আজ থেকে সরকারী চাকুরীজিবীরা মহাআনন্দে ৯ দিনের ঈদের ছুটিতে যাচ্ছে। এ নিয়ে অনেকে অনেক মন্ত্যব্য করছেন। কেউ বলছেন দেশ এত দিনের বন্ধে রসাতলে যাচ্ছে, কেওবা আবার এর পক্ষে যুক্তি দিচ্ছেন। আমার প্রশ্ন কেন এটা করা হল, কার জন্য করা হল, আর এতে কি লাভ হল, কে লাভবান হল । সরকারী চাকুরীজিবীরা শুক্র,শনি দুদিন ছুটি কাটায়। আর আমরা যারা সেই সোনার হরিন পাইনি তারা শুধু শুক্রবার ছুটি কাটাই আর সরকারী চাকুরীজিবীদের চেয়ে বছরে ৫২ দিন বেশি কাজ করি। আমার মনে একটা প্রশ্ন জাগে তাহলে কি সোনার হরিন পাওয়া জনেরা আমরা যারা বেসরকারী, প্রাইভেট চাকরী করি তাদের চেয়ে বেশী অভিজ্ঞ অথবা মেধাবী যার কারনে তারা আমাদের চেয়ে বছরে ৫২ দিন কম কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
এবার ঈদে সরকার নির্বাহী আদেশ বলে ১ জুলাই থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত ঈদের ছুটি ঘোষনা করেছে। আমার কথা হল আমরা যারা প্রাইভেট জব করি আমরা কেন সেই ছুটি পেলাম না। আমাদের কেন ২ জুলাই, ২০১৬ শনিবার আর ৪ জুলাই সোমবার অফিসে কাজ করত হবে। আমরা কি এদেশের জনগন না? আমরা কি এদেশের আইনে চলিনা? আমরা কি এ সরকারের কেউ না? তবে কেন এত অনিয়ম? সরকার যা করে তা জনগনের কথা, দেশের কথা ভেবে ভালোর জন্যই করে । যদি ১-৯ জুলাই সরকার ছুটি ঘোষণা করে তবে সেটা কি সুবিধার জন্য কার সুবিধার জন্য, নিশ্চয়ই জনগনের সুবিধার কথা ভেবে, তবে আমরা কি সেই জনগনের মধ্যে পরিনা? কার কাছে চাইব এর জবাব? আমরা যারা প্রাইভেট জব করি তাদের জন্য কি কোন আইন নেই, তাদের জন্য কোন লেবার কোর্ট নেই, তাদের জন্য কোন মানবাধীকার নেই । আমাদের অফিসে ঢুকবার সময় আছে কিন্তু বের হবার কোন সময় নেই। আমাদের কোন হাফ অফিস নেই। সপ্তাহের ৬ দিন সেই সকাল ৯ টা থেকে শুরু শেষ হবার নির্দিষ্ট কোন টাইম নেই। আমরা কি মানুষ না? নাকি অন্যগ্রহের কোনকিছু। এবার রোজায় সরকার ৩,৩০ মিনিট পর্যন্ত অফিসের সময় ঘোষনা করল। কেন করল? আগের মত ৫ টা পর্যন্ত থাকলে কি হত? না, সরকার ঠিকই জনগণের কথা, রোজাদারদের কথা ভেবে অফিস টাইম পরিবর্তন করেছে। আর আমরা প্রাইভেট জব ওয়ালারা এ রোজায় অনেকেই রাস্তায় ইফতার করেছি। কারন আমাদের শরীরে মালিক পক্ষের এই অত্যাচার সইতে সইত সয়ে গেছে। সত্যিই সেলুকাস আমাদের দেশ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

