somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঈশ্বর এবং পলাশ মাহমুদ!

১১ ই জুলাই, ২০১৬ দুপুর ২:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[ব্লগের প্রিয় রম্য লেখক পলাশ মাহমুদ ভাইকে(যার লেখার স্টাইল হুবহু হুমায়ুন আহমেদের মতন) পচিয়ে অনেকদিন আগে এ লেখাটা লিখেছিলাম]

জাহান্নামবাসীরা যখন ঈশ্বরের প্রেরিত নোটিসটা নোটিসবোর্ডে দেখলো সবার মধ্যে একটা উত্তেজনা কাজ করা শুরু করলো। নোটিসটি ছিলো এরকম,
"আমার অপ্রিয় জাহান্নামবাসীরা। আপনাদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, জান্নাতের কতিপয় সদস্য রুল ব্রেক করায় তাদের ডিমোশন হয়েছে। কাজেই জান্নাতে কিছু সিট খালি হয়েছে। সেইসব সিটে জাহান্নামবাসীদের থেকে কিছু সদস্য নেয়া হবে।যেহেতু আমি সমধিকারে বিশ্বাসী, সেহেতু এইসব সদস্য নেয়া হবে একটি প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। খালি সিটের ডিমোশনকৃত সদস্যরা দুনিয়াতে যেভাবে বসবাস করতো, বিজয়ী প্রতিযোগীকে সেইসব সুবিধা দেয়া হবে। তবে তারা জান্নাতের রেগুলার সার্ভিসগুলো পাবেন না। তবে জাহান্নামের চেয়ে দুনিয়ার সেইসব সুবিধাগুলো নিশ্চয় অনেক বেশি আকর্ষনীয় হবে। অতএব দেরী না করে, প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণে রেজিস্ট্রেশন করুন।"
জাহান্নামের গরমে হাসফাস করতে করতে পলাশ মাহমুদ দৌড় দিলো নোটিসের সাথে ডিমোশনকৃত সদস্যদের তালিকা দেখতে। মনে মনে ভাবলো, 'আল্লাহ যেন বিলগেটস বা বার্লুসকোনি বা আজিজ মোহাম্মদ ভাই টাইপ কেউ থাকে লিস্টে'। লিস্ট দেখে পলাশ মাহমুদের খুশি আর ধরে না। উপরের কেউ লিস্টে এদের কেউ না থাকলেও আছে হুমায়ুন আহমেদ। সে নাকি নিজের জন্য অ্যাসাইন করা হুরপরী রেখে অন্য আরেকজনের হুরপরীর সাথে টাঙ্কিবাজি করতে গিয়ে কট খেয়েছে। 'যা খুশি হোক, কট খাইছে, ভালো হইছে। হুমায়ুন আহমেদের দুনিয়ার সুখ পামু, নুহাশ পল্লী পামু, দ্বীপের মইধ্যে বাড়ি পামু, ফ্যালেট পামু, নিজের হাটুর সমান বয়সী বউ পামু। হি হি হি। আর কি লাগে'? মনে মনে ভাবলো পলাশ।

পলাশ দেখলো এইসব সুবিধা পাওয়ার জন্য একটা রচনা প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয়েছে। যার রচনা হুমায়ুন আহমেদের মতন হবে, সেই হবে বিজয়ী। এই প্রতিযোগীতা হবে দেখে পলাশ মাহমুদ কিছুক্ষণ আপনমনে হাসলো।মনে মনে ভাবলো, 'কেডা আবি আয়। আমি হাত চুলকাইলে যে লেখা বাইর হইবো, কোন হালা দশ কলম ভাইঙ্গাও হুমায়ুন টাইপের লেখার ধারে-কাছেও যাইবার পারবো না big_smile'
এরপর আর কি? পলাশ মাহমুদ প্রতিযোগীতায় ফার্স্ট হলো। কথিত আছে যে, সেই প্রতিযোগীতার স্বয়ং হুমায়ুন আহমেদেও অংশ নিয়েছিলো। কিন্তু সে তার নিজের মত লিখতে পারে নাই। কাজেই পলাশ মাহমুদ সবার সামনে হাসতে হাসতে, হাটুর সমান বয়সী কচিকাচা বউয়ের হাত ধরে নুহাশ পল্লীতে চলে গেলো।

প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়ার কয়েকদিন পরে ঈশ্বরের অফিসে পলাশ মাহমুদের আগমন। উদ্দেশ্য ঈশ্বরের সাথে সাক্ষাত। কিন্ত বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা ফেরেশতাটা কিছুতেই তাকে ঢুকতে দিচ্ছে না।
- আরে, আমনে একটু বোঝার চেষ্টা করেন। আমার খুবই জরুরী দরকার ওনার সাথে।
- (পাথুরে মুখ করে) সরি স্যার। আপনি আগে অ্যাপোয়েনমেন্ট করে আসেন। উনি অ্যাপোয়েনমেন্ট ছাড়া কারো সাথে দেখা করেন না।
- (আগুন ঝরানো চোখে তাকিয়ে) গুল্লি মারি ব্যাটা তোর অ্যাপোয়েনমেন্টের। আখখিয়োসে মারা গুলির কথা বাদই দিলাম, আমার অবস্থা বন্দুক দিয়া করা গুলি খাওয়ার চাইতেও খারাপ। টেরাই টু আন্ডারস্ট্যান্ড। একটু বোঝার চেষ্টা কর বাপজ!!
বাইরের চলমান বাগবিতন্ডা শুনে ঈশ্বর বেরিয়ে এলেন।
- কি হয়েছে ফেরেশতা। এত হট্টগোল কিসের?
- এই মানুষটা কোন অ্যাপোয়েনমেন্ট ছাড়াই ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করছে। কোন কথাই বোঝার চেষ্টা করছেনা।
পিছন থেকে পলাশ চি চি করে বলে উঠলো,
- স্যার, আমি মাত্র দুই মিনিট নিবো স্যার। বেশিক্ষণ না। মাত্র দুই মিনিট। খুব জরুরী স্যার। (গলায় আর্তনাদ)
- আচ্ছা ঠিক আছে বতস। মাত্র দুই মিনিট কিন্তু। এর বেশি না। ফেরেশতা, ওকে ভিতরে আসতে দাও।
ভিতরে আসার পরে।
- কি সমস্যা তোমার পলাশ মাহমুদ? বলো।
- স্যার, সমস্যা একটা না,অনেকগুলো।
- তুমি না সেলিব্রেটিদের পৃথিবীর সুবিধা প্রতিযোগীতার বিজয়ী?
- জ্বী স্যার।
- তাহলে সমস্যাতো থাকার কথা না।
- না স্যার। সমস্যা আছে।
- তোমারতো বাড়ি আছে, গাড়ি আছে, নুহাশ পল্লী আছে, কচিকাচা বৌ আছে। সমস্যাটা কোথায়?
- এইটাইতো সমস্যা। নুহাশ পল্লী আছে, গাড়ি আছে। কিন্তু বর্ষাকালে নুহাশ পল্লীর রাস্তার অবস্থা স্যার কাদায় অতি জঘন্য হয়ে যায়।গাড়ির চাকা আটকায় যায়। তখন গাড়ি থেকে নেমে কাদার মধ্যে গাড়ি ঠেলতে হয়।
- সেইটা কি আমার দোষ। তুমিইতো হুমায়ুন আহমেদের মত জীবন চেয়েছিলে, তাই না? প্রতিযোগীতায়ও বিজয়ী হয়েছো। কাজেই তার যা দুনিয়ায় ছিলো, তাই তুমি এখন এখানে পাবে।
- জ্বী স্যার। আসলে আমি জানতাম না যে, হুমায়ুন সাহেবের কোন হেলিকপ্টার নাই। জানলে অন্যকোন সেলিব্রেটির জন্য ট্রাই মারতাম sad
- আচ্ছা। আর কোন সমস্যা?
- স্যার আসল সমস্যাতো বলাই হয় নাই। সমস্যা আছে আমার কচিকাচা বৌরে নিয়াও।
- ওরে নিয়ে আবার কি সমস্যা?
- সে এক বিরাট ইতিহাস স্যার।
- সংক্ষেপে বলো।
- তখন রাত ২.০০ টার মত বাজে। লেখালিখি শেষ করে খালি বিছানায় শুয়েছি।হঠাত আমার কচিকাচা বৌ ঘুম থেকে উঠে আমাকে বলে, 'দেখসো পলায়ুন,বাইরে কি সৌন্দর্য্য বৃষ্টি। চলো বাইরে যাই। আমি বৃষ্টির মধ্যে তোমার হাত ধরে, রুপভানে নাচে কোমর দুলাইয়া,গীতটা করবো আর সাথে সাথে নৃত্যও করবো '। বলেন দেখি স্যার কি যন্ত্রণা!
- নাচ পারে, গান পারে। কত গুণী নারী তোমার স্ত্রী। তোমারতো খুশি হওয়ার কথা। বাই দ্যা ওয়া, তোমার নামতো পলাশ? পলায়ুনটা কে?
- সেইটাতো আরেক যন্ত্রণা। কোন এক অজানা কারণে সে আমাকে পলায়ুন নামে ডাকে। আর, আমার কোন খুশি নাই স্যার। তার সাথে বৃষ্টির মধ্যে মাঝরাতে নাচ-গান করে একেবারে সেমি-নিউমোনিয়া হয়ে গিয়েছে স্যার। বিশ্বাস না করলে কপালে হাত দিয়ে দেখেন।(মাথাটা একটু সামনে এগিয়ে দেয়) গা এখনো একটু গরম। গলাতেও একটু ব্যথা ব্যথা ভাব।
- তা আমি এখন কি করবো?
- স্যার, আমি স্যার আমার পুরস্কারের ট্রফি চাই না। ফেরত দিতে চাই। তাছাড়া আপনার নামেও আমার একটা ছোট কপ্লেইন আছে। সাহস দিলে বলবো।
- বলো।
- আপনি স্যার বলছিলেন যে তাদের দুনিয়ার সুখটা আমরা পুরস্কার হিসেবে পাবো। কিন্তু এখন দেখি খালি পেইন আর পেইন!
- (স্মিত হেসে)ভুল বললে বতস। আমি বলেছিলাম, তাদের দুনিয়ার সুবিধা দেয়া হবে। সুখ বলি নাই। তুমি নোটিসটা আরেকবার ভালোমত পড়ে দেখো । আর অন্যের সুবিধা ব্যবহার করে সুখী হওয়া যায়না। নিজের সুখ নিজের স্বকীয়তা দিয়েই জয় করে নিতে হয়।
(সমাপ্ত)
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুলাই, ২০১৬ দুপুর ২:৩৩
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মক্কা থেকে বদর: মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ভূরাজনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৫


মুসলিম বিশ্বে ঐক্যের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। অন্তত চুক্তিগুলোর নাম শুনলে তেমনটাই মনে হয়। মক্কা ও বদর। মুসলিম ইতিহাসের দুটি পরিচিত নাম। নাম শুনে মনে হতে পারে, বহুদিনের বিভেদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×