে শানে নুযুল নিয়েও মতবিরোধ আছে। কেউ বলে এ আয়াতের অমুক শানে নুযুল, আবার কেউ বলেন না,এর শানে নুযুল অমুকটি।যিনি ইসলাম ধর্মের যেই পক্ষের/ফের্কার তিনি সেই শানে নুযুল গ্রহণ করে থাকেন।এরপর নিজ পক্ষের সঠিকতা প্রমানে হাদিস নিয়ে আসেন। যেহেতু লক্ষ লক্ষ হাদিস জাল বানানো হয়েছে, তাই প্রত্যেক ফের্কাই তার পক্ষে হাদিস পেয়েই যান।(উল্লেখ্য, মুহাম্মাদ স: এর তিরোধানের পর যখন দেখা গেল কুরআনের একই আয়াতে বিভিন্ন ব্যখ্যা সম্ভব,তখন বিভিন্ন গোষ্ঠি ক্ষুদ্র ব্যক্তি স্বার্থ বা রাজণৈতিক সুবিধা অর্জনের জন্য তাদের নিজ নিজ পক্ষে হাদিস রচনা করতো।)
আমি ’ইসলাম’ নামক ধর্ম খুজছি, এখনো পায়নি। কেউ কি পেয়েছেন?
কুরআনের আয়াতের মর্মার্থ বুঝতে শানে নুযুলের উপর কতটুকু মুখাপেক্ষি তা বুঝাতে গিয়ে একজন শ্রোদ্ধেও ব্লগার (জনাব দরবেশমুসাফির ) নিম্নোক্ত কথাটি বলেছেন-
’কুরানের কোন আয়াতের প্রকৃত অর্থ জানতে হলে তার প্রেক্ষাপট তথা শানে নুজুল জানতে হয়।আমার একজন ক্লোজ ফ্রেন্ড যদি আজ আপনাকে এসে বলে যে, দরবেশমুসাফির বলেছে যে, সে আমাকে মেরেই ফেলবে, তবে আপনার কাছে কি মনে হবে? মনে হবে আমি একজন সন্ত্রাসী, তাই না? কিন্তু ঐ ফ্রেন্ড যদি ঘটনার প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে বলে যে, আমি দরবেশ মুসাফিরের বন্ধু ও সে আমার সাথে মজা করে ওকথা বলেছে, তবে আপনার কাছে কি মনে হবে?এটাই প্রেক্ষাপটের গুরুত্ব। ’
কুরআনের সুরা তওবার নিম্নোক্ত অংশটুকু দ্বারা ব্যখ্যা করা হয় ইসলাম শান্তির ধর্ম:
আর মুশরিকদের কেউ যদি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে তাকে আশ্রয় দেবে, যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়, অতঃপর তাকে তার নিরাপদ স্থানে পৌছে দেবে। এটি এজন্যে যে এরা জ্ঞান রাখে না [সুরা তাওবা: ৬] .
এ আয়াত যে মুসলিমদের লড়াই করার কৌশল বর্ণিত হয়েছে সেটা হয়ত অনেকে লক্ষ্য করেন না।মনে করুন গুলশানের ঘটনায় যদি সরকার আত্ম-সমর্পন করতো তাহলে তারা রাষ্ট্র-ক্ষমতা নিতে এবং ’ যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়,’ –এর অর্থ যারা আত্ম-সমর্পন করল তারা উক্ত জঙ্গিদের মতাদর্শে দাখিল করতে তাদেরকে সুযোগ দেয়া।
মুসলমানদের যে ফের্কা ইসলামকে যেভাবে বোঝে বা ব্যখ্যা করে থাকে সেটাকেই বলবে আল্লাহর কালাম অনুসারে এটাই তাদের কর্মপন্থা।আর ভিন্ন ফের্কার মুসলমানেরাও কিন্তু পথভ্রষ্ট,ইসলামের শত্রু ইত্যাদি।সে কারনে তাদের বিরুদ্বে লড়াই করাই উক্ত জঙ্গিদের জন্য ফরয।
আইনের কিতাব এবং সাধারন বক্তব্যের মধ্যে আকাশ পাতাল পার্থক্য থাকে। আর সে আইন যদি স্রষ্টার হয় তাহলে তার গুরুত্ব অনেক বেশি।সুতরাং আইন দেয়ার সময় সেখানে আইন প্রনয়নকারীর দায়িত্ব শানে নুযুল সংযুক্ত করে বা না করে, যেভাবেই হোক বক্তব্যকে পরিস্কার করা। কুরআনের আইন কি সৃষ্টিকর্তার আইন?
আমার সৃষ্টিকর্তা এত বেকুফ নন যে এমন আইন দিবেন যার বক্তব্যে এত অস্পষ্টতা থাকবে।কুরআন মানব রচিত পুস্তক,তাই এতে এত সমস্যা।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুলাই, ২০১৬ দুপুর ১২:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


