somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দ্বিতীয় বার

২৭ শে জুলাই, ২০১৪ দুপুর ২:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাসে করে যাচ্ছিলাম সিলেট। বরাবরের মতই বাসের প্রথম সারির সিটে বসলাম। এইটা আমার একটা অভ্যাস বলতে পারেন। সামনের সিটে বসার অনেক গুলো কারনের মধ্যে বিশেষ যা তা হল রাস্তার ভিউটা ভালো ভাবে দেখা যায় তাছাড়া বাসের ঝাকুনিটা কম লাগে। সেদিনও বাসে বসে কানে হেডফোনটা লাগিয়ে গান শুনছিলাম। কিছুক্ষন পর বাসটা থামল কোনো একটা জায়গায়। গান শুনার কারনে ততটা খেয়াল করিনি। আমার সিট টা ছিল দুই নাম্বার । চশমাওলা একজন ভদ্র লোক উঠলেন বুজতে পারলাম। বয়স ষাট এর কাছাকাছি হবে অনুমানিক । আমার কাদে ধাক্কা দিয়ে কি যেন বললেন শুনতে পাইনি। হেডফোনটা সরিয়ে জিজ্ঞেস করলাম কি সমস্যা ? লোকটি যা বলল তাতে আমি ভীষণ বিরক্ত হলাম। বয়স্ক মানুষ ভেবে কি আর করা উনার বার নাম্বার সিট এর টিকেটটা নিয়ে উনার সিটে আমি বসলাম । আর উনি বসলেন আমার সিটে । হেডফোন টা কানে লাগিয়ে আবার গান শুনায় বিজি হয়ে গেলাম । কখন ঘুম চলে আসে বুজতে পারি নি। কিছুক্ষন পর বড়ধরনের একটা আওয়াজে ঘুম ভাঙ্গে। আদৌ ঘুম ভেঙ্গেছিল কিনা জানি না। ভীষণ কষ্ট হচ্ছিল। নড়াছড়া করতে পারছিলাম। সকল শক্তি দিয়ে এতোটুকু বুজতে পারলাম যে বাস টি উলটে আছে । আমার পা টা সিটে আর মাথাটা বাসের যাত্রী চলাচল এর জন্য যে জায়গাটা সেখানে । মানুষের হৈচৈ আর চিৎকার এ বুজতে পারলাম না আসলে কি হয়েছে আমার । খেয়াল করলাম আমার নীল টি-শার্ট কাল বর্ণের হয়ে গেছে । কান আর মাথা থেকে অনেক রক্ত পরছে । এই রকম একটা অনুভূতি হচ্ছিল যে আমি জীবিত নাকি মৃত বুজতে পারছিলাম না । কেউ বাচাতে ও আসছে না।
একটা সময় নিজেকে আবিস্কার করলাম একটা হাসপাতালে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরনে জ্ঞ্যান হারিয়ে পেলেছিলাম । জানতে পারলাম আমাদের বাসটা একটা টার্নিং এ নিয়ন্ত্রন হারিয়ে পেলেছিল । বাসের প্রায় সব যাত্রীই জীবিত আছেন শুধু মাত্র দুই নাম্বার সিটের যাত্রি ছাড়া। ছয় দিন পর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাই।
আজ দু বছর পরেও বাসে করে কোথাও গেলে মনে পড়ে কেন আমি আজও জীবিত ? ঐ লোকটিই বা কে ছিলেন ? আমিই বা কেন উনার সাথে সিট বদলালাম আর কেনই বা শুধু ঐ সিটের মানুষটির জন্য আমি বেছে গেলাম?
উনি হিন্দু কি মুসলমান আমি জানি না । সৃষ্টিকর্তা সবার একজনই । ধর্মভেদে সৃষ্টিকর্তার ভিন্ন নাম। সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি পরকালে যেন উনি শান্তিতে থাকেন। জানিনা সৃষ্টিকর্তা কি জন্য আমায় বাচিয়ে রেখেছেন । দ্বিতীয় বারের মত জিবনের স্বাদ পেলাম। অবশ্যই ভালো কিছু নিয়েই সৃষ্টিকর্তার কাছে হাজির হব।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথায় পাই পাগলের শ্বশুর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮


পাগলের পাতা ছাগলে খায়,
দাঁতের দোষটা হাতেই যে কয়;
দেয় রে দোষটা দেয় চোখের,
মনটা যে ধোয়া তুলসীপাতা,
কেউ দেখে না রে মুখের।

মুখের কথা ঠোঁটে কয়,
ছাগল ডাকে রে ভাই, ব্যাঁ-ব্যাঁ;
পাগলের কাজ পাগল করে সই,
সাধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×