somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা উদ্বেগে দুই বাংলা

০৭ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের এবারের অর্থাৎ ১৭তম বিধান সভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী ঘটনা পশ্চিম বঙ্গ তথা ভারতের ইতিহাসে এক কলঙ্কিত ও রক্তক্ষয়ী অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ হিসেবে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তার ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে যে ভয়াবহ প্রতিহিংসার আগুন জ্বলে উঠেছে, তা কোনো সভ্য সমাজের কাম্য হতে পারে না। ৪ মে নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পর থেকে আজ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলা থেকে যেভাবে হত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ, ভাংচুর এবং সাম্প্রদায়িক উসকানির খবর আসছে, তা কেবল ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই বরং নিকটতম প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রগুলোর কাছেও এটি গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক পালাবদলের এই সন্ধিক্ষণে মানবিকতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যেভাবে ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে, তা আধুনিক গণতন্ত্রের কাঠামোর ওপর এক বিরাট আঘাত। সাম্প্রতিক ঘটনাবলির মধ্যে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগজনক ঘটনাটি ঘটেছে ৬ মে ২০২৬ তারিখে, যখন বিজেপি নেতা তথা রাজ্য রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে প্রকাশ্য রাস্তায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম এলাকায় যশোর রোডের দোহরিয়া নামক স্থানে চৌরাস্তায় আততায়ীরা চন্দ্রনাথ রথকে লক্ষ্য করে অন্তত চার রাউন্ড গুলি চালায়, যার মধ্যে একটি গুলি সরাসরি তাঁর হৃদপিণ্ড ভেদ করে। এই হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে যে, পশ্চিমবঙ্গের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে কতটা নাজুক। শুভেন্দু অধিকারীর মতো হেভিওয়েট নেতার অতি ঘনিষ্ঠ বৃত্তের মানুষ যদি সুরক্ষিত না থাকেন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে, তা সহজেই অনুমেয়। বিজেপি নেতৃত্ব একে ‘সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিরোধী পক্ষকে মানসিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়ার একটি কৌশল। তবে সহিংসতার এই স্রোত কেবল একমুখী নয়। এই প্রতিহিংসার দাবানলে অসংখ্য জীবন ঝরে পড়ছে। কোলকাতার নিউ টাউনে বিজয় মিছিল চলাকালীন তৃণমূল কর্মীদের হামলায় বিজেপি কর্মী মধু মন্ডল নিহত হয়েছেন বলে আনন্দবাজার পত্রিকা রিপোর্ট করেছে। অন্যদিকে বীরভূমে বিজেপি কর্মীদের হাতে মুসলিম তৃণমূল কর্মী আবির শেখকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। হাওড়া এবং হুগলি জেলা থেকেও একের পর এক নিহতের খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। জয়-পরাজয়ের এই লড়াই এখন এক অঘোষিত গৃহযুদ্ধের রূপ নিয়েছে, যেখানে প্রতিটি রক্তবিন্দুই পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতের গণতন্ত্রকে কলঙ্কিত করছে।

সহিংসতার এই ভয়াবহতা কেবল রাজনৈতিক স্তরে সীমাবদ্ধ নেই, তা পৌঁছে গেছে মানুষের ধর্মীয় ও জাতিগত পরিচয়ের মূলে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর যে পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ উঠছে, তা অত্যন্ত শঙ্কার। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাত, হুগলি, বীরভূম বা হাওড়া, হুগলিতে যে চিত্র দেখা গেছে, তা সাম্প্রদায়িক উসকানির এক নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। বারাসাতের নোয়াপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিনের ‘ মসজিদবাড়ি রোড ’ এর নাম জোরপূর্বক বদলে ‘নেতাজিপল্লি রোড’ করা এবং স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী নবাব সিরাজুদ্দৌলার নামানুসারে ' সিরাজ উদ্যান ’ এর নাম পরিবর্তন করে ‘ শিবাজি উদ্যান ’ করার ঘটনাটি কেবল নাম পরিবর্তনের লড়াই নয়, এটি একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ইতিহাস ও অস্তিত্বকে মুছে ফেলার সুপরিকল্পিত চেষ্টা। হজ্জ যাত্রীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে টাঙানো ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা এবং হাতে জয়ী দলের পতাকা নিয়ে মসজিদ থাকবেনা বলে চিৎকার করে উসকানিমূলক শ্লোগান দেওয়ার ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে, রাজনৈতিক জয়কে কিছু উগ্রপন্থী শক্তি সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ছড়ানোর লাইসেন্স হিসেবে ব্যবহার করছে। স্থানীয় বিজেপি সমর্থকদের দাবী , সিরাজউদ্দৌলার সাথে বারাসাতের কোনো সম্পর্ক নেই, যা অনেক ইতিহাসবিদের মতে ইতিহাস বিকৃতির নামান্তর। কলকাতার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত নিউমার্কেট বা হগ মার্কেট এলাকাতেও যে তাণ্ডব চালানো হয়েছে, তা পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতিতে এক নতুন এবং ভয়ংকর সংযোজন। ৫ মে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই সংখ্যালঘু ব্যবসায়ীদের দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘অবৈধ’ তকমা দিয়ে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, যখন বুলডোজার চলছিল, তখন চারদিকে ডিজে সংগীত এবং ' জয় শ্রীরাম ' ধ্বনিসহ বিজেপির দলীয় পতাকা প্রদর্শন করা হচ্ছিল। এই উচ্ছেদ অভিযানে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বহু পরিবার যারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই বাজারে ব্যবসা করে আসছিল, তারা আজ নিঃস্ব। বুলডোজার সংস্কৃতির এই প্রবেশ পশ্চিমবঙ্গের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তিকে ম্লান করে দিচ্ছে। সমাজতত্ত্ববিদদের মতে, অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়ার এই কৌশলটি মূলত একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে কোণঠাসা করার পরিকল্পনা।

পশ্চিমবঙ্গের এই অস্থিরতা কেবল ভারতের সীমানার ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। ভৌগোলিক অবস্থান এবং ঐতিহাসিক সম্পর্কের কারণে পশ্চিমবঙ্গের স্থিতিশীলতা বাংলাদেশের স্থিতিশীলতার সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। প্রতিবেশী রাষ্ট্রে যখন ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন চলে বা সাম্প্রদায়িক উসকানি দেওয়া হয়, তখন তার প্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশেও পড়ার আশঙ্কা থাকে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ সহ রাজনৈতিক সচেতন মহল অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। দুই বাংলার মানুষের মধ্যে যে নাড়ির টান এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় রয়েছে, রাজনৈতিক হিংসা তা ক্ষতিগ্রস্ত করছে। পশ্চিমবঙ্গের শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়া মানে দক্ষিণ এশিয়ার এই অঞ্চলের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা হুমকিতে পড়া। বিশেষ করে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা, নদীয়া ও মালদহ জেলার অস্থিরতা সরাসরি বাংলাদেশের সীমান্ত সুরক্ষা ও আইন-শৃঙ্খলার ওপর চাপ তৈরি করে। সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশের ঝুঁকি বেড়ে যায়, যা দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে। অর্থনৈতিক দিক থেকে বিচার করলে, পশ্চিমবঙ্গ হলো বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার। পেট্রাপোল-বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার পণ্য বিনিময় হয়। পশ্চিমবঙ্গের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও সড়ক অবরোধের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে বাংলাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে পারে। বিশেষ করে কাঁচামাল, পেঁয়াজ ও অন্যান্য কৃষিজাত পণ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেকাংশেই পশ্চিমবঙ্গের ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা বাংলাদেশের উৎপাদন খাতকেও প্রভাবিত করতে পারে। এছাড়া, চিকিৎসা ও পর্যটন খাতে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিক কলকাতায় যাতায়াত করতেন কিন্তু চব্বিশের ৫ আগষ্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের দুই দেশের ভ্রমণকারীদে ভিসা বন্ধ আছে। বর্তমান অনিরাপদ পরিস্থিতির কারণে এই যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ জরুরি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং ভারতের পর্যটন ও চিকিৎসা শিল্প বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে।

তদন্ত ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে এখানে গভীর বিশ্লেষণ প্রয়োজন। পশ্চিম বঙ্গের নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের সময় আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্ব নিলেও ফলাফল ঘোষণার পর রাজ্য প্রশাসনের ওপর সেই দায় বর্তায়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিব ও ডিজিপিকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের নির্দেশ দিলেও মাঠ পর্যায়ে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। দ্য হিন্দু ও এনডিটিভির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, অপরাধীরা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকার কারণে পুলিশ অনেক ক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সৌন্দর্য হলো মতের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও সহাবস্থান, কিন্তু বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে সেই সহাবস্থান পুরোপুরি বিলুপ্তির পথে। ভারতীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক অমিতাভ রায় মনে করেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও এই ধরণের সহিংসতা প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাবকেই ফুটিয়ে তোলে।

তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় এলেও, এই পালাবদল যেন এক রক্তক্ষয়ী প্রেক্ষাপটে হচ্ছে। ইতিহাস সাক্ষী আছে, বলপ্রয়োগ করে বা নির্যাতন চালিয়ে কোনো রাজনৈতিক আদর্শ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। বারাসাতে সিরাজ উদ্যানের নাম পরিবর্তন বা মুসলিম ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ কেবল বিদ্বেষই ছড়াতে পারে, উন্নয়ন বা শান্তি নয়। এর সাথে যখন রাজনৈতিক কর্মীদের লাশ যোগ হয়, তখন তা মানবাধিকারের চূড়ান্ত লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হয়। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জেলাগুলোতে ঘরবাড়ি ভাঙচুর এবং লুটতরাজের যে চিত্র উঠে আসছে, তা কোনো যুদ্ধের খবরের চেয়ে কম নয়। উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি থেকে শুরু করে দক্ষিণবঙ্গের সুন্দরবন পর্যন্ত প্রতিটি এলাকায় কান পাতলে কেবল স্বজন আর সম্পদ হারানোর আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন যে, তাদের ৩৫০টির বেশি দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে এবং অসংখ্য কর্মীকে ঘরছাড়া করা হয়েছে। অন্যদিকে বিজেপি নেতৃত্ব পাল্টা অভিযোগ করেছে যে, তাদের কর্মীদের বেছে বেছে হত্যা করা হচ্ছে। এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগের আড়ালে বলি হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে কেবল প্রশাসনিক তৎপরতাই যথেষ্ট নয়, বরং রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সংবেদনশীল হতে হবে। জয়ী পক্ষের উচিত পরাজিতের অধিকার নিশ্চিত করা এবং পরাজিত পক্ষের উচিত গণতান্ত্রিক রায় মেনে নিয়ে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করা। পশ্চিমবঙ্গের সেই পুরনো সম্প্রীতির ঐতিহ্য যেখানে ঈদ এবং দুর্গাপূজা এক সাথে পালিত হতো তা আজ চরম সংকটের মুখে। যদি এই মুহূর্তে ধর্মীয় উসকানি এবং প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি বন্ধ না করা হয়, তবে এই আগুন নেভানো ভবিষ্যতের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়বে। ভারতীয় মানবাধিকার কর্মী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন নারী ও শিশুরা, যাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। বহু মুসলিম পরিবার অভিযোগ করেছে যে, তাদের ঘরবাড়িতে ঢুকে নারীদের অসম্মান করা হচ্ছে এবং শিশুদের সামনেই পুরুষদের মারধর করা হচ্ছে। এই ধরণের অভিযোগ ভারতের সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।

পশ্চিমবঙ্গের এই সংকটময় মুহূর্তে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত প্রধান লক্ষ্য। রাজনৈতিক পালাবদল মানেই যদি রক্তের হোলি খেলা হয়, তবে সেই গণতন্ত্রের সংজ্ঞা পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। আমরা প্রত্যাশা করি, ভারতের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য প্রশাসন রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াবে। বুলডোজার সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে এবং ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের সম্মান রক্ষা করে পশ্চিমবঙ্গ আবার তার স্বাভাবিক শান্তিতে ফিরে আসবে। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে আমাদের প্রত্যাশা, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এই সহিংসতার অবসান ঘটবে এবং সীমান্ত জুড়ে সম্প্রীতির বাতাস আবার বইতে শুরু করবে। অশান্ত পশ্চিমবঙ্গ কেবল ভারতের জন্য নয়, বরং এই পুরো উপমহাদেশের জন্য এক বড় ক্ষত হতে পারে, যা নিরাময়ের দায়িত্ব এখন রাষ্ট্র ও রাজনীতিকদের কাঁধেই বর্তায়। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং মানবাধিকার রক্ষা না পেলে পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধুলোয় মিশে যাবে, যা আগামী প্রজন্মের কাছে এক লজ্জাজনক অধ্যায় হিসেবে থেকে যাবে। দুই বাংলার মানুষের মধ্যে যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন রয়েছে, তা যেন কোনো রাজনৈতিক উগ্রতার কাছে হেরে না যায়। শান্তি ও সহাবস্থানই হোক ২০২৬ এর এই অন্ধকার সময়ের পর নতুন ভোরের মূলমন্ত্র। বাংলাদেশের মতো প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোও চায় একটি স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ পশ্চিমবঙ্গ, যা দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক উন্নয়নে সহায়ক হবে। রক্তপাত নয়, বরং প্রগতি ও সম্প্রীতিই হোক পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিচয়। প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের দলমত নির্বিশেষে শাস্তির আওতায় আনাই এখন একমাত্র পথ। পশ্চিমবঙ্গ আবার তার হৃত গৌরব ফিরে পাক, মানুষের মনে নিরাপত্তার বোধ ফিরে আসুক, এটাই সকলের প্রার্থনা।

সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:০৯
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: সব কিছু ভেঙে পড়ে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:২৮


"তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও - আমি এই বাংলার পারে
র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের..."

জীবনানন্দ দাশ ''রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো বরিশালে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে বসে লিখেছিলেন। জীবনানন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার কারণে দিদি হেরেছন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩




আপা এপারের হিন্দুদেরকে স্নেহ করতেন তাতে ওপারের হিন্দু খুশী ছিল। আপা ভারতে বেড়াতে গেলে মোদীর আতিথ্যে আপা খুশী। কিন্তু আপার আতিথ্যে দিদি কোন অবদান রাখলেন না। তাতে হিন্দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

লেখালিখি হতে পারে আপনার বিক্ষিপ্ত মনকে শান্ত করার খোরাক।

লিখেছেন মাধুকরী মৃণ্ময়, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:২৯

এই যেমন আমি এখন লিখতে বসছি। সর্বশেষ লিখেছি ২০২১ সালে জুলাই এর দিকে। লিখতে গিয়ে আকাশে বাতাসে তাকাচ্ছি, শব্দ, বিষয় খুজছি। কিন্তু পাচ্ছি না। পাচ্ছি যে না , সেইটাই লিখছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই মে, ২০২৬ রাত ২:৩৩


নট আউট নোমান ইউটিউব চ্যানেলের ক্রীড়া সাংবাদিক নোমান ভাই একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক। বাংলাদেশে এখন আমরা এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে বাস করছি যেখানে প্রকৃত দেশপ্রেমিক আর ভুয়া দেশপ্রেমিকের পার্থক্য করা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রফিকুল ইসলামের ২য় বিয়ে করার যুক্তি প্রসঙ্গে chatgpt-কে জিজ্ঞেস করে যা পেলাম...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৭ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০



ইসলামে একাধিক বিয়ে বৈধ, তবে সেটা বড় দায়িত্বের বিষয়। শুধু “বৈধ” হলেই কোনো সিদ্ধান্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্তম বা সবার জন্য উপযুক্ত হয়ে যায় না। Qur'an-এ বহু বিবাহের অনুমতির সাথে ন্যায়বিচারের শর্তও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×