somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের ডিসি ফরিদ -২

০১ লা মে, ২০১৪ দুপুর ২:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ডিসি ফরিদের মেজাজ এখন তুঙ্গে। গত দশ বছরে একদিনও হাসি মুখে বের হতে পারেনি ঘর থেকে। এমনিতেই সে দেরী করে ঘুমাতে যায়। এই সংসারে ভোর পাঁচটা থেকেই শুরু হয় চুলাচুলি। শিউলি বিছানা ছাড়ার মিনিট খানেক পরেই বুয়ার বিলাপ শুরু হয়। এই বুড়ির মাথায় এখন আর তেমন চুল নাই। শিউলি সব ছিঁড়া ফেলছে। অন্যমনস্ক ভঙ্গিতে নিজের মাথায়ও হাত বুলাল এক কালের আবাল ফরিদ। এখানেও চুলের চিহ্ন নাই। আফসোস। এই বুয়া আসার পরে তাঁর মাথায় আর কিছু ছিলনা যে ছিঁড়বে। মান সম্মানের মালিক আল্লাহ। যাক ওয় কিছু দেখে নাই। ফরিদ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ব্লেডটা লুঙ্গিতে মুছে নিল। দাড়ি কামানোর এত ভাল ভাল কিট থাকতেও সে একটা খালি ব্লেড আর আধা মগ পানি নিয়ে বসে। আজকে হাত আয়নাটাও খুঁজে পায়নি। এই বাসায় আয়না চিরুনি খোজা বৃথা। ফরিদ একবার অতিস্ট হয়ে ভৈরবে লোক পাঠিয়ে খোঁজ নিয়ে জেনেছে শিউলির আম্মাও বুয়ার সাথে মারামারি করত। তাঁর নানী একবার এক বুয়াকে মারতে মারতে নেংটা কইরা ফালাইছিল। শিউলির খুব গর্ব সে তাঁর মায়ের কোন বদ অভ্যাস পায়নি।
ফরিদ মাজারে হাত ছোঁয়াইয়া শপথ করছে আখিরাতে শিউলি হাজার বার আব্বা ডাকলেও নো এক্সকিউজ। এই কয়দিন আগেও মেয়েটা কথায় কথায় নাক মুছত। আর সে-ই কিনা দুই বাচ্চা জন্ম দিতে গিয়া দিকে -পাশে বাড়ছে। আমি অর্ধেক হইয়া গেছি সাইজে- ভাবে ফরিদ। আফসোস। অফিসের এবারের মেয়েটা বেশ ভালো, চটপটে। এই বিষয়ে শিউলি অন্ধকারে। যতই হালুম হালুম কর না কেন যাইবা চেডের দক্ষিনে- ভাবে ফরিদ। দাড়ি কামানোর শেষ পর্যায়ে এসে সামান্য তাড়া অনুভব করলো । আজ আবার বিষুদবার। যোহরের পরেই সবাই অফিস ছাড়ার জন্য পাগল হয়ে যায়। সে নিজেই সবচে আগে বেরোয় অবশ্য পরে ফিরে। পলির বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম। নানান ঘাটের জল খাইয়া এখন ডিসি ফরিদের পিএস কাম ম্যানেজার। কর্মচারী মোটে চারজন। একেকজন বিভিন্ন পদে আসীন। কম্পানি বড় হলে আরও বড় অফিস নেবে। আপাতত দুই রুমেই কাজ সারতে হয়। ফরিদ নিশ্চিত এই মেয়েটার ভিতরে কিছু একটা আছে। সে সামান্য একটু নারকেল তেল আর ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি একসাথে গুলে একটা সাদা ফেনা তৈরি করে। তারপরে টানা এক ঘণ্টা মাথায় এই ফেনার ম্যাসাজ দেয়। এর ফাঁকে ফাঁকে লম্বা নখ দিয়ে খুটে খুটে তালুর মরা চামড়া বের করে আনে। ফরিদ বহু চেষ্টা করেও কোনদিন চোখ খোলা রাখতে পারে নাই। দুনিয়ার কেউ পারবে বলেও সে বিশ্বাস করেনা। অথচ শিউলি ? গত শীতে তাঁর মায়ের সামনে কাচের বড় জগ দিয়া তাঁর মাথায় বাড়ি মারল। প্রথমে ফরিদ মনে করছিল কাগজের ভারী কার্টন। পরে দেখে ব্রিটিশ আমলের ভারী জগটা ভেঙ্গে চৌচির। আহ কি সাধের দিন ছিল। তিন ইঞ্চি ছয় ইঞ্চি পোলা দুইটাও হইছে মার মত। সারাক্ষন রাগে ঘোঁত ঘোঁত করে। বড়টা সারাদিন জিনিসপত্র ভাঙ্গে আর ছোটটায় সে গুলো জানালা দিয়া নিচে ফালায়। বিরাট বজ্জাত।
দ্রুত গোসল সেরে কাপড় বদলে টেবিলে বসল ফরিদ। শিউলি আজকেও রুটির সাথে হালুয়া করছে। এই হাউয়া খাইয়া খাইয়া সে বুড়া হইয়া গেল কিন্তু কোন পরিবর্তন হইল না। চায়ে চিনি মেশানোর সময়ও শিউলি পিতলের মাথা ভাঙ্গা বড় চামচটা যে কেন হাঁতে রাখে এই বিষয়টাও তাঁর কাছে পরিস্কার না।
শিউলিঃ ইবলিশটা আসছিল। তোমার আদরের ছোট ভাই। ( দিলাম খোঁচা। হালুয়া দেখলেই তোর বিষ উঠে না?)
ফরিদঃ কিছু বলছে? ( ও বুঝছি। হালুয়া খাবনা বুঝতে পেরে মাগি পাঙ্গা লাগানোর তালে আছে। হাঁতে বড় চামচটা এইজন্যে।)
শিউলিঃ না। ( তোর তো দেহি বিষ নামতাছে না। দাড়া বীণা বাজাইয়া বিষ নামাইতেছি। তুই যতবড় সাপ আমি তত বড় ওঝা)
ফরিদঃ শিউলি, দুইটা রুটি আর বেশি করে হালুয়া বক্সে দিয়ে দিও। অনেক লেইট হইয়া গেছে। ( রেল গেইটেই ফালাইয়া দিমু। ভালই হইছে পলির সাথে খাওয়া যাইব।)
শিউলিঃ ওকে ওকে। ( এইগুলা রেল গেইটে ফালাইয়া তুই তোর নতুন মাতারির তেল মাখবি, না? তোর লেজে কত বিষ আর গায়ে কত তেল আইজ টের পাবি। )
কোন ঝুট ঝামেলা বা সন্দেহের উদ্রেক না করেই ঘর থেকে বের হওয়া গেছে, খোদার দরবারে ফরিদের লাখো শুকরিয়া। ‘আবালটা কল্পনাও করতে পারে নাই আমি তাঁর ভাইয়ের সাথে কি করছি। সারা দিনের রিপোর্টের উপর রাতের ভবিষ্যৎ- ভাবল ফরিদা। আজ এই হিজড়ার একদিন কি আমার একদিন। যা ঐ মাতারির মধু খাইয়া আয়। এইডা তোর আখিরি খাওয়া’। ফরিদা দুপুরের কুটা বাছা দেখানোর জন্য বুয়াকে ডাকতে লাগলো।
০১.০৫.২০১৪ইং
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×