somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ডিভোর্স--- মৃত্যুর অপর নাম

১৭ ই জুলাই, ২০১৭ সকাল ৯:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লাল বেনারসি , গা- ভরতি গয়না পরে একটা মেয়ে যখন কনে সেজে বসে, তার দু' চোখে থাকে কত স্বপ্ন, আসা , আকাঙ্খা । একটি পরিবারের স্বপ্ন , প্রিয়তম জীবন সঙ্গীর স্বপ্ন, সন্তান -সংসার আর নতুন এক পরিবারের সদস্য হবার আকাঙ্খা । মিস থেকে মিসেস হবার যে পরিবর্তন, বাবার নামের জায়গায় স্বামীর নাম লেখবার নিয়ম--- নারী জীবনের এক অন্যরকম মুহূর্ত ।
প্রতিটা মেয়েই এ স্বপ্ন দেখে সেই পুতুলখেলার বয়স থেকে। একটা বয়সের পর মেয়েদের বাবা মা বা অভিভাবক থাকলেও 'স্বামী' নামক অভিভাবকটির খুব প্রয়োজন হয়ে দাঁড়ায় --- সেটা সামাজিক, পারিবারিক , ধর্মীয় বা প্রাকৃতিক -- যে কোন কারণেই হোক না কেন । পাশাপাশি একজন পুরুষের জীবনেও স্ত্রী নামক সঙ্গিনীর প্রয়োজন হয়-- বংশধারা , সমাজ এবং প্রাকৃতিক কারণেই ।
কিন্তু এই সুন্দর সম্পর্কটি যখন নষ্ট হয়ে যায়, তখন ডিভোর্স নামক শব্দটির জন্ম হয় । আর এই ডিভোর্স যদি স্বামী বা স্ত্রী --- যে কোন এক পক্ষের প্রয়োজনে হয়, তবে অপর পক্ষের জীবনের অপমৃত্যুই হয় বলা চলে ।

যেহেতু , সারা বিশ্বেই নারীরা নির্যাতিত ও অবহেলিত , তাই নারীদের দিকটাই আগে তুলে ধরা যাক । বিশেষত আমাদের দেশে ধর্ম, বর্ণ বা সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে , প্রতিটা মেয়ে বা মেয়ের পরিবারই বিশ্বাস করে , বিয়ে জীবনে একবারই হয় এবং স্বামীই বিয়ের পর মেয়েদের সবচেয়ে বড় অভিভাবক--- তা সে স্বামী বেকার হোক, বা বিশাল অর্থশালীই হোক না কেন । কিন্তু , কিছু কিছু প্রতারক পুরুষ বা তাদের পরিবার বিয়ে শব্দটার মূল্যই দিতে জানে না । বিবাহিত স্ত্রীর পরিচয় গোপন রেখে পরকীয়া করা, অনৈতিক জীবন যাপন করা, স্ত্রীকে মারধর ও যৌতূকের জন্য নির্যাতন , শ্বশুর শাশুড়িকে অসম্মান করা এবং অনেক ক্ষেত্রে নিজের সন্তানের দায়ভারও গ্রহণ না করা । পাশাপাশি কিছু নৈতিকতাহীন ছেলের পরিবার ছেলের সকল লাম্পট্য ও নির্যাতনকে উৎসাহিত করে উল্টো যৌতূকের দাবি করে বসে । এবং এসব কিছুতেও ক্ষান্ত না হয়ে শেষ পর্যন্ত মেয়েটাকে ডিভোর্স দেয় বা দিতে বাধ্য করে । একটা মেয়ে কি এতই সস্তা, তার মান সম্মান, তার পরিবারের সম্মানের কথা একটা বারও ভাবে না । আর নির্যাতন বা যৌতূকের জন্য শাস্তির বিধান আছে, কিন্তু তা দিয়ে কি আর সংসার থাকে ?
সেই চরিত্রহীন স্বামী হয়তও ডিভোর্সের পরের দিনেই আরেকটা বিয়ে করবে , কিন্তু ঐ ডিভোর্সি মেয়েটার কি হবে, সে কি তার কুমারিত্ব আর ফিরে পাবে ? একটা ডিভোর্সি ছেলের বিয়ের অভাব না হলেও এ সমাজে ডিভোর্সি মেয়ে বিয়ে দেয়া নিতান্তই কঠিন । নিজের সব কষ্ট, জ্বালা, অপমান, লাঞ্চনা নিয়ে সে কি করবে , কোথায় যাবে? হয়ত দু একটা সন্তানও আছে তার? অর্থনৈতিকভাবে সে হয়তও নির্ভরশীলও না কারো উপর , কিন্তু তাতে কি? তার প্রতারক প্রাক্তন স্বামীর সুখের সংসার থাকবে, আর সে সমস্ত কষ্ট , যন্ত্রণা বুকে নিয়ে একা একা জীবন পাড়ি করবে--- যে মেয়ের সংসার ভাঙে সেই জানে, নিজের হাতে গোছানো সংসারটা ছাড়তে কতটা কষ্ট হয়। হয়তও যে মেয়েটা খুব রান্না করতে ভালোবাসত , স্বামী - শ্বশুর বাড়ির আত্মীয়দের জন্য নতুন নতুন রেসিপি বানাত, সে আর কোনদিন পারবে না সেই রান্না করতে ।

বিয়ে তো আর প্রেম নয়, যে ভাংলাম , আবার করলাম। এই ধরনের পুরুষ মানুষগুলোর কি এতো টুকু বোধ নেই ? নিজের স্ত্রীকে ডিভোর্স দেবার জন্য সতী -সাধ্বী মেয়েটার চরিত্র বা শরীর নিয়েও লোক সম্মুখে কুৎসা রটাতে তাদের দ্বিধা হয়না । এমনকি তাকে মানসিকভাবে অসুস্থ বলতেও দ্বিধা হয়না । একের পর এক নারীসঙ্গে তারা কি সুখ পায়, সেটা তারা আর বিধাতাই জানে ।



এবার দ্বিতীয় ঘটনা , অনেক দায়িত্ববান পুরুষও আছে, যারা স্ত্রী ও স্ত্রীর পরিবারের জন্য উদয়াস্ত পরিশ্রম করতেও দ্বিধা করে না। সবটুকু অর্থ স্ত্রীর সুখের জন্য ব্যয় করে, স্ত্রীর সামান্য হাসিমুখ বা ভালো ব্যবহার পাবার জন্য কিই না করতে পারে তারা? অথচ দেখা যায় সেই প্রিয়তমা স্ত্রী স্বামীর অলক্ষ্যে আরেক চরিত্রহীন পুরুষের সাথে পরকিয়ায় লিপ্ত, এবং এক সময় তারা পরকিয়ার টানে সেই অভাগা স্বামীকে তালাক দিতেও দ্বিধা করে না ? ভালবাসার এই মূল্য পায় সেই অভাগা স্বামীটা । তার মান সম্মান, মর্যাদা , অর্থ , সংসার সব ভেঙে চুরমার হয়ে যায় ।কিসের আশায় এসব মহিলা এরকম স্বামীর সংসার ভাঙে, আবার আরেকটা মেয়েরও সংসার ভাঙে, সেটা হয়ত তারা নিজেরাও জানে না ।

পরকিয়াকে কি প্রেম বলে্‌ , না এটা একটা অপরাধ? তবে যাই হোক, ডিভোর্সের ফলে যে পক্ষ ডিভোর্স চায় না , সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত তারাই হয় । কিন্তু তাতে কিছুই করার থাকে না , শুধু স্রষ্টার কাছে বিচার চাওয়া ছাড়া ? বিধির বিধান বলে কিছু তো আছে । হয়তও যে পুরুষ বা নারী এমন ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করেছে, তাকেও একসময় এই কষ্ট ভোগ করতে হবে, কিন্তু অন্য কারো কাছ থেকে , অন্য কোন পরিস্থিতে ।

সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুলাই, ২০১৭ বিকাল ৩:৪৮
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সম্ভবত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবেই তারেক রহমান ভারতে যাচ্ছেন....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৭

সম্ভবত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবেই তারেক রহমান ভারতে যাচ্ছেন, যদিও এখন পর্যন্ত সফরটি চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশের সম্মতি আদায়- এক্ষেত্রে বাংলাদেশের 'কচিকাঁচা কুটনৈতিকদের' হারিয়ে ভারতীয় 'প্রবীণ কুটনৈতিকরা' জয়ী হয়েছে।

শেখ হাসিনার আমলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর কারা মিষ্টি বিতরণ করেছিল?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:১৬


যদি কোনোদিন টাইম ট্রাভেল মেশিন আবিষ্কার হয়, পঁচাত্তরের ঘটনা নিজের চোখে দেখার চেষ্টা করতাম। সে সময় কিছু মানুষ মিষ্টি বিতরণ করেছিল বলে শোনা যায় । আমি তাদের কাছ থেকে মিষ্টি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:০২



আজ জাতীয় শোক দিবসের।
জাতির পিতাকে আজকের দিনে স্বপরিবারে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছিলো। আজ শেখ মুজিবের ৩২ নম্বরের ভাঙ্গা বাড়িতে একজন গিয়েছেন শ্রদ্ধা জানাতে। তার হাতে ফুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

কুরআন থেকে মাদ্রাসার ছাত্রের বিস্ময়কর বিদ্যুৎ আবিস্কার :-ls

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫২

চারিদিকে বিদ্যুতের জন্য ত্রাহি ত্রাহি অবস্থার মধ্যে মাদ্রাসার এই ছাত্রটি কুরআন গবেষণা করে আমাদের জন্য ফ্রি বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছেন। বিজ্ঞান পড়েননি, পড়েছেন কুরআন-হাদিস! সেই মাদ্রাসাছাত্রই বানালেন মাধ্যাকর্ষণ দিয়ে বিদ্যুতের যন্ত্র!

অবেশেষে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন এক মরীচিকা

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:২৬


ফেসবুক এ কতজনই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায় সবার সাথে কথা হয় না। তানিম ছেলেটি কবে থেকে ফেসবুক এ ছিল মনে নেই। একসময় সে যোগাযোগ করল আমার লেখা, পড়ার আগ্রহ দেখালো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×