somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পরিবর্তন

১২ ই আগস্ট, ২০১৪ দুপুর ১২:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সকাল গড়িয়ে এখন দুপুরের শেষ প্রায় । মনটা ভালো নেই আকাশের । বাসা থেকে রাগ করে বেরিয়ে এসেছে । সকাল থেকেই রাস্তায় রাস্তায়, অলিগলিতে ঘুরে বেরাচ্ছে আকাশ । মনুমিয়ার চায়ের দুকানের একটু পরে হাতের ডানদিকে একটা এতীমখানা রয়েছে । ভাবছে ওখানে যাবে একটু। হাতের চিগারেটটা শেষ করে হাটতে লাগল এতীমখানার উদ্দেশে । কিন্তু এতীমখানাটা কয়েকদিন আগেও যেখানে ছিল আজ আর সেটা সেখানে নেই । একটু চমকে উঠল আকাশ । ভাবতে ভাবতে মনুমিয়ার চায়ের দুকানে এসে আরেকটা চিগারেট ধরাল আকাশ । চিগারেট খেতে খেতে জিজ্ঞেস করল মনুমিয়াকে
– এইখানে একটা এতীমখানা ছিল না ?
-ছিল। এখন আর নেই ।
-নেই কেন ?
-এখানকার সব শিশুদের দেশের নিঃসন্তান লোকেরা নিয়ে গেছে তাদের বাড়ি।
-হুমমমম.........
অন্যদিন রাস্তায় বের হলে ডজন খানেক ভিক্ষুকের দেখা মেলে । কিন্তু আজকে এতক্ষন ধরে একটা ভিক্ষুকও দেখেনি আকাশ । দেশের সব ভিক্ষুককে নির্বাসন দেয়া হইসে নাকি ? নিজেকে প্রশ্ন করে আকাশ ।
এতক্ষণে বাসা থেকে ফোন আসল আকাশের । ফোনটা কেটে দিয়ে মোবাইলটা আবার পকেটে ভরে রাখল । অন্যদিনের চেয়ে আজ গরমটা একটু বেশি । মহাকালের সাক্ষী এই গাছটা কত পথিককে ছায়া দিয়ে গেছে যুগ যুগ ধরে । কত পাখি বাসা বাধে তার বুকে । শিক্ষা অফিসের সামনের শিরিশ গাছটার নিছে বসে ভাবছিল আকাশ । পেছন থেকে একটা শক্ত হাতের স্পর্শে মোহ কাটে আকাশের ।
-আরেহ গনি চাচা যে,কেমন আছেন ?
-বুড়ো হয়ে গেছি ,রোগ শোক নিয়ে আছি একরকম ।
-রিক্সা চালান না আর ?
-না। মেয়েটার বিয়ে দিয়ে দিছি । জামাই অনেক ভালো । দেখাশুনা করে । ছেলেটাও পুলিশে চাকরি করে। এই বয়সে শরীর মানে না আর ।
-তাহলেত ভালই ।
ব্যাপারটা যেন কিছুতেই মিলছে না । যে গনি চাচার মেয়ের এতদিন ধরে বিয়ে হচ্ছে না টাকার অভাবে এখন নাকি গ্রামের লোকজনেরা মিলে সাহায্য তুলে বিয়ে দিয়ে দিসে। এতদিন কোথায় ছিল গ্রামের মানুষ ? অযতাই মেয়েটার বয়স বাড়াল ।
বিকেল হয়ে যাচ্ছে প্রায় । রজতের ফোন ।
- কই তুই ?
- কেন?
- খেলতে যাবি না ?
- না ! বাসা থেকে রাগ করে বেরিয়ে এসেছি সকালে । খাওয়াদাওয়া
হয়নি এখনও।
-তো !!!! কি হইসে । বাসায় চলে আয় একসাথে খাব । দেরি করিস না ।
দুটানায় পরে গেল আকাশ । আকাশ মুসলমান হওয়ায় রজতের মা বাসায় যাওয়া আসা খুব একটা পছন্দ করেন না । বাসা থেকে রাগ করে বেরিয়ে এসেছি আর যাই হোক বাসায় যাওয়া যাবে না এই ভেবে রজতের বাসার দিকে রওনা দিল আকাশ । কলিং বেল চাপতেই রজতের মা দরজা খুলে দিলেন । আশ্চর্যের ব্যাপার অন্যদিনের মত আকাশকে দেখে রজতের মার মুখে যে বিরক্তির চাপ থাকে আজ তা নেই !!! রজত ও আজকে তার মার সামনেই কোলামেলা ভাবে কথা বলছে । যে রজত তার মায়ের সামনে আকাশের সাথে কথাই বলে না আজ তার মুখে খৈ ফুটছে । রজতের মা একটু গোত্রবাদী হওয়ায় মনে হয় অন্যদিন আকাশের সাথে কথা বলতে মানা করতেন ! কিন্তু আজ............
হাতমুখ ধুয়ে আসতে বললেন রজতের মা ! খাবার টেবিলে অনেক ধরনের খাবার । আকাশ আসবে শুনে ফ্রিজে থাকা ইলিশ মাছটা ভাজি করেছেন রজতের মা ! নিজের হাতে ভাত বেড়ে দিচ্ছেন । খাওয়া শেষ করল আকাশ আর রজত ।
রজতের তাড়ায় খাওয়া শেষ করেই বেরিয়ে পরল দুজন খেলতে যাওয়ার জন্য । রজতের সাথে রিক্সা করে যেতে যেতে একদম ভালো লাগে না আকাশের । এর চেয়ে যত দুরই হোক হেটে যাওয়াই উত্তম !! কারন একটাই ২ টাকা কম বেশি ! রিকশাওয়ালাকে ২ টাকা বেশি দিতে রাজি না রজত । মনে মনে রজতকে গালি দিতে দিতে পৌঁছে গেল মাঠে । কিন্তু আশ্চর্যের কাণ্ড রজত ৫ টাকা বেশি দিয়েছে রিকশাওয়ালা কে । মনে মনে হাসে আকাশ । এ যেন মেঘ না চাইতে বৃষ্টি !!
মাঠে তাকিয়ে চোখ কপালে উঠলো আকাশের । যে মাঠে ৫/৬ বছর আগে কন্সট্রাকসন এর বিল্ডিং বানানো হয়েছিল সেই মাঠ আজকে আবার ফিরে আসল কিভাবে । নিজেকে চিমটি কাটে আকাশ । দূরে শাহিনকে দেখা যাচ্ছে । হাত নারিয়ে তাদের সাথে খেলতে ইশারা করল আকাশকে । সবকিছুই আজকে অবাক লাগছে আকাশের ! যে শাহিন এর জ্বালায় পাড়ায় সবাই অস্তির ! যে শাহিনের সাথে রোজ আকাশের ঝগড়া হত মাঠ দখল নিয়ে , খেলা নিয়ে সেই শাহিন আজকে আর ঝগড়া করছে না । মাঠের এক অংশে খেলছে আর বাকি অংশটাতে আমরা খেলব ।
ঠোটের কোনে অজান্তেই হাসি ফুটে উঠে আকাশের ।
ফোনের রিং টা বেজে উঠল হটাত করে । ঘুম ভাঙল আকাশের । ঘড়িতে এখন ৫ টা বাজে । সেই ২ টার সময় খেয়ে ঘুমিয়ে ছিল !! বিছানা থেকে উঠতে ইচ্ছা করছে না আকাশের । স্বপ্নগুলো এখনও যেন ভাসছে চোখের সামনে !। আকাশের স্বপ্নগুলো কি আদৌ সত্যি হবে কোনদিন ? আজ খেলতে যায় নি আকাশ !!
স্বপ্ন নাকি কখনো রঙ্গিন হয় না ! আমি বলব কখনো কখনো স্বপ্নও রঙ্গিন হয় ! যা বার বার সেই স্বপ্নটা দেখার ইচ্ছা জাগায় ।
সেই স্বপ্নটা আবার দেখার ইচ্ছা নিয়ে রাতে ঘুমোতে যায় আকাশ ।
আকাশের মত হয়ত অনেকেই পরিবর্তনের এইরকম স্বপ্ন দেখে !!
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথায় পাই পাগলের শ্বশুর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮


পাগলের পাতা ছাগলে খায়,
দাঁতের দোষটা হাতেই যে কয়;
দেয় রে দোষটা দেয় চোখের,
মনটা যে ধোয়া তুলসীপাতা,
কেউ দেখে না রে মুখের।

মুখের কথা ঠোঁটে কয়,
ছাগল ডাকে রে ভাই, ব্যাঁ-ব্যাঁ;
পাগলের কাজ পাগল করে সই,
সাধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×