somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নিধন ও ক্ষতিগ্রস্থ্য বাংলাদেশ

১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭ রাত ২:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মিয়ানমারের কট্টরপন্থী বৌদ্ধ ধর্মগুরু অসিন উইরাথু কথা সবারই মনে আছে ২০১৩ সালের জুন মাসে প্রকাশিত টাইম ম্যাগাজিন যার উপাধি দিয়েছিল " ফেইস অফ টেরর " বা সন্ত্রসীর চেহারা । ২০০৩ সালে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর দায়ে তার ২৫ বছরের জেল হলে ও মুসলিমবিরোধী প্রচারণার কারণে ২০০৩ সাল থেকে ৭ বছর জেলে ছিলেন। পরবর্তীতে ২০১০ সালেক কারা মুক্ত হয়ে নিজেকে মিয়ানমারের ‘ওসামা বিন লাদেন’ হিসেবে প্রচার করেন। ২০০১ সালে থেকেই মুসলিমবিদ্বেষী গোষ্ঠী
" ৯৬৯ মুভমেন্ট " এর নেতৃত্ব দিয়ে মিয়ানমারের সাধারন মানুষকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দাড় করানোর চেষ্টায় লিপ্ত আছেন অসিন উইরাথু ।অন্যান রাষ্ট্রের মত মিয়ানমারের রাজনৈতিক নেতারা ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হাত ছাড়া করতে চান নি । ক্ষমতায় আধিষ্টিত হওয়ার জন্য ধর্ম একটি বিশেষ মাধ্যম তাই মিয়ানমারের সামরিক ও তথাকথিত গনতান্ত্রিক সরকার তার দেশের ধর্মীয় সংখ্যাগুরুদের মতের বাহিরে যেতে পারেন নি । তারা ও নানা কৌসলে মিয়ানমারের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের দেশ থেকে বিতাড়িত করে বৌদ্ধধর্মীয় জাতি গোষ্ঠিকে সন্তুষ্ট রাখার যথা সাধ্যচেষ্টা করে যাচ্ছেন । রোহিঙ্গাদের প্রতি নির্যাতনের সূচনা সেই ১৯৬২ সালে জেনারেল নে উইন সামরিক অভ্যুত্থান মাধ্যমে মিয়ানমারের রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের পর থেকেই । এর পর ১৯৭৮, ১৯৯১ , ২০১৫ ও ২০১৬ সালে ভয়াবহ নির্যাতন ও গনহত্যার শিকার হয়ে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে যার সংখ্যা আজ প্রায় আট লাখের ও বেশি ।

২৫ আগস্ট ২০১৭ মিয়ানমারের পশ্চিম-উত্তর প্রদেশ রাখাইনে নবগঠিত আরাকান রোহিঙ্গা সলভেশন আর্মি (আরসা) বুথিডংসহ কয়েকটি জায়গায় সশস্ত্র হামলা চালায়। ওই হামলার পর থেকেই নতুন করে মূলত উত্তর রাখাইন অঞ্চলে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সামরিক ও সীমান্ত পুলিশ বাহিনী এবং রাখাইন অঞ্চলের বৌদ্ধ চরমপন্থীরা নৃশংস অভিযান চালাচ্ছে।এতে হাজার হাজার মানুষকে জীবন দিতে হচ্ছে নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে লাখ লাখ মানুষ জীবন বাঁচাতে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশ এসে জীবন রক্ষা করেছেন । সম্প্রতি মিয়ানমারের শাসকদের এই অভিযানকে হত্যাযজ্ঞ ও " এথনিক ক্লিঞ্জিং " বলে আখ্যা দিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও মানবাধিকার সংগঠন। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনও একে ‘গণহত্যা’ বলে আখ্যায়িত করেছে। যদিও মিয়ানমারের তথাকথিত গণতন্ত্রের মানসকন্যা অং সান সুচি আরসার আক্রমণকে জঙ্গি হামলা বলে আখ্যায়িত করলেও মিয়ানমারে জাতিগত সংঘাত নতুন নয় । স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই বার্মায় জাতিগত সংঘাতের জন্ম । তবে ১৯৬২ সালের সামরিক জান্তার ক্ষমতা দখল এবং বার্মা ইউনিয়ন বাতিলের পর এই সংঘাত ভয়াবহ রুপধারন করে । ওই সময় বার্মার সামরিক বাহিনীতে কারেন, চীন, কাচিনসহ অন্যরা সামরিক বাহিনী থেকে তাদের সদস্যদের প্রত্যাহার নিজ নিজ বাহিনী গঠন করে মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন । যার প্রভাব পড়ে রাখাইন রাজ্যে, বিশেষ করে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপরও। বর্তমানে নিজেদের স্বাধীনতার জন্য মিয়ানমরে আটটি সশস্ত্র বিদ্রোহী গ্রুপ মিয়ানমার বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধরত।আতীতের আরএসও এবং বর্তমানের আরসা শুধু তাদের নাগরিকত্বের দাবির জন্য মাঠে নেমেছে বলে ঘোষণা দিয়েছে।

রোহিঙ্গাদের জন্য মিয়ানমার সরকার যে নিধন কর্মসূচী হাতে নিয়েছে অন্যান বিদ্রোহী গ্রুপের প্রতি তার বিন্দু মাত্র প্রতিক্রিয়া দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন । মিয়ানমারের তথাকথিত গনতান্ত্রিক সরকারে সমরিক বাহিনী ও বৌদ্ধ মৌলবাদীরা রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির উপর যে গনহত্যা চালাচ্ছে তাতে একমাত্র ক্ষতি গ্রস্হ্য রাষ্ট্র বাংলাদেশ । হয়তো মিয়ানমরের ধারনা বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে দূর্বল । তার প্রমান আমরা পেয়েছি গত করেক দিনে মিয়ানমারের হেলিকপ্টার ও ড্রোনের আকাশ সীমা লংঘনের মধ্যদিয়ে ।রোহিঙ্গা বিষয়ে সন্তোষজনক সমাধান না হলে এই দুই দেশের সম্পর্ক শত চেষ্টাতেও ভালো হওয়া সম্ভব নয়। বাংলাদেশ যেহেতু শান্তিতে বিশ্বাসী তাই পরশীদের সাথে সু-সম্পর্ক বজায় রাখাই আমাদের কাম্য । তবে নিজেদের স্বার্থ ও নিরাপত্তার খাতিরে বাংলাদেশকে আরও শক্ত অবস্থানে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষকে ই রাজনীতির বাহিরে এসে জাতীয় এই সংকট মুহুর্তে একত্রে প্রতিরোধ গড়ে তোলা ।সরকারের উচিত হবে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন এর মাধ্যমে মিয়ানমারের উপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টিকরা ।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭ রাত ২:১০
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে “উপজাতি” নাকি “আদিবাসী”? আন্তর্জাতিক আইন ও ইতিহাসের নির্ভেজাল সত্য!​

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৭


সূচনা ও প্রেক্ষাপট:
লেখক পার্বত্য চট্টগ্রামে ২০০১ সালে তিনি যখন সেখানে দায়িত্ব পালন করেন, তখন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে 'উপজাতীয়' (Tribal) হিসেবে ডাকা হতো। কিন্তু ২০১৫-১৬ সালের দিকে সেখানে পুনরায় পোস্টিং পাওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

হঠাৎ কেন ঢাকায় র প্রধান?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:২২


দিল্লী দখল ঠেকাতে ঢাকায় চলে এলেন র প্রধান!

হ্যাঁ, ঠিকই শুনলেন। ক'দিন ঐ র‍্যাডিসন ব্লুতে বসে অনেকের হাতে-পায়ে ধরলেন; বললেন, "তোমরা প্লিজ দিল্লী আক্রমণ করো না। আমাদের মিসাইল, অস্ত্র সব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের আদি জনগোষ্ঠী কারা

লিখেছেন কিরকুট, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬


বাংলাদেশের আদি জনগোষ্ঠী নিয়ে আলোচনা হলেই আমাদের সামনে সাধারণত পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা কিংবা অন্যান্য পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর কথা আসে। কিন্তু একটি প্রশ্ন প্রায়ই এড়িয়ে যাওয়া হয় বাংলাদেশের আদি জনগোষ্ঠী... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেবী!

লিখেছেন করুণাধারা, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৩৩



১)
দেবী খুবই বুদ্ধিমতী এবং সুন্দরী। এক উচ্চাভিলাষী পরিবারে দেবীর জন্ম, এমনই উচ্চাভিলাষী যে তাদের একমাত্র ভাবনা কীভাবে সবাইকে ছাড়িয়ে উপরে ওঠা যায়! দেবীর যখন জন্ম হলো তখন তার ভাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

র-প্রধানের ঢাকা সফর: খবর শুনেই হাসপাতালে ভর্তি পাকিস্তানের হাইকমিশনার !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:১৭


রসিকতা বাদ দিয়ে বলি, দুটি ঘটনাই সত্যি। বাংলাদেশে RAW এর প্রধান পরাগ জৈন এসেছেন এবং পাকিস্তানের হাইকমিশনার এখন হাসপাতালে আছেন। দুটি ঘটনা আসলে পরস্পরবিচ্ছিন্ন, একটার সঙ্গে আরেকটার কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×