somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিহা

২৫ শে এপ্রিল, ২০১৪ দুপুর ১:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

--হিন্দু বিয়াত যাইবি ?
... যামু যামু। সুবিধা কি ?
--বিয়ার সোমে হিন্দু বেডি গো মাথা ঠিক থাহেনা। সবই সম্ভাব। বুঝলি কিছু ? বলে সপন দে বিশ্রী ভাবে চোখ টিপল।
আমি তাকে জড়িয়ে ধরলাম। বয়স আমার বাইশ। কাউকে বলতে পারছিনা কোন মেয়েকে ছুইনি। ইদানিং তো পুরাই মান সম্মানের ম্যাটারে পরিনত হয়েছে ব্যাপারটা। কথাবার্তা ফাইনাল হল। সোমবার সকাল আটটায় আমরা কুমিল্লা থেকে যাত্রা শুরু করবো। যাবো লাকসাম সাহা বাড়ি। সেখান থেকে বরযাত্রী সহ মৌলভীবাজারের শেরপুর। লাকসাম থেকে জাস্ট নয়টায় স্টার্ট। আমরা মিনিট পাচেক আগেই পৌঁছে গেলাম। স্বপন বলল বড় ভাবির বাপের দিকের আত্মীয়, এইজন্য ভাবি খুব গরম গরম ভাব মারতাছে। আমি বললাম, যেহেতু সব ঠিকঠাক, মাতারিরে ফালাইয়া যা। মাগি মনে হয় প্যাচ লাগানের তালে আছে। সমর্থনের আশায় পাশে এসে এইমাত্র দাঁড়ানো মহিলার দিকে তাকালাম। স্বপন ছোঁ মেরে আমাকে তুলে নিয়ে নৌকায় বসিয়ে ডাকাতিয়া নদীর ওপারে চলে গেল। ( ওদের বাড়ি ডাকাতিয়ার পাড়ে )। কিছু বুঝে উঠার আগেই সে জানালো- এটাই তাঁর বড় ভাবি। কিছুক্ষন পর বুলু নামের এক ছেলে এসে খবর দিল- এই বিজাতের বাচ্চায় যদি সাথে যায় তবে বড় ভাবি বিষ খাবে। আমি বললাম- স্বপন, আমারে একটা বাসে উঠইয়া দে। কুমিল্লা ফিরে যাই।
--তোরে বিয়াত যাইতে না দিলে এই বিয়াতে আমি পেছাব করি বলে স্বপন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পেছাব শুরু করলো। এই প্রথম আমি হিন্দুদের ই দেখলাম। খানিকটা ভয়ও পেয়ে গেলাম। কি দেখতে এসে কি দেখি।
দুই পক্ষের দীর্ঘ আলোচনার পর ঠিক হল আমরা সবাই যাচ্ছি। যাত্রা শুরু দুপুর দুইটায়। সকাল থেকে চা আর সিগ্রেট খেয়ে বেচে আছি। যারা বিশ বছর আগে ঐ পথে ভ্রমন করেননি তাঁদের কোন ধারনা হবে কিনা আমি জানিনা রাস্তার অবস্থা আগে কেমন ছিল। তেলিয়াপাড়ায় মাগরেবের আজান হল। এক সময় স্বপনরে জিগাইলাম আর কতক্ষন? সে বলল, উই আর ক্লোজার টু দেয়ার গেট। যাক হয়ত আর ত্রিশ মিনিটের মধ্যেই পৌঁছে যাব। রাত দশটার পর শুরু হল তীব্র ঝড় বৃষ্টি। অবস্থা এমনই যে কিছুই দেখা যাচ্ছেনা। অবশেষে এগারোটার কিছু পরে কুশিয়ারার এক ঘাঁটে নামলাম। নাউ হোয়াট মি স্বপন?
ওই তো আমরা অপর পাড়ে নামব, সপনের সংক্ষিপ্ত উত্তর। আমি ভেবে পেলাম না এই ঝড় বৃষ্টি তে আমরা কুশিয়ারা ক্রস করব কিভাবে? প্রচণ্ড অন্ধকার আর এমন স্রোত নদী পারের কথা চিন্তাই করা যায়না। মিনিট পাচেক পরে দুটি ছোট ছোট নৌকা এলো আমাদের নিতে। আমরা গাদাগাদি করে প্রতিটিতে জনা দশ করে দাঁড়ালাম। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই নৌকা চলতে শুরু করলো। নদী পার হবার বদলে স্রোত ধরে সোজা সামনের দিকে। আমরা মনে হয় কোন একটা বিলের মাঝে ঢুকে পড়লাম। চারিদিকে সাপ ব্যাঙের চিৎকারে কান ঝালাপালা। একসময় সবাইকে নামানোর পর বলা হল আমি আর স্বপন যেন আবার ফেরত গিয়ে বাকিদের নিয়ে আসি। আমি অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম, বড় যাত্রীদের এগিয়ে নেয়ার জন্য বিয়ে বাড়ির কেউ এলো না।
বাড়িতে ঢুকে দেখি সব সুনসান। মণ্ডপের সামান্য কিছু চিহ্ন দেখা যায়। ঝড় বৃষ্টিতে ধুয়ে মুছে সব সাফ। রাত এগারোটায় বিয়ের লগ্ন স্থির করা ছিল। সেটা যেহেতু রাখা যায়নি তাই পণ্ডিত বলল একটায় নাকি আরেকটা লগ্ন হবে। সে সময় অতি অবশ্যই বিয়ে হতে হবে। রাত একটায় হল না। এদিকে ঝড় বৃষ্টির সাথে যুদ্ধ করে করে সবাই হয়রান। আমাদের কোন খবর তারা পায়নি। ( তখন মোবাইল ছিল না। ) রাত তিনটায় চাইলে আরেকটা লগ্ন হতে পাড়ে এমন ইঙ্গিত দিয়ে পুরুত বিদেয় নিল। আমরা কাক ভেজা হয়ে পৌঁছলাম তিনটারও পরে। ততক্ষনে বিয়ে প্রায় ভেঙ্গে গেছে ভেবে নিয়ে যে যার যার মত চলে যাচ্ছে। মেয়ের বাড়ি চরম অপমানিত। আমরা বৃষ্টি মাথায় নিয়েই দাঁড়িয়ে আছি। কেউ না আমাদের বসতে বলছে না কোন কিছু হতে চলছে। উঠানের বাইরে দুতিন জন এতক্ষন হাট নেড়ে নেড়ে কথা বলছিল। এখন তাদেরকেও আর দেখা যাচ্ছেনা। হঠাৎই হই হই ধর ধর বলে কিছু লোক দৌড়ে আমাদের দিকে এগিয়ে আসতে লাগল। স্বপন বলল, দোস্ত কিছু মনে করিসনা। ভেজাল হয়ে গেছে। আমরা এখন পালাতেও পারব না। আটকা পরে গেছি রে... আমাদের সবাইকে এরা মেরে ফেলবে। বিয়ে ভেঙ্গে গেছে। দু একজনকে দেখলাম মাথা থেকে গলগলিয়ে রক্ত পরছে। যে যেদিকে পারছে পালানোর পথ খুজছে। আমি ঠায় দাঁড়িয়ে রইলাম।
২৫।০৪।১৪ইং
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×