somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কোথাও কেউ নেইঃ উপন্যাস বনাম নাটক।

১৮ ই জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৪:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের তুমুল জনপ্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিক কোথাও কেউ নেই। নব্বইয়ের দশকের এমন কোন বিটিভি দর্শক নেই যিনি নাটকটি দেখেননি। নাটকটি ১৯৯২-১৯৯৩ সাল পর্যন্ত প্রথম বারের মতো প্রচার করা হয়।এটি এতোই জনপ্রিয় হয় যে এর কেন্দ্রিয় চরিত্র বাকের ভাই এর ফাসির আদেশের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ -মিছিল হয়।
হুমায়ূন আহমেদের কোথাও কেউ নেই নামের উপন্যাস অবলম্বনে নাটকটি লেখা হলেও উপন্যাসের সাথে নাটকটির বেশ কিছু বড় রকমের পার্থক্য রয়েছে।আসুন জেনে নেই কি কি সেই পার্থক্য।

১)নাটকে বাকের ভাই কেন্দ্রিয় চরিত্র হলেও উপন্যাসে বাকের অন্য সকল গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের মতোই একটি চরিত্র।উপন্যাসে ১০০ পৃষ্ঠার আগে বাকেরকে সেরকম ভাবে খুজে পাওয়া যায় না।বরং পুরো উপন্যাসে মুনাকেই বার বার খুজে পাওয়া যায়।গল্পটি যেন মুনা ও তার চারপাশের মানুষদের ঘিরে।

২)নাটকে বাকের তিন জনের দল নিয়ে ঘুরে বেড়ায়।তার সব সময়ের সঙ্গি মজনু ও বদি।উপন্যাসে বাকেরের কোন দল নেই।বাকেরের দল ভেঙে গেছে।বাকের একা একা মাস্তানি করে বেড়ায়। বাকেরের ঘনিষ্ট বন্ধু হিসাবে দেখা যায় সদ্য বিবাহিত এবং বাকেরের দলত্যাগী ইয়াদকে।চরিত্রটিতে বদির ছাপ আছে।

৩)নাটকে মুনার প্রেমিক মামুন প্রাইভেট টিউশনি করে।এক পর্যায়ে তার ছাত্রী বিজরী বরকতুল্লাকে বিয়ে করে।এই বিবাহ সুত্রে সে চাকুরি পায়।উপন্যাসে এরকম কোন কাহিনি নেই। উপন্যাসে মামুন কলেজের প্রফেসর।এক সময় চাকুরি ছেড়ে গ্রামে স্থায়ি হয়।

৪)নাটকে মুনা ও মামুনের বিচ্ছেদের কারন হিসাবে মামুনের তার ছাত্রিকে বিয়ে করার বিষয়টি দেখানো হয়।উপন্যাসে মামুন মুনার সাথে প্রাক বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করায় মুনা মামুনের সাথে সম্পর্ক ছেদ করে।

৫)উপন্যাসে জাহানারা নামে সম্পূর্ন নতুন একটি গুরুত্বপূর্ন চরিত্র আছে।মামুনের সাথে মুনার বিচ্ছেদের পর মামুন গ্রামে তেলের কারখানা করবে বলে গ্রামে ফিরে যায়।ব্যাংক লোনের আবেদন করে।ব্যাংকে তার পরিচয় হয় সেকেন্ড অফিসার জাহানারার সাথে।জাহানারার সাথে মামুনের বিয়ে হয়।উপন্যাসের বড় অংশ জুড়ে মামুন-জাহানারা আখ্যান।

৬)নাটকটি পুরোটাই ঢাকা শহরকেন্দ্রিক।উপন্যাসে মামুনের গ্রামের বাড়ি ও নেত্রকোনায় বকুলের শ্বশুরবাড়ির কাহিনি আছে।

৭)নাটকে মুনার মামা শওকত বাবার কথা শুনে পুলিশের কাছে স্যারেন্ডার করেন,টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করেন।উপন্যাসে শওকত মামার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়।তিনি চুরির দায় থেকে মুক্তি পান ও ইউনিয়নের চাপে চাকুরি ফিরে পান।

৮)নাটকে কুত্তাওয়ালি রেবেকা হক দারোয়ানকে খুন করিয়ে বাকের কে ফাসিয়ে দেয়।উপন্যাসে এলাকার নতুন মুরুব্বি, কমিশনার পদপ্রার্থি স্থানীয় বাড়িওয়ালা সিদ্দিক সাহেব বাকের কে ফাসিয়ে দেয়।অন্তত বাকের সেরকমই বিশ্বাস করে।

৯)নাটকে বাকের,বদি ও মজনুর বিরুদ্ধে শান্তি কুটিরের দারোয়ানকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়।বদি প্রলোভনে পড়ে রাজ সাক্ষী হয়ে বাকেরের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়।এতে বাকেরের ফাসি হয়ে যায়।উপন্যাসে যেহেতু বাকেরের কোন দল নেই, তার একার বিরুদ্ধেই মামলা হয়।বাকেরের কোন বন্ধু ইয়াদ বা মাখনা তার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করে না।বাকেরের প্রতিপক্ষ তিন জন মিথ্যা সাক্ষি দাড় করায়।বাকেরের উকিল সেই সাক্ষ্যতে কোন ভুল ধরতে না পারায় তার ফাসির আদেশ হয়ে যায়।

উপন্যাসে কাহিনিতে একটি অসঙ্গতি আছে।বাবু(বকুলের ছোট ভাই) বকুলের বিয়ের পর বকুলের শ্বশুড় বাড়িতে বেড়াতে যায়।বকুলের স্বামী ডা.জহির তাকে স্থানীয় স্কুলে ভর্তি করে দেয় এবং নিজের কাছে রেখে দেয়।এই ঘটনা লেখক ভুলে গিয়ে বাবুকে দ্বিতীয় বারের মতো বকুলের শ্বশুড় বাড়িতে পাঠান মুনার সাথে।জহির তাকে দ্বিতীয় বারের মতো স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেয়।

আমরা জানি নাটকের ভাষা আর উপন্যাসের ভাষা এক নয়।এটুকু স্বীকার করেও বলা যায় নাটক থেকে উপন্যাসের কাহিনি খানিকটা ভিন্ন।এতে অবশ্য পাঠকের লাভই হয়েছে।নাটক এবং উপন্যাসের কাহিনি হুবাহু এক হলে নাটক দেখা পাঠকের কাছে উপন্যাসের আকর্ষন অনেকটাই কমে যেত।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জানুয়ারি, ২০২২ সন্ধ্যা ৬:১৮
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বালুর নিচে সাম্রাজ্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫১


(ডার্ক থ্রিলার | কারুনের আধুনিক রূপক)

ঢাকার রাত কখনো পুরোপুরি ঘুমায় না।
কাঁচের অট্টালিকাগুলো আলো জ্বেলে রাখে—যেন শহর নিজেই নিজের পাপ লুকাতে চায়।

এই আলোর কেন্দ্রেই দাঁড়িয়ে ছিল করিম গ্লোবাল টাওয়ার
আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

জ্ঞানহীন পাণ্ডিত্য

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০


এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে স্বদেশ,
যে কিছু জানে না; সে-ই দেয় উপদেশ।
“এই করো, সেই করো;” দেখায় সে দিক-
অন্যের জানায় ভ্রান্তি, তারটাই ঠিক।
কণ্ঠে এমনই জোর, যে কিছুটা জানে-
সব ভুলে সে-ও তার কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণতন্ত্র হলো সংখ্যাগরিষ্ঠের মত এবং শরিয়া আইন হলো সকল পক্ষের সম্মতি বিশিষ্ট ইসলামী হুকুমতের আইন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:১৯



সূরাঃ ৬ আনআম, ১১৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
১১৬। যদি তুমি দুনিয়ার অধিকাংশ লোকের কথামত চল তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ হতে বিচ্যুত করবে। তারা তো শুধু অনুমানের অনুসরন করে:... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কেমন হবে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



সামনের গণভোট ঘিরে অনেক অপপ্রচার চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। অনেকেই জানতে চাঁচ্ছেন, গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কি রকম হবে? নির্বাচন কমিশনের ওয়েসবাইট থেকে জানতে পারা গিয়েছে যে, গণভোটের ব্যালটটি উপরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহতারাম গোলাম আযমই প্রথম We Revolt বলেছিলেন !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৫৮


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’। দলটির দাবি, অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ৩৭ লাখের বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×