আজকাল আর সাজতে ভালো লাগে না রমিতার, নতুন নতুন বই পড়ারও ইচ্ছে জাগে না, সময় কোথায় তার? সারাদিন রান্না-বান্না, সংসার, কলেজ করে আর কিছু করবার সময়টাই বা থাকে কই ? তাও এটুকু সান্ত্বনা -- ঘর আর বর তো আছে, কত সাধের সাধনায় মিলেছে, কালো মেয়ের বর পাওয়া কই চাট্টিখানি কথা? ... ... ... সবই ঠিক ছিল, কিন্তু কোথায় যেন তাল কেটে গেছে, স্বামী থেকেও যেন নেই । না আছে লোকের কাছে বলার মত পরিচয়, না আছে উপহার- অভিলাষ । সবটাই হল না হয়, বরটা যদি একটু ভালবাসত , তাই তো হত , সেটুকুও জুটল না। মারধোরটা জুটেছে কিন্তু কমবেশি যাই হোক । হয়তও আরেকটু ফরসা হলে সবই জুটত । কি আর করা !!! ... ... ... মেনে নেয়া , মানিয়ে চলা ।
আয়নায় মুখ দেখতে গেলেই ভীষণ রাগ হয়, অপমান আর লজ্জ্বা । পৃথিবীতে তার চেয়ে অসুন্দর কি কেউ নেই? এতটা অপমানিত হওয়াটাও কি তার ভাগ্যে ছিল ? খুব বেশি অবিচারটাই না হয়েছে তার প্রতি? রমিতা এখন আর রান্না করে না, ততটুকুই করে যতটুকু বেঁচে থাকার জন্যে দরকার । কেউ বিশ্বাস করুক আর নাই করুক, রমিতা আর আজ সাজগোজ করে না , কে দেখবে তাকে ? দেখার যে ছিল , সেতো কবেই ছেড়ে গেছে নতুন রূপের আশায় ... । ঘরটা এখন অনেক সাজানো , কিন্তু আসল মানুষটাই যে নাই । ভাঙা আয়নায় মুখ দেখতে থাকে রমিতা, ভাঙা সংসারে বসে থেকে ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


