হাতে চিঠি লেখার যুগ প্রায় বিলুপ্ত হতে বসেছে। অনেক কাজের ক্ষেত্রেই প্রযুক্তি কেড়ে নিয়েছে কলম। কি-বোর্ড লেখার কাজটা বেশ সহজ করে দিয়েছে। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে ইন্টারনেট। ইমেইলের আদান-প্রদান এখন একেবারেই স্বাভাবিক ব্যাপার। এর মধ্যে আভিজাত্যের কিছু নেই। কিন্তু অনেকেই ইমেইল লেখার ক্ষেত্রে নিজেদের বিড়ম্বনা নিজেরাই ডেকে আনেন। সে অস্বস্তিতে যাতে কখনো পড়তে না হয়, সে জন্য ইমেইল লেখার কিছু প্রারম্ভিক আদব-কায়দা জেনে নেয়া উচিত। এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়ায়। ৫টি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম অনুসরণের পরামর্শ দেয়া হয়েছে সেখানে। প্রথমেই এখন যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি প্রচলিত, তা হচ্ছে শব্দগুলোকে লেখার সময় কেটে-ছেঁটে একেবারে সংক্ষিপ্ত আকারে প্রকাশ করা। মোবাইলে মেসেজ পাঠানো বা চ্যাট করার সময় এমনটা করা যেতেই পারে। তাতে সময়টাও বাঁচে। কিন্তু অফিসের কোন দরকারি ইমেইল লেখার সময় অবশ্যই এ ধরনের বিষয়গুলো থেকে বিরত থাকতে হবে। অন্যথায় মনে হতে পারে, কাজের ব্যাপারে আপনি ততোটা সিরিয়াস নন। তাই যেখানে প্রয়োজন, সেখানে ফরমাল হওয়াটাই বাঞ্ছনীয়। কাকে লেখা হচ্ছে, সেটাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তার পদবী জানাটাও এক্ষেত্রে জরুরি। যাচাই করে সঠিক তথ্য দেয়ার ব্যাপারে মনোযোগী হতে হবে। প্রয়োজনে ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ সম্ভাষণগুলোও উল্লেখ করতে হবে। ইমেইলের সাবজেক্ট বা বিষয়ও হতে হবে স্বচ্ছ। ভেতরে যে তথ্য থাকবে, সেটার প্রতিফলনই হবে বিষয়। মনে রাখতে হবে বিষয়ই অন্যের মনোযোগ আকর্ষণ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একজন ইমেইলে যেটা বোঝাতে চাইছেন, সেটা বোঝানোর ক্ষেত্রে যতোটা সম্ভব কম বাক্য ব্যবহার করা শ্রেয়। মূল বিষয়বস্তুটি বোঝা গেলেই হলো। অতিরিক্ত কিছু লেখাটা অবান্তর। সংক্ষিপ্ত ইমেইলে মূল বিষয়বস্তু চলে আসলে যিনি পড়ছেন, তার ধৈর্যচ্যুতি ঘটার অবকাশ থাকবে না। আর শেষ যে নিয়মটা আছে, সেটা হলো লেখা ইমেইলটাতে বানানগুলো ঠিক আছে কিনা, ব্যাকরণগত ত্রুটি আছে কিনা সেগুলো যাচাই করে নিতে হবে। ভুল লিখে পরে দুঃখপ্রকাশের চেয়ে আগে সতর্ক হওয়াটাই সমীচীন।
বিড়ম্বনা এড়াতে ইমেইল লেখার ৫টি প্রয়োজনীয় আদব
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন
ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন
শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন
কবিতাঃ পাখির জগত

টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।
টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।
বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন
মোহভঙ্গ!

পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।