somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যত কাণ্ড কাঠমান্ডুতে - ১| হরতালের একাল সেকাল

১৮ ই জুন, ২০১০ রাত ১০:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নেপালের সাম্প্রিতক ৬ দিনের হরতাল ও আমাদের শিক্ষণীয় দিক
৯০ এর দশকের শুরুতে নেপালে যে সর্বদলীয় জন-আন্দোলন হয়েছিল তাতে করে মানুষ ভেবেছিল যে নেপালের রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। কিন্তু তৎকালীন রাজা বীরেন্দ্র বীর বিক্রম শাহাদেব এর সপরিবারে খুন হওয়ার মধ্য দিয়ে সেই
আশার অপমৃত্যু ঘটেছিল। বীরেন্দ্রর মৃত্যুর পর জ্ঞানেন্দ্র ক্ষমতা নেন। অনেকেই সন্দেহ করেন যে বীরেন্দ্রর মৃত্যুর পেছনে জ্ঞানেন্দ্রর কলকাঠি নিশ্চয়ই ছিল। বীরেন্দ্র পার্লামেন্ট ভেংগে দিয়ে আবার নিজের একনায়কতান্ত্রিক ক্ষমতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু দেশের আপামর জনসাধারন অর্থনৈতিকভাবে যেমন দরিদ্র তেমনি তাদের সামনে আশার কোন পথও খোলা ছিলনা। এমত পরিস্থিতিতে উত্থান ঘটে মাওবাদীদের। মাওবাদী নেতা ‘প্রচণ্ড’ দুর্গম অঞ্চলের গরীব নিষ্পেষিত মানুষের সমর্থনের উপর ভর করে শক্তিশালি হয়ে ওঠে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রাজনীতির ঘেরাটোপের শেষে তারা নির্বাচিতও হয়। কিন্তু হা হতোম্মি! জনগনের স্বপ্নের মুক্তি আর মেলে না। দেড় বছরের শাসনের পর বিভিন্ন ইস্যুতে জেরবার হয়ে নিজেরাই স্বেচ্চায় ক্ষমতা থেকে সরে দাড়ায় এবং নেপালের সরকার গঠন করে ইউএমএল (ইউনাইটেড মার্কসিস্ট লেনিনিস্ট)। কিন্তু রাজনীতির ময়দানে মাওবাদীরা এখনো সবচেয়ে বড় শক্তি। অন্যদিকে নেপালি কংগ্রেস এর দিকপাল গিরিজা প্রসাদ কৈরালার মৃত্যুর পর কংগ্রেস নেতৃত্ব হারিয়ে এক লক্ষ্যহীন নৌকায় পরিনত হয়েছে।

গত কয়েক দশকের যে রাজনৈতিক দিশাহীনতা বিরাজ করছে নেপালে তার অনেক কারন আছে। বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত নেপালি জনগন, চীন ও ভারতীয় রাজনীতির দাবার বোর্ড হিসাবে নেপালকে ব্যবহার, পাহাড়ী দুর্গমতা, অর্থনৈতিক পশ্চাদপরতা ইত্যাদি। এর ফলে এক রাজনৈতিক অরাজকতা বিরাজ করে আসছে সবসময়। হরতাল, বনধ, চাকা জ্যাম এসব নিয়মিত ঘটনা হয়ে আসছিল।
সম্প্রতি গত মে মাসের এক তারিখ থেকে মাওবাদীরা অনির্দিষ্ট কালের জন্য হরতাল ঘোষণা করে। এই হরতাল টানা ৬ দিন চলে। সব কিছু ছিল স্থির। এমনকি দোকানপাট, বাইসাইকেল এসবও ছিল নিষিদ্ধ। হরতালের এজেন্ডা ছিল নেপালের সংবিধান তৈরি। গত কয়েকবছর ধরে চেষ্টা করেও নেপাল একটি সর্বসম্মত সংবিধান তৈরি করতে পারেনি। বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মোটা অংকের কন্সালটেন্সি ফি দেয়া হচ্ছে। অথচ কোন ঐকমত্য নেই। তারই প্রক্ষিতে মাওবাদীরা এই হরতাল ডাকে। কিন্তু এই ইস্যুর সাথে জনগনের খাওয়া পরার সম্পর্ক ছিলনা। কাজেই হরতালের ৪/৫ দিনের মধ্যেই জনগন বিরক্ত হতে শুরু করে। একপর্যায়ে ক্ষুদ্র মাঝারি এবং বড় ব্যবসায়ীরা রাস্তায় নেমে আসে। কোন কিছু অর্জন না করেই মাওবাদীরা ৬ষ্ঠ দিনে তাদের অনির্দিষ্টকালের অবরোধ তুলে নেয়।


এ ঘটনাটি নেপালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে খুবই গুরুত্বপুর্ণ এবং আমাদের জন্যও এতে ভাবনার খোরাক আছে। ৯০ দশকে যেমন আমাদের দেশে এবং এতদিন ধরে নেপালে হরতাল অবরোধ জাতীয় জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। কিছুদিন পর পর হরতাল হবে এটাই সবাই ধরে নিত। এবং এ-আর-এমন-কি টাইপের একটা এটিচ্যুড হরতালের প্রতি মানুষের ছিল। কিন্তু সাধারন জনগন এবং ব্যবসায়িরা যেভাবে শক্তিশালী মাওবাদীদের হরতালকে রুখে দাড়িয়েছে তাতে বোঝা যায় যে ৮০ বা ৯০ দশক আর ২০১০ সাল একই রকম নয়। এযুগে মানুষ যেমন ইনফরমেশন হাইওয়েতে বাস করে, দুনিয়ার সাথে তাদের যোগাযোগ আগের যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি। মানুষ বুঝে গেছে রাজনীতিবিদদের এসব হাঊকাউ আসলে তাদের মুক্তি দিতে অক্ষম। তাদের নিজেদের ভবিষ্যত নিজেদের পরিশ্রমেই অর্জন করতে হবে। এ ঘটনা আসলে রাজনীতিবিদদের কাছে সেরকমই একটি সিগনাল।
রাজনীতির ক্ষেত্রে ধীরে হলেও আমাদের দেশেও একটি গুনগত পরিবর্তন গত ৯০ এর দশকের পর থেকে শুরু হয়েছে। পরিপুর্ণভাবে না হলেও আমরা গণতন্ত্রের চর্চায় ফিরে এসেছি দু দশকের সামরিক বা ছদ্ম সামরিক শাসন ভেঙ্গে। এই গুনগত পরিবর্তন এবার বিএনপির হরতালেও দেখা গেছে। প্রায় দুমাস আগে হরতালের ঘোষণা একধরনের সাবধানী চরিত্রকেই ফুটিয়ে তোলে। আগের মত ইচ্ছে হল আগামীকাল হরতাল—এধরনের বিষয় যে মানুষ খাবে না তা বিএনপিও বুঝতে পেরেছে। তাই আগে থেকে প্রস্ততির একটি সময় তারা রেখেছে। এই সাবধানতা আমি রাজনীতির গুনগত পরিবর্তনই বলব। এখনও হরতাল হয়ত প্রয়োজন আছে। তবে সেটা আগের মত কথায় কথায় প্রয়োগের দিন বোধহয় শেষ।
নেপালের এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিলে আমাদের রাজনীতিকদের জন্য মংগল। তবে কথায় বলে যে, শিক্ষা গ্রহণ আর রাজনীতি সব সময় নাকি একই গতিতে চলেনা। তাই রাজনীতিতে এত উত্থান পতন আমরা দেখি।
৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের বিজয় খুব দরকার ...

লিখেছেন অপলক , ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৩৪



বিগত সরকারগুলো যে পরিমান ক্ষয়ক্ষতি করে গেছে, তা পুষিয়ে নিতে ১০টা বছর যোগ্য এবং শিক্ষিত শ্রেনীর হাতে সরকার ব্যবস্থা থাকা খুব জরুরী। গোমূর্খ চাঁদাবাজ আর নারী লিপ্সুদের ভীড়ে জামায়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন পলিটিক্স পছন্দ করি না সেটা বলি।

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:১৩

আমি পলিটিক্স এবং পলিটিশিয়ান পছন্দ পারি না। কোন দলের প্রতিই আমার আলগা মোহ কাজ করেনা। "দলকানা" "দলদাস" ইত্যাদি গুণাবলী তাই আমার খুবই চোখে লাগে।

কেন পলিটিক্স পছন্দ করি না সেটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট : ২০২৬ ইং ।

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৩:০২

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট : ২০২৬ ইং
(বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে স্হানীয় পর্যবেক্ষণ)




আমরা সবাই অনেক উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা নিয়ে আগত নির্বাচন নিয়ে উন্মুখ হয়ে আছি,
প্রতিটি মর্হুতে বিভিন্ন... ...বাকিটুকু পড়ুন

******মায়ের শ্রেষ্ঠ স্মৃতি******

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:১৫


মায়ের স্মৃতি কোনো পুরোনো আলমারির তাকে
ভাঁজ করে রাখা শাড়ির গন্ধ নয়
কোনো বিবর্ণ ছবির ফ্রেমে আটকে থাকা
নিস্তব্ধ হাসিও নয়
সে থাকে নিঃশব্দ এক অনুভবে।

অসুস্থ রাতের জ্বরজ্বালা কপালে
যখন আগুনের ঢেউ খেলে
একটি শীতল... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণ এবার কোন দলকে ভোট দিতে পারে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৬


আজ বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন। সকাল সাতটা থেকেই মানুষ ভোট দিতে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বিএনপি জোট বনাম এগারো দলীয় জোট (এনসিপি ও জামায়াত)। নির্বাচনের পরপরই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×