somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ঔপন্যাসিক জিল্লুর রহমান
চোখের সামনে যেকোন অসঙ্গতি মনের মধ্যে দাগ কাটতো, কিশোর মন প্রতিবাদী হয়ে উঠতো। তার বহিঃপ্রকাশ ঘটতো কবিতা লেখার মধ্য দিয়ে। ক্ষুধা ও দারিদ্রের বিরুদ্ধে, নির্যাতন ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কবিতা। তারপর গল্প, উপন্যাস। এ যাবত প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা-২১ টি।

ক্যামেরার চোখ-০২

০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ১১:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাবাজারে শত শত পাবলিশার্স। তাঁর হাতের লেখা কয়েকটা ঠিকানা ধরে তিনি অনেক খুঁজলেন। না, তাঁর সেই ঠিকানা খুঁজে পাওয়া অনেক কঠিন কাজ। হঠাৎ করে তার মাথায় নতুন চিন্তা এলো, এতো খোঁজাখুঁজির কী আছে। বইয়ে যেসব প্রকাশকের নাম আছে তাদের কেউ তো আমার পরিচিত না। কাজেই যেকোনো একটা পাবলিশার্সের সঙ্গে কথা বললেই হয়।
কবি আব্দুর রাজ্জাক একটা পাবলিশার্সের দোকানে ঢুকতে গিয়ে একটু ইতস্তত: করলেন। দোকানে বসা ভদ্রলোক অভয় দিলো, কবির চেহারা দেখে শ্রদ্ধাভরে ডাক দিলো, আসুন।
রাজ্জাক সাহেব ভিতরে ঢুকে সালাম দিলেন।
ওয়ালেকুম আস্‌সালাম।
রাজ্জাক সাহেব জিজ্ঞেস করলেন, এখানে কি বই ছাপানো হয়?
ভদ্রলোকের বয়স রাজ্জাক সাহেবের কাছাকাছিই হবে। হাস্যজ্জ্ব্যেল মুখ। কথা বলার সময় মুখে একটা হাসি লেগেই থাকে। কথার সুর বেশ রসালো, হ্যাঁ। আপনি এক্কেবারে সঠিক জায়গায় এসে পড়েছেন। দাঁড়িয়ে কেন, বসুন।
কবি সাহেব বসলেন, আমি একটা কবিতার বই ছাপাবো।
ভদ্রলোক বললো, বই আপনি ছাপাবেন কেন? আপনি তো কবি, আপনি কবিতা লিখবেন, বই ছাপাবে পাবলিশার্স।
কবি সাহেব নিজেকে সংশোধন করে বললেন, জি আপনি ঠিকই বলেছেন।
ভদ্রলোক এবার নিজের পরিচয় দিলো, আমি ইমরুল, আর আমার প্রতিষ্ঠানের নাম তো দেখছেনই, তরুলতা প্রকাশনা।
কবি সাহেব একবার দোকানটার দিকে চোখ বুলিয়ে দেখলেন। র‌্যাকে অনেক বই সাজানো আছে।
কবি সাহেব নিজের পরিচয় দিলেন, আমি আব্দুর রাজ্জাক।
কবি সাহেব আরো কিছু বলতে যাচ্ছিলেন, ইমরুল থামিয়ে দিলো, বুঝেছি আপনি একজন কবি। তো কবি ভাই’র বাড়ি কোথায়?
দিনাজপুর।
ও, খুব সুন্দর। দিনাজপুরের মানুষ তো খুব ভালো হয়। রাজ্জাক সাহেব একটু হাসলেন, তারপর ব্যাগ থেকে পান্ডুলপি বের করে ইমরুলের দিকে বাড়িয়ে দিলেন, এগুলো আমার লেখা কবিতা। আমি আগামী বইমেলায় একটা বই বের করবো।
ইমরুল চেয়ার থেকে উঠে বললো, আপনি একটু বসুন আমি দু’টা চায়ের অর্ডার দিয়ে আসি।
ইমরুল সাহেব অর্ডার দিয়ে আবার ভিতরে ঢুকলো, জি এখন বলুন বলে সে কবিতাগুলো নিয়ে দু’য়েকটা কবিতা পড়ে দেখলো, বাহ্‌ আপনার লেখা তো খুব সুন্দর।
রাজ্জাক সাহেবর মুখ উজ্জ্বল হলো।
ততক্ষণে চা চলে এসেছে। ইমরুল চায়ে চুমুক দিয়ে বললো, কিন্তু একটা কথা কি রাজ্জাক ভাই জানেন?
রাজ্জাক সাহেব ইমরুলের মুখের দিকে তাকালেন, আজকাল টি.ভি, মোবাইল, ইন্টারনেট নিয়ে সবাই ব্যস্ত। তাই কবিতা আজকাল আর কেউ পড়ে না। তো কত পৃষ্ঠার বই হবে আপনার?
এই একশটা কবিতা।
তাহলে তো বই ছয় ফর্মার চেয়ে বেশি হবে। অনেক খরচ পড়বে।
কতো?
ইমরুল একবার রাজ্জাক সাহেবের আপাদমস্তক তাকালো। তারপর বললো, এই ধরুন ছত্রিশ হাজার টাকা।
রাজ্জাক সাহেব আকাশ থেকে পড়লেন, এতো টাকা!
আরে ভাই কাগজ-কলমের যা দাম। আমি আবার খারাপ কাজ করি না। আপনার বই হবে ঝকঝকা। মানুষ দেখলেই নিতে চাইবে। বইয়ের গেট আপ ভালো না হলে আজকাল চলে না। আগে কথা ছিল চকচক করিলে সোনা হয় না আর এখন উল্টো, চকচক না করিলে সোনা হয় না।
টাকা কিছু কম করা যায় না?
রাজ্জাক ভাই আপনাকে আমি একটা পরামর্শ দিই?
বলুন?
আপনি বরং বইটা একটু ছোটো করুন।
মানে?
মানে এই ধরুন তিন বার চার ফর্মার একটা বই ছাপাবেন।
তাহলে ক’টা কবিতা ছাপানো যাবে?
এই ধরুন তিন ফর্মার হলে আটচল্লিশটা আর চার ফর্মার হলে চূষট্টিটা কবিতা।
চার ফর্মার একটা বই দেন তো একটু দেখি।
ইমরুল রাজ্জাক সাহেবের হাতে একটা বই দিলেন।
রাজ্জাক সাহেব বইটা হাতে নিয়ে দেখতে দেখতে কিছুটা উদাস হয়ে গেলেন, আমার এরকম একটা বই প্রকাশিত হবে। অমর একুশে বইমেলায় টি.ভি ক্যামেরার সামনে আমি ইন্টারভিউ দিবো। সারাদেশের মানুষ দেখবে, আমার বইটাও থাকবে এবার একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হওয়া কয়েক হাজার বইয়ের একটা। উ: আমি তো পৃথিবীতে অমর হয়ে...
ইমরুল ডাক দিলো, কবি ভাই কী ভাবছেন?
রাজ্জাক সাহেব চমকে উঠলেন, না, কিছু না।
ইমরুল রাজ্জাক সাহেবের মনের অবস্থা বুঝতে পেরেছে। সে বললো, কবি ভাই একবার ভাবুন এরকম একটা বই একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হবে। এটা কিন' কম ভাগ্যের কথা নয়। এটার সঙ্গে কি কখনো টাকার তুলনা হয়।
কীরকম টাকা খরচ হবে ভাই? রাজ্জাক সাহেব বিনয়ের সঙ্গে জিজ্ঞেস করলেন।
ইমরুল তার ড্রয়ার থেকে ক্যালকুটের বের করে কিছুক্ষণ নিবিষ্ট মনে টিপতে থাকলো তারপর বললো, পঁচিশ হাজার টাকা।
রাজ্জাক সাহেব বিনয়ের সঙ্গে বললেন, ভাই একটু সেক্রিফাইজ করুন। টাকার পরিমাণটা একটু কমান। বই তো ছোটো হলো সে অনুযায়ী টাকার পরিমাণটা একটু যদি কমাতেন।
দেখুন কবি ভাই। বইয়ের সাইজ কমালেও বইয়ের কভার, বাইন্ডিং এসব তো আর কমে না।
রাজ্জাক সাহেব কিছুটা মিনতির সুরে বললেন, ভাই একটা কথা বলবো। আপনাকে কিন' রাখতে হবে। আমি কিন' ধনী মানুষ নই। অনেক কষ্ট করে আমাকে বই ছাপানোর খরচের টাকাটা জোগাড় করতে হবে। আমি আপনাকে বিশ হাজার টাকা দিবো।
অবশেষে বিশ হাজার টাকা ঠিক হলো। রাজ্জাক সাহেব ইমরুলের মোবাইল নাম্বার নিলেন। তারপর বললেন, ভাই পান্ডুলিপিটা কবে পাঠাবো?
আপনি যতো তাড়াতাড়ি দিবেন, আমি ততো তাড়াতাড়ি কাজ শুরু করবো। তবে বলে... ইমরুল একটা টান দিতেই রাজ্জাক সাহেব জিজ্ঞেস করলেন, তবে কী ভাই?
তবে পান্ডুলিপি আর টাকা একসঙ্গে দিবেন।
রাজ্জাক সাহেব ভেবেছিলেন টাকাটা কিস্তিতে দিবেন কিন' ইমরুল যেভাবে বললো তাতে তিনি কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়লেন। তার মুখের ওপর একটা হালকা কালো মেঘ খেলে গেলো। তিনি বললেন, আচ্ছা ভাই।
চলবে...
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রংয়ের মানুষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গ্রেট মাদ্রাজ ফ্যামিন যখন অনুপ্রেরণার উৎস
একদিন আমাদের সবার প্রিয় সংসদ সদস্য আমির হামজা ওয়াজে বেশ গরম গরম কথা বলছিলেন। মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হঠাৎ রাশমিকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

লক্ষ্মীপুরের সুপারি থেকে উপকূলের অর্থনীতি: কৃষিজ সম্পদই পারে গ্রামীণ ভাগ্য বদলাতে

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮


বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে এমন কিছু নির্দিষ্ট ফল, ফসল বা মৎস্য সম্পদ প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত হয়, যা শুধু স্থানীয় চাহিদা মেটায় না, বরং পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে জোরালো প্রভাব ফেলে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

×